ছবির ক্যাপশন:
`ভিক্ষা ছেড়ে ভালো হলাম, সরকারি সহায়তা নাহি পেলাম`
মিঠুন মাহমুদ: ভিক্ষা ছেড়ে ভালো হলাম, সরকারি সহায়তা নাহি পেলাম, মনের কষ্ট মনে লইয়া, কষ্ট রাখি বুকে ধইরা শুধু এই কথায় নয় এ ধরনের আরো অনেক স্পর্শকাতর কথাগুলো বললেন প্রতিবন্ধী আব্দুস সোবহান। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় দৈনিক সময়ের সমীকরণ’র জীবননগর অফিস প্রধান জাহিদ বাবু ও সহকারি মিঠুন মাহমুদ একটি তথ্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যলয় থেকে বের হতেই দেখা হয় এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ’র সাথে। অনেক কষ্ট করে দুই হাতে ভর দিয়ে পা টেনে টেনে এক তলা থেকে দো-তলার সিড়ি বেয়ে বারান্দায় উঠে একটা জোরে নিশ্বাস ছাড়লেন। তার কাছে যেয়ে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই ছন্দ দিয়ে ওই কথাগুলো বলেন। দেখে মনে হলো একজন শিক্ষিত ব্যক্তি হয়তো কোন বিশেষ কাজে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট এসেছেন। তার ছড়া দিয়ে কথা বলা শুনে তার পরিচয় জানতে খুব আগ্রহ জাগলো।
তার পরিচয় জানতে চাইলে বলেন, আমার নাম আব্দুস সোবহান, পিতা মৃত গিয়াসউদ্দিন, জন্ম ১৯৪৮ সালে বরিশালে। ১৯৬২ সালে তিনি নবম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। অভাবের তাড়নায় তিনি ১৯৮৮সাল থেকে ১৯৯৪সাল পর্যন্ত ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িয়ে পড়েন। ভিক্ষাবৃত্তি ভালো নয় তাই ছেলে মেয়েদের মুখ পানে তাকিয়ে ১৯৯৬ সালে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দেন এবং বিভিন্ন কাজকর্মের মাধ্যমে সংসারের হাল ধরেন। ঐ সময় ভিক্ষাবৃত্তির প্রয়োজনে তিনি জীবননগর চলে আসেন। সেই থেকে এখানেই বসবাস করেতন। বর্তমানে তিনি উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের সরকারি আবাসনে স্ব-পরিবারে বসবাস করছেন। সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে অনেক দুর্দশায় তার জীবন কাটছে। শত কষ্টের মধ্যেও প্রতিবন্ধী আব্দুস সোবহান তার ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করে তুলেছেন। সরকারি সহায়তা বলতে ১৯৯৬ সালে কপালে শুধুমাত্র একটি প্রতিবন্ধী কার্ড ছাড়া আর কোন আর্থিক সাহায্য, ভিজিডির কার্ড, এমন কি ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধের জন্য সরকারিভাবে ভিক্ষুকদের মাঝে যে উপকরণ দিয়েছিলো তাও তার কপালে জোটেনি। আর কত বয়স হলে তার কপালে সরকারি চাউলের কার্ড জোটবে এমনটি বললেন প্রতিবন্ধী আ. সোবহান।
এ ব্যাপারে তার সাথে কথা বললে তিনি সময়ের সমীকরণ’র এই প্রতিবেদকের কাছে বলেন, আমি যখন ভিক্ষা করেছি, তখন অনেক সুন্দরভাবে জীবন কাটালেও মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের কথা বার্তা শুনেছি। সেই কারনে ভিক্ষা বন্ধ করে, সমাজের আর চারজন মানুষের মত জীবনযাপন করতে চেয়েছি। কিন্তু বর্তমানে আমার এমন অবস্থা দু’মুঠো খাবারের জন্য সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। সরকারি সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, সরকারিভাবে প্রতিবন্ধীর কার্ড ছাড়া আর কোন সহয়তা জোটেনি। সরকারি অনুদানের জন্য মেম্বারকে কতবার বলেছি কোন কাজ হয়নি। এমন কি ভিক্ষুক মুক্তকরণের জন্য সরকারিভাবে যে উপকরণ দেয়া হয়েছে, তার কোন কিছুই আমি পাইনি। একটা চাউলের কার্ডের জন্য কতবার মেম্বারের কাছে ঘুরলাম, কোন কাজ হলো না। অথচ যারা স্বচ্ছল, যাদের আয়ের উৎস আছে তাদেরকে সরকারিভাবে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে।
মনোহরপুর ইউপি সদস্য জাফিরুলের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, মনোহরপুর আবাসনটি ইউএনও স্যার দেখভাল করেন। তাছাড়া আবাসনে কেউ স্থায়ীভাবে থাকে না। যার ফলে কে কখন আসে, এটা বুঝা যায় না। তবে যদি সোবহান আবাসনে থাকে, তাহলে আগামিতে সরকারিভাবে যে সহায়তা আসবে তাকে দেয়া হবে।
