জীবননগর অফিস: জীবননগরে আনন্দ স্কুলগুলো থেকে কোনক্রমেই কাটছিলোনা নিরানন্দ। একের পর এক অনিয়ম আর দূর্নীতির কালো থাবার গন্ডী থেকে কোনমতেই বের হতে পারছেন না প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী (টিসি) শাহানারা খাতুন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বেপরোয়া অনিয়ম হয়ে আসলেও রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিকায় ছিল সকলেই। নানা অনিয়মের কারনে এবং টিসিকে তুষ্ঠ করতে না পারার কারনে বন্ধ হয়ে পড়েছে ১২টির মত আনন্দ স্কুল। প্রথম থেকে কোন নিয়ম না মানার কারণে দুর্নীতির আতুড় ঘরে পরিণত হয়ে পড়েছিলো রস্ক ফেইজ-২প্রকল্প। ফলে ঝরে পড়া শিশুদের জন্য আনন্দ স্কুল নিয়ে চলছে অনিয়ম দূর্নীতির মহারথি। সেই সাথে প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারীর (টিসি) একক ক্ষমতায় অতিষ্ঠ এলাকা াসী।
জানা গেছে, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে সরকার হতদরিদ্র ও ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলগামী করতে ‘রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ (রস্ক) ফেইজ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০১৩ সালে পাঁচ বছরের জন্য উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৬৫টি আনন্দ স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। কাগজে-কলমে এগুলো সচল দেখানো হলেও অধিকাংশই বাস্তবে অস্তিত্ব প্রায় বিরল। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইনবোর্ড আছে ঘর নেই, ঘর থাকলেও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অথবা অন্য কাজে ব্যবহৃত হয় বলেও জানা গেছে। গত কয়েকদিন আগে জীবননগর সোনালী ব্যাংকে থেকে উপজলোর ৩১টি আনন্দ স্কুলের ৪৪৩ জন শিক্ষার্থীর ডিআর ফরম বাদে মাথাপিছু ১ হাজার ৫শ’ ২০ টাকা হারে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩শ’ ৬০ টাকা সরকারিভাবে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে দেয়া হলেও উপজলোর ৩১টি আনন্দ স্কুলের টিসি শাহানারা ও শিক্ষকদের যোগসাজে শিক্ষার্থীদের মাথাপছি ৫২০ টাকা হারে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার ৩শ’ ৬০টাকা তাদের হাতে প্রদান করে। আর বাকি ১ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে কৌশলে কোমলমতি শিশুদের নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়। আনন্দ স্কুলের টিসি ও শিক্ষকদের দুনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়ে, চড়ে ওঠে টিসি শাহানারা ও শিক্ষকগণ। অবশেষে সরকারি নির্ধারিত ১ হাজার ৫শ’ ২০ টাকা হারে প্রতিটি শিক্ষার্থীদের বাড়িতে যেয়ে টাকা ফেরত দিলেন শিক্ষকরা।
আনন্দ স্কুলের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারজানা খাতুন, বিথি খাতুন, শাহাবুল, শরিফুল ইসলামের সাথে কথা বললে তারা বলে, আমাদের স্কুলের আপারা ব্যাংক থেকে টাকা নেওয়ার সময় আমাদের কাছ থেকে যে টাকা কম দিয়েছিলো তা আমাদের বাড়িতে এসে আবার রাতে ফেরত দিয়ে গেছে। এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ঘটনাটি অন্যদিকে প্রভাবিত করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন টিসি শাহানারা। নিজের দোষ এড়িয়ে সমস্থ দোষ শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে রেহায় পেতে চেয়ে ছিলেন তিনি।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, টিসি শাহানারার বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিলো এবং তা তদন্ত করা হয়েছিলো। শেষ পর্যায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ আছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনন্দ স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, আনন্দ স্কুলের টাকা নিয়ে অনেক অনিয়ম রয়েছে। এরসঙ্গে জড়িত রয়েছেন রাঘব বোয়ালরাও। ফলে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া প্রায় অসম্ভব। অনিয়মই এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি স্কুলের খরচ বাবদ পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার ভাউচার জমা নিয়েছেন ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর। তবে বাকি টাকা সমন্ধে বলতে পারবো না। তিনি আরো বলেন, উপবৃত্তির টাকা ১ হাজার টাকা কেটে রেখেছে টিসি শাহানারা আপা। তাই শিক্ষার্থীদের ৭শ’ টাকার পরিবর্তে ৫শ’ করে দেয়া হয়েছিলো। পরবর্তীতে দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার সংবাদ প্রকাশের পর ম্যাডাম আমাদের নির্দেশ দিলেন যে সমস্ত শিক্ষার্থীদের টাকা কম দেয়া হয়েছে তাদের সকলকে টাকা ফেরত দিয়ে দেন আমরা তার কথা মত শিক্ষার্থীদের হাতে টাকা তুলে দিয়েছি।
এ ব্যাপারে টিসির সাথে কথা বললে তিনি বলেন- আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলা হয়েছে তা সঠিক না। কিছু শিক্ষক আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ কথা বলেছে আমি কোন টাকা গ্রহন করেনি। বরং যে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছিলো ওই সমস্ত শিক্ষকসহ যারা এ ধরনের কাজ করেছে তাদের সকলকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলেছি এবং ইতোমধ্যেই শিক্ষকরা টাকা ফেরত দিয়েছে। এদিকে অভিভাকরা টাকা ফেরত পেয়ে খুশি হয়েছেন। আনন্দ স্কুলের শিক্ষকরা যাতে এ ধরনের অপকর্ম না করে সে জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সুদৃষ্ঠি কামনা করেছেন।
