বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ

আপলোড তারিখঃ 2018-11-15 ইং
বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ ছবির ক্যাপশন:
পুলিশের দুই গাড়িতে আগুন, ছররা গুলি, কাঁদানে গ্যাস, বিএনপি নেতা-কর্মী ও পুলিশসহ আহত অর্ধশত ডেস্ক রিপোর্ট: মনোনয়নপত্র বিক্রির মধ্যেই রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১টা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়ে প্রায় ২টা পর্যন্ত চলে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস মিছিল নিয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম (ঢাকা-৮ আসন) কিনতে আসলে কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের দুইটি গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ছররা গুলি ও কাঁদুনে গ্যাস ছুঁড়লে এক সাংবাদিকসহ বিএনপির ২৫ নেতাকর্মী ও ২৩ পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত পল্টন থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে পল্টন থানার ওসি মাহমুদ হোসেন বলেন, পার্টি অফিসের সামনে আসা নেতাকর্মীরা সড়কে বিশৃঙ্খলভাবে অবস্থান করছিল। পুলিশ তাদের সুশৃঙ্খলভাবে থাকতে অনুরোধ করেছিল; কিন্তু তারা বিনা উসকানিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় থানায় মামলা হবে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে আসা তার কর্মী আসাদুজ্জামান, পল্টন থানা বিএনপি কর্মী কাদির, মাদারীপুর শিবচর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত, ঢাকার স্বেচ্ছাসেবক দলের সুমন চৌকিদার, মানবজমিনের সাংবাদিক রুদ্র মিজান, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর ছাত্রদল নেতা শামীম রেজা, একই থানার ছাত্রদল নেতা খন্দকার আপেল মাহমুদ, বিএনপি নেতা ড. মইনুল সাদিক, ফরহাদ, এম শুকুর পাটোয়ারী। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শিবলী নোমানসহ ২৩ পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদেরকে রাজারবাগ পুলিশ কেন্দ্রীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিতে হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বিএনপির কর্মী, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিএনপির মনোনয়ন কিনতে গতকাল সকাল থেকে নয়া পল্টনে প্রধান কার্যালয়ের সামনের ভিআইপি সড়কে দলীয় নেতা-কর্মীদের ভিড় শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কর্মী-সমর্থকরা ব্যানার নিয়ে মিছিল করতে করতে পার্টি অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বেলা পৌনে ১টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস মিছিল নিয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম (ঢাকা-৮ আসন) কিনতে আসেন। কার্যালয়ের সামনে থেকে তার মিছিল সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। তবে সরে না যাওয়ায় বিএনপির কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে পুলিশের বাগবিত-া হয়। মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পার্টি অফিসের পাশে পুলিশের ডবল কেবিনযুক্ত একটি গাড়ি মিছিলের মধ্যে পড়ে যায়। এসময় গাড়িটি ধীরে ধীরে চালিয়ে সড়ক মুক্ত রাখার চেষ্টা করে পুলিশ। এতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাদের অভিযোগ পুলিশের গাড়ির চাকা তাদের দুই জন কর্মীর পায়ের গোড়ালির ওপর দিয়ে চলে গেছে। বিএনপি কর্মীরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে থাকে। এসময় পুলিশ রাবার বুলেট (ছররা গুলি) ও টিয়ার শেল ছুড়তে থাকে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে লাঠিপেটা। এক পর্যায়ে পুলিশ কিছুটা সরে গিয়ে নাইটেঙ্গেল মোড়ে অবস্থান নেয়। বিএনপি কর্মীরা তখন নয়া পল্টনের সড়কে থাকা বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে। হোটেল মিডওয়ের সামনে রাখা পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনারের গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। অনতি দূরে পুলিশের আরেকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই সংঘর্ষের জন্য দুই পক্ষই পরস্পরকে দোষারোপ করেছে। বিএনপি বলেছে, ‘সরকারের নির্দেশে’ পুলিশ বিনা উসকানিতে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর ‘হামলা’ চালিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলেছে, নির্বাচন সামনে রেখে ‘ইস্যু তৈরির লক্ষ্যে’ বিনা উস্কানিতে বিএনপি কর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ ধরনের পরিস্থিতি করে সরকার নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছে।’ ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ও নবী উল্লাহ নবী শোভাযাত্রা নিয়ে নয়া পল্টনে আসেন। এতে রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় যা ছিল নির্বাচন আচরণ পরিপন্থি। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ তাদেরকে সেখান থেকে সরে যেতে বলে। তখন তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা পুলিশের দুইটি গাড়ি ভাঙচুর করে। একটি এপিসিতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ২৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়। দুপুর ২টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিএনপি পার্টি অফিসের সামনের রাস্তায় নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। বিকাল সাড়ে ৩ টার পর থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)