মালটা চাষে সফল সরকারি চাকুরীজীবী বাবলু!

আপলোড তারিখঃ 2018-10-23 ইং
মালটা চাষে সফল সরকারি চাকুরীজীবী বাবলু! ছবির ক্যাপশন:
নতিপোতা প্রতিনিধি: অসম্ভবকে সম্ভব করে দামুড়হুদার হেমাতপুর গ্রামে বৈরি আবহাওয়ার মাঝেও মালটা চাষ করে সফল হয়েছে সরকারি চাকুরীজীবি সাখাওয়াত হোসেন বাবলু। তিনি বর্তমানে একই দাগে ৩২ বিঘা জমিতে মালটা চাষ করেছেন। পাহাড়সম পথ পাড়ি দিয়ে এখন সফলতার দার প্রান্তে তিনি। প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালটা বিক্রির সম্ভবনা রয়েছে এ মৌসুমে। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রধম পর্যায়ে কেউই খোঁজ না করলেও, বর্তমানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দামুড়হুদা। দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়ানের ভগিরথপুর গ্রামের পুরাতনপাড়ার শিক্ষক আব্দুর রহমানের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন বাবুল। তিনি দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্য বড়। ২০১৩ সালের প্রথম দিকে খুলনা কৃষি গবেষণা ইনিষ্টিটিউট থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে ২০টি বারি মালটা-১ জাতের গাছ কেনেন। গাছগুলো প্রথমে ১৪ কাঠা জমিতে রোপন করে নিজ গ্রামের মাঠে। গাছ লাগানোর এক বছর পর তিনি গাছগুলো কলম করে চারা গাছ তৈরি করেন। এরপর গ্রামের ৫ জন কৃষকের কাছ থেকে ১২ বছরের জন্য বিঘা প্রতি বছরে ৮ হাজার টাকায় লিজ নেন। পরবর্তীতে কয়েক বছর পর আরও ২৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে জমিতে প্রায় চার হাজার কলম মালটার চারা গাছ রোপন করেন। বর্তমানে একই দাগে ৩২ বিঘা মালটা আছে তার। গাছ লাগানোর দুই বছর পর ফুল আসতে শুরু করে। বর্তমানে গাছের ডালে ডালে মালটা ফলে ভরা। প্রতি বিঘা জমিতে বছরে ৫৫-৭০ মণ মালটা ফল পাওয়া যাবে। যা বিক্রি হবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকায়। মালটার ফলন ভাল হলে বছরে কোটি টাকার ফল বিক্রি হবে। প্রতি কেজি মালটা ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মালটা বাগান করতে ৫ বছরে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২৯ লাখ টাকা। উচুঁ জমিতে মালটা গাছ রোপন করতে হয়। বাগানে রাসায়নিক সারের চেয়ে জৈব সার বেশি ব্যবহার করা হয়। ৫-৬ হাত দূরত্বে গাছের চারা রোপন করতে হয়। একটি মালটা গাছ থেকে বছরে ৩২০-৩৮০টি ফল পাওয়া যায়। মালটা ফল খেতে সুস্বাদু। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। মালটা বাগানে ৯জন শ্রমিক ২৫০টাকা দিন হাজিরায় কাজ করছেন। তিনি জানান, যখন গ্রামে মালটা বাগান করি তখন গ্রামের মুরুব্বিরা বলতেন বাবুল গাছঁপাগল। কারণ ধান, পাট ও গম চাষ করাই কঠিন সেখানে মালটা চাষ পাগলামি। এখন তার সফলতা দেখে সবাই আশ্চর্য! কাছে ডেকে শুনতে চায় পাগলের গল্প। তাছাড়াও যেকোন গাছ লাগানো তার নেশাই পরিনিত হয়েছে । বাগানের শ্রমিক নুর ইসলাম, হারান আলি ও হাচান বলেন, মালটা বাগানে কাজ করে পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা দুর হয়েছে। আগে বছরে কিছু নির্দিষ্ট সময় কাজ থাকতো। যার কারণে সংসারে অভাব অনটন লেগে থাকতো। নতিপোতা ইউপি চেয়ারম্যান জানান, বাবুলের সফলতা দেখে গ্রামের অন্য বেকার শিক্ষিত যুবকরা মালটা বাগান তৈরি করতে আগ্রাহ দেখেচ্ছা। যুবকরা মালটা চাষ করলে গ্রামে বেকারত্ব হ্রাস পাবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)