ছবির ক্যাপশন:
এলাকার উন্নয়নে আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই
দামুড়হুদা প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দেশ স্বাধীনের পর একটি ক্ষুদ্র ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। আজ তার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত শুরু করেছে অভিযাত্রা। দশ বছরে আগে যেখানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৪২০ মার্কিন ডলার সেখানে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত দশ বছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় হয়েছে ১৬শ ১০ মার্কিন ডলার। গতকাল বিকালে দামুড়হুদায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের বিশাল এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজরুল মল্লিক। তিনি অরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ধারায় আরো রয়েছে নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে নিতে আমাদের স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট স্টেশন স্থাপন। এই স্যাটেলাইট স্টেশন স্থাপনের মধ্যদিয়ে আমরা এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে দেশের সম্প্রচার কার্যক্রমসহ বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক ধারায় চলতে পারবো। এছাড়া আজ আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের দুঃখী মানুষের কথা চিন্তা করে যাদের জমি আছে অথচ ঘর তোলার সামর্থ নেই সেই সকল পরিবারদের মাথা গোঁজার ঠাই করে দিতে ২ লাখ ৫০ হাজারটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। দেশের দরিদ্র মানুষ যাতে অতি সহজে স্বাস্থ্য সেবা পায় এজন্য সারা দেশে ১২ হাজার ৭শ ৭৯টি কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে সকল চিকিৎসা জনগণ নিতে পারছে। তিনি বলেন, যারা কর্মক্ষতা হারিয়ে বা কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের পূর্ণবাসনে সারাদেশে ভিক্ষুক পূর্ণবাসন প্রকল্প চালু করেছে। তাদের জন্য নির্দিষ্টস্থানে সরকারী জমিতে মার্কেট নির্মাণ করে ব্যবসা করার পূঁজি দিয়ে পূর্ণবাসন করছে। এক সময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়ি বলা হতো, আজ আমার সরকার আওয়ামী লীগ সরকার গত দশ বছরে তলাবিহীন ঝুঁড়ির লজ্জার হাত থেকে মুক্ত করে উন্নয়নশীল দেশে পরিনত করেছে। এখন আমরা বিশ্বের অনেক দেশের কাছে উন্নয়নের মডেল। তবে, দুঃখের কথা না বললেই নয়, সারাদেশে যখন উন্নয়নের ধরা অব্যহত তখন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত। বিগত দিনে যারা এই আসন থেকে এমপি হয়েছেন, তারা এই এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেনি। বরং এই অঞ্চল থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করে নিজের ভাগ্যের উন্নয়ন করেছেন। তাই বলবো দেশ এগিয়ে যাচ্ছে যখন, তখন এদেশের রাজাকার ও বিএনপি জোট আওয়ামী লীগকে পরাস্থ করতে নানা প্রকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। এই রাজাকার আল সামসরাই আমার নেতা আপনার নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট হত্যা করে বাংলার মানচিত্র থেকে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। কিন্ত ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলার রাখাল রাজাকে হত্যা করলেও সেদিন বিদেশের মাটিতে থাকায় বেঁচে যান আমার নেত্রী জননেত্রী বর্তমাণ উন্নয়নশীল দেশ বির্নিমাণের যাদুকর অগ্নিকন্যা শেখ হাসিনা। তাই আজ এই বিশাল জনসভায় আপনাদের কাছে আহব্বান জানাচ্ছি এই এলাকার সকল উন্নয়নধারা অব্যাহত রাখতে আবার আপনারা বাংলাদেশের রুপকার শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে এবং ক্ষমতায় বসাতে নৌকায় ভোট দেবেন। সেই সাথে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে এলাকার উন্নয়নে আমি আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। আমি প্রতিদিনই চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নির্বাচনী এলাকার মানুষের সাথে কথা বলি। এই নির্বাচনী এলাকার কোথাও না কোথাও দলীয় নেতাকর্মিদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কর্মিসভা-জনসভায় যোগ দিই। সবখানেই একই আওয়াজ মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে এই আসনে সংসদ সদস্য পদে পরিবর্তন চায়। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমার নেত্রীর নৌকার বিজয়ে আমার পাশে থাকলে এই অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করবো। কারণ আমার নেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা মানুষের মনের ভাষা বোঝেন। আমার বিশ্বাস তিনি আপনাদের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে এই এলাকার উন্নয়নে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য বাতিল নেতার পরিবর্তে যোগ্য নেতার হাতেই নৌকা প্রতীক তুলে দিবেন।
দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসমাবেশ শুরু হয়। এই বিশাল সমাবেশে যোগ দিতে দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা স্লোগান সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুনসহ খন্ড খন্ড মিছিল নিয়েদামুড়হুদা ও জীবননগরের নেতাকর্মিরা সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশ শুরুর আগেই নেতাকর্মিদের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল পূর্ণ হয়ে যায়। এরপরও একের পর এক আসতে থাকে মিছিল। সমাবেশস্থল ছাপিয়ে আশপাশের সড়কে অবস্থান নেয় নেতাকর্মিরা। বিকাল সাড়ে ৫টায় সমাবেশের প্রধান অতিথি নজরুল মল্লিক মঞ্চে উপস্থিত হলে হাজার হাজার নেতাকর্মি মূহুর্মুহু করতালিতে তাদের নেতাকে অভিন্দন জানান। এসময় নজরুল মল্লিকও হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিনন্দনের জবাব দিয়ে তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের সরকার। এই সরকারের আমলে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এক সময় দেশ দরিদ্র দেশ হিসাবে বিশ্বের কাছে পরিচিত ছিলো। বিশ্বের দরবারে তলাবিহীন ঝুঁড়ি নামে পরিচিত ছিলো। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বের কাছে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। শেখ হাসিনার সরকার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি পদ্মা সেতু। সেই পদ্মাসেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মান করছে যার ৬০% কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মন্দির, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নের সরকার শেখ হাসিনা সরকার বারবার দরকার। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে দেশকে আরো এগিয়ে নিতে সকলকে নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান, জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা কাজী সামছুুর রহমান, সাবেক মেম্বর রমজান আলী। এছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নাটুদাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছনবী, নাটুদাহ ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি মোশারফ তরফদার, দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক এ্যাড. আবু তালেব, মিরাজুল ইসলাম, জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শাহিনুর মাষ্টার, জাকির হোসেন, জীবননগর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কাজী চঞ্চল, সিরাজুল ইসলাম, হযরত আলী, আরিফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, সাজিদুল ইসলাম মিঠু।
