চুয়াডাঙ্গায় ভোরের কুয়াশায় হাতছানি দিচ্ছে শীতের আগমনী

আপলোড তারিখঃ 2018-11-03 ইং
চুয়াডাঙ্গায় ভোরের কুয়াশায় হাতছানি দিচ্ছে শীতের আগমনী ছবির ক্যাপশন:
শীতের শুরুতেই অলিতে-গলিতে ভাপাপিঠা তৈরির ধুম আফজালুল হক: চুয়াডাঙ্গায় শীতের শুরুতেই ভাপাপিঠা তৈরির ধুম পড়েছে। সকালের কুয়াশা কিংবা সন্ধ্যার হিমেল বাতাসে ভাঁপা পিঠার গরম আর সুগন্ধি ধোঁয়ায় মন আনচান করে ওঠে। সেই ধারাবাহিকতায় শহরের বিভিন্ন এলাকাতেই শীতের আগমনি বার্তায় ‘শীতের পিঠা’ বিক্রির ধুম পড়েছে। শীত এলেই এক শ্রেণীর মৌসুমি শীতের পিঠা ব্যবসায়ীরা সকাল-বিকাল এবং গভীর রাত পর্যন্ত এ ব্যবসায় ব্যস্ত সময় কাটান। চুয়াডাঙ্গা শহরসহ জেলার প্রতিটা গ্রাম-শহর, অলি-গলি, রাস্তার মোড়ে সবখানেই চলছে ঐতিহ্যবাহী এই পিঠা বিকিকিনির উৎসব। এই পিঠার স্বাদে ক্রেতারা মন রাঙালেও, এটিই এখন এখানকার নি¤œ আয়ের অনেক মানুষের উপার্জনের হাতিয়ার। কুয়াশা-ঢাকা সকালে এমন গরম গরম ভাপাপিঠার মজাই আলাদা। একদিকে ভাপাপিঠার স্বাদ গ্রহণ, অন্যদিকে চুলার আগুন আর জলীয়বাষ্পের উত্তাপ যেনো চাঙ্গা করে দেয় দেহ মন। জেলার প্রতিটা অঞ্চনেই সর্বত্রই এখন এই পিঠা তৈরি ও বেচাকেনার ধুম পড়েছে। পিঠা প্রেমিক মানুষ শীতের পিঠার স্বাদ গ্রহণ করতে ফুটপথের এসব পিঠার দোকানে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকেই পিঠার দোকানের চুলার পাশে বসেই গরম পিঠা খাওয়াকে রেওয়াজে পরিণত করেছেন। অনেকে পরিবারের চাহিদা মেটাতে পিঠা ক্রয় করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, অফিস, দোকান, ক্লাব, আড্ডায়ও পিঠার আয়োজন লক্ষ্য করা গেছে। তবে শ্রমজীবী, রিক্সা চালক, ড্রাইভার, শ্রমিকসহ অভিজাত শ্রেণী লোকজনের কাছে অত্যন্ত প্রিয় খাবার শীতের পিঠা। ব্যবসায়িরা বেকারত্ব দুরীকরণ ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি তারা লালন করছেন দেশীয় এ সংস্কৃতি। পাশ্চাত্যের আধুনিকতায় গা- ভাসিয়ে শহুরে লোকজন ফিজা, কেক, মোগলাইসহ বিভিন্ন তৈলাক্ত ও ক্ষতিকর খাবারের বদলে দেশের চিরচেনা চালের গুঁড়া, আটা, ময়দা, নারকেল ও গুড়ের তৈরী পিঠা ব্যবসা এখন জমজমাট। চালের গুঁড়ার সাথে আটা বা ময়দা মিশিয়ে তৈরী করা হচ্ছে ভাঁপা পিঠার মত দেশীয় জাতের পিঠা। ছোট-ছোট আটটি চুলা দিয়ে কয়েল লাখড়ী পুড়িয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পিঠা তৈরী ও বিক্রি করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল চত্ত্বর, বেলগাছি রেলগেট, রেলওয়ে স্টেশন, কোর্টমোড়, বড়বাজার, শ্যাকড়াতলার মোড়, একাডেমির মোড়, কেদারগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন ভাপাপিঠার দোকানে সকাল-সন্ধ্যা হলেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকে। পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিলম্ব হলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মান-অভিমান ও বাকবিতন্ডা হলেও পিঠা সংগ্রহে পিছপা হচ্ছেন না ক্রেতারা। এক পিঠা ব্যবসায়ী জানান, দীর্ঘ ১০ বছর থেকে এ ব্যবসা চালাচ্ছেন। গরমে তিনি বিভিন্ন ব্রান্ডের মহিলাদের কসমেটিক্স বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও শীত মৌসুমে তিনি ভাপাপিঠা বিক্রি করে যাচ্ছেন। তার হাতের তৈরি পিঠা ক্রেতারাও বেশ পছন্দ ও আগ্রহভরে গ্রহণ করছেন। প্রত্যেকদিন হাজার টাকার পিঠা বিক্রির করে লভ্যাংশ থেকেই স্বাচ্ছন্দ্যে চলছে তার পরিবার।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)