চলে গেলেন বর্ষীয়ান নেতা তরিকুল ইসলাম

আপলোড তারিখঃ 2018-11-05 ইং
চলে গেলেন বর্ষীয়ান নেতা তরিকুল ইসলাম ছবির ক্যাপশন:
আজ বিকাল ৪টায় যশোরে জানাজা শেষে দাফন : শোকের ছায়া ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম আর নেই। গতকাল রোববার বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে অ্যপোলো হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি.......রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ব্যাধী ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে এ্যাপেলো হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ছেলে ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিত জানান, আব্বু আর নেই। মৃত্যুকালে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের বয়স হয়েছিলো ৭৩ বছর। তরিকুল ইসলামের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোরে। রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রজীবনেই। যশোর এমএম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। কলেজের শহীদ মিনার জরাজীর্ণ হওয়ায় ১৯৬২ সালে সহপাঠীদের শহীদ মিনার তৈরি করে পাকিস্তান সামরিক সরকারের রোষানলে পড়েন, গ্রেফতারও হন। কারাগারে কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে পরিচয়। সেই সূত্রে দীক্ষা বাম রাজনীতিতে। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের জন্য রাজবন্দি হিসেবে যশোর ও রাজশাহীতে কারাভোগ করেন দীর্ঘ ৯ মাস। ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ায় গ্রেফতার হন। ১৯৭০ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন তরিকুল। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ন্যাপ থেকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) হয়ে পরে বিএনপিতে যোগ দেন বরেণ্য এ রাজনীতিক। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ৭৬ সদস্যের প্রথম আহ্য়বাক কমিটির অন্যতম সদস্য তরিকুল ইসলাম। সেই সঙ্গে বিএনপির যশোর জেলা আহ্য়বাকের দায়িত্ব পান। চার দলীয় জোট সরকারের তথ্য ও পরিবেশ মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম যশোর সদর আসন থেকে তিনি চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারেও তিনি প্রথমে সমাজ কল্যাণ এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন। যশোর পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তরিকুল ইসলাম। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠার পর বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব, সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ২০০৯ সালে পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তরিকুল ইসলাম দলের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত তরিকুল ইসলাম দলের বিভিন্ন সময়ের দুর্দিনে নেতৃত্বে পাশে থেকে সহযোগিতা করেছে বলে তৃণমূলে নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি ব্যাপক শ্রদ্বেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তরিকুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তরিকুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। `` দলের প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটি। বর্ষিয়ান নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বসুন্ধরা এ্যাপেলো হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে তিনি মরহুম নেতার স্ত্রী প্রফেসর নার্গিস ইসলাম ও তার ছেলে সুমিত ও অমিতের সাথে কথা বলেন। হাসপাতালের সামনে নেতাকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। অনেকে গুমড়ে গুমড়ে কাঁদতে থাকেন। সেখানে মর্মস্পর্শী অবস্থার সৃষ্টি হয়। এসময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের জানাজা আজ সোমবার সকাল ১০ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে, এরপর সোয়া ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৪টায় যশোর ঈদগাঁ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তরিকুল ইসলামের লাশ। এদিকে বিএনপির এই নেতার মৃত্যুতে আজ ঢাকাসহ সারাদেশে শোক দিবস পালন করবে দলটি। শোক দিবসে দেশব্যাপী বিএনপির কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও নেতাকর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করবে বলেও জানান তিনি। বর্ষিয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী ও মহাসচিব আবু সৈয়দ, ন্যাপ-ভাসানীর চেয়ারম্যান এড. মো. আজহারুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। এদিকে, তরিকুল ইসলামের লাশের সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তরিকুল ভাই এভাবে চলে যাবেন আমি মেনে নিতে পারছি না। আমি কোনোভাবে বিশ্বাস করতে পারছি না, ভাই নেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার অবদান এবং তিনি ছিলেন জাতীয়তা দর্শনের আপাদমস্তক একজন নেতা। এই বলে তিনি কাঁদতে থাকেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, তরিকুল ভাই আমাদের নেতা ছিলেন। ৫০ বছর এক সাথে আমাদের সম্পর্ক। মজলুম জননেতা তরিকুল ভাই ছিলেন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ ছিলেন। জীবনের প্রথম থেকে রাজনীতি, শেষও রাজনীতি। এই রাজনীতি ছিলো দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য। জনগণের আদালতে তিনি পরীক্ষা দিয়ে গেছেন, রাজনীতি বিচ্ছিন্ন তরিকুল ইসলাম কেউ নন। তরিকুল ইসলামই আমাদের আদর্শ। এ সময়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাবেক ছাত্র নেতা শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি তার শোক বার্তায় বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শ এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী তরিকুল ইসলাম বিএনপিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তা নেতাকর্মীদের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে তার সাহসী ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। মরহুমের এলাকাবাসীর মতো আমিও তাদের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত হয়েছি। বিএনপি নেতা শরীফ শোকবার্তায় মরহুম বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তুপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এ্যাড. ওয়াহেদুজ্জামান বুলা। তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যুতে সৃষ্ট শূন্যতা কখনও পূরণের নয়। দেশ ও জাতি এক ত্যাগী নেতাকে হারালো। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সেই সাথে মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। মহান সৃষ্টিকর্তা যেন তাঁদেরকে এই শোক কাটিয়ে সুস্থ্য জীবনযাপনের তাওফিক দান করেন। অন্যদিকে, দক্ষিানাঞ্চলের জনপ্রিয় বর্ষিয়ান রাজনীতিক নেতা ও দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ শোক বানীতে তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে বলেন তরিকুল ইসলাম সারাজীবন মজলুম মানুষের কল্যানে রাজনীতি করে গেছেন। দেশ ও জাতীর কল্যান ও উন্নয়নে তার অবদান চির স্মরনীয় হয়ে থাকবে। এ ধরণের মানুষ দেশের জন্য খুবই দরকার। তিনি পত্রিকার প্রকাশক হিসেবেও এক সফল মানুষ। তার প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা আজ দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের এক প্রিয় মুখপাত্র। এদিকে শৈলকুপা প্রেসক্লাব দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে এক শোক সভার আয়োজন করে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)