ছবির ক্যাপশন:
আফজাজুল হক/তৌহিদ তুহিন: চুয়াডাঙ্গাসহ ৪ উপজেলায় ভুট্টার আবাদ দিন দিন বেড়েই চলেছে। অন্য আবাদের তুলনায় ভুট্টার আবাদ লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের অধিকাংশই ভুট্টার আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ধানের চেয়ে খরচ কম হওয়ায় এবং চাষীরা বেশি লাভের আশায় ভুট্রা চাষ করছে। সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্রাম বাংলার মাঠের পর মাঠ জুড়ে ভুট্রাক্ষেত। দামুড়হুদা ভগিরথপুর গ্রামের চাষী সাহিদ আলী জানান, ভুট্রা চাষ লাভজনক ফসল। প্রতিবিঘা ভুট্রা আবাদ করতে খরচ হয় ৮-৯ হাজার টাকা। প্রতিবিঘায় ফলন ভালো হলো ২৫-৩৫ মণ ভুট্রা হয়। আগাম উঠলে প্রতিমণ ভুট্রা ৬-৭শ’ টাকা দরে বিক্রি করা সম্ভব হয়। তাছাড়াও সারা বছরের জন্য গরুর খাদ্য এবং জ্বালানি পাওয়া যায় এ চাষ থেকে। মেশিনের মাধ্যমে গাছ থেকে ভুট্রা ছাড়ানোর পর আটি ও গুলগুলো সারা বছরে খড়ি হিসাব কাজে লাগে। তাছাড়াও অন্য চাষের তুলনায় পরিশ্রমও কম। অনেকই আবার নাবি করেও অনেকে ভুট্টার আবাদ করেছেন চাষীরা। অবাক হলেও সত্য যে, গত ১০ বছর ধরে চুয়াডাঙ্গায় ভুট্টার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরে ১৩ হাজার ৯শ, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৯ হাজার ২৮৮, দামুড়হুদা উপজেলায় ১২ হাজার ৫শ’ ও জীবননগর উপজেলায় ৬ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে এবার ভুট্টার আবাদ হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নাইম আল সাকিব জানান, এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ৪১ হাজার ৭৪১ হেক্টর জমিতে এবার ভুট্টার আবাদ হয়েছে। ভুট্টার আবাদে কৃষকদের লোকসান হচ্ছে না বললেই চলে। প্রায় প্রতিবছরই কিছু না কিছু লাভ হচ্ছে। এ কারণেই এলাকার কৃষকদের অধিকাংশই ভুট্টার আবাদের দিকে ঝুঁকেছেন। ২৫ থেকে ৩৫ মণ ভুট্টা পাওয়া যায়। ভালোই লাভ হয়। কৃষকরা চান লাভ। যে আবাদে লাভ হয়, সেই আবাদের দিকেই কৃষকরা ঝুঁকতে থাকে।
