ছবির ক্যাপশন:
ডেস্ক রিপোর্ট: নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দু’টি লাশ পড়েছে রাজধানীতে। আহত হয়েছে শতাধিক। দু’পক্ষের মারমুখি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বিরামহীন ইটপাটকেল নিক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা মুহূর্তের মধ্যে তাদের দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এর শোধ নিতে আরো বড় ধরণের সংঘর্ষের আশংকা করছেন নগরবাসী। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তাই আরিফ ও সুজন নামে দুই কিশোর নিহতের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। গতকাল মগবাজারে টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সুধী সমাবেশশেষে সাংবাদিকদের তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের সময় কিছুটা উত্তেজনা থাকে। তবে প্রাণহানি কাম্য নয়। নির্বাচন ঘিরে কেউ বিশৃখলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করা হবে।
গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় আ.লীগের দু’গ্রপে ব্যাপক সংঘর্ষের সময় দুই তরুণ নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। গতকাল সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আদাবরের ১০ ও ১৬ নম্বর সড়ক, শম্পা মার্কেট ও সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারন মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
গত ৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এটাই নির্বাচনী সহিংসতায় বড় ধরনের প্রাণহানির প্রথম ঘটনা। নিহত দুই তরুণ আরিফ ও সুজনের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। সুজন নির্মাণশ্রমিক। আহতদের মধ্যে ২০ জনকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রাত পর্যন্ত পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করেনি। থানায় কোন মামলাও হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন। আবারো দু’গ্রুপের সশস্ত্র সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয় লোকজন। আ.লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে গাড়িচাপায় দু’জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মগবাজার টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নির্বাচনের সময় কিছুটা উত্তেজনা থাকে। তবে, প্রাণহানি কাম্য নয়। নির্বাচন ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।
