সরকারের উদ্দেশ্যে সম্পাদকদের সাত দফা : মানববন্ধন কাল

আপলোড তারিখঃ 2018-10-14 ইং
সরকারের উদ্দেশ্যে সম্পাদকদের সাত দফা : মানববন্ধন কাল ছবির ক্যাপশন:
ডেস্ক রিপোর্ট: সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকারের উদ্দেশ্যে ৭ দফা দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। সেই সঙ্গে দাবি পূরণে আগামী ১৫ই অক্টোবর সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সম্পাদক পরিষদের সদস্যরা মানববন্ধন করবেন। সকাল ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচিটি পালিত হবে। গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের উদ্দেশ্যে ৭ দফা দাবি জানানোর পাশাপাশি পূর্বঘোষিত (তিন মন্ত্রীর অনুরোধে স্থগিত) মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। সম্পাদক পরিষদের দাবিগুলো হচ্ছে- ১. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা অবশ্যই যথাযথভাবে সংশোধন করতে হবে। ২. এসব সংশোধনী বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে আনতে হবে। ৩. পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম-প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদের শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেয়ার অনুমতি দেয়া যাবে, কিন্তু কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেয়া যাবে না। তারা শুধু তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকাতে পারবে, যখন সংশ্লিষ্ট সংবাদপ্রতিষ্ঠানের সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন ওই বিষয়বস্তু আটকে দেয়া উচিত, সে বিষয়ে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে। ৪. কোনো সংবাদ প্রতিষ্ঠানের কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা আটকে দেয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই উচ্চ আদালতের আগাম নির্দেশ নিতে হবে। ৫. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতার দায়িত্ব সংশিশ্ল অপরাধের ব্যাপারে প্রথমেই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে (যেমনটা বর্তমান আইনে আছে) এবং সংবাদমাধ্যমে কর্মরত পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেপ্তার করা যাবে না। ৬. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীর মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের গ্রহণযোগ্যতা আছে কিনা তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করা উচিত। এই লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা যেতে পারে। এবং ৭. এই সরকারের পাস করা তথ্য অধিকার আইনকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দেয়া উচিত। ওই আইনে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সেগুলোর সুরক্ষা অত্যাবশ্যক। সম্পাদক পরিষদ বলেন, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশেষত মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্র শক্তিশালী করা- সর্বক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অবদান রেখে যেতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। লিখিত বক্তব্যে যা বলেছেন সম্পাদক পরিষদ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমাদের মৌলিক আপত্তি, বারবার প্রতিবাদ, সরকারের সঙ্গে কয়েকদফায় আলোচনা ও সংসদে স্থায়ী কমিটির সঙ্গে দুইবার বৈঠক সত্ত্বেও মুক্ত সংবাদমাধ্যম, বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি কালাকানুন ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টকে (ডিএসএ) আইনে পরিণত করায় আমরা যারপরনাই হতাশ, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। তিনজন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রহণযোগ্য পরিবর্তন-পরিমার্জনের লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করা হবে। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, এসবের কিছুই করা হলো না। সম্পাদক পরিষদকে তিনজন মন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা মনে করি, এটি সেই প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ। সম্পাদক পরিষদ বলেন, শুরু থেকেই সম্পাদক পরিষদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল, যেগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই ধারাগুলো হলো যথাক্রমে- ৮, ২১, ২৫, ২৮, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩। আমরা কয়েকবার আইনমন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমাদের বক্তব্য সুবিবেচনা পাবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিল যখন ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সামনে পেশ করা হয়, তখন সম্পাদক পরিষদ, বিএফইউজে ও অ্যাটকো’র প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। উভয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই আমরা উপস্থিত ছিলাম। সেসব বৈঠকে আমরা আমাদের আপত্তির জায়গাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরি। আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো বিশদভাবে বর্ণনা করি। আমাদের তৃতীয় একটি বৈঠকের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, যা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে সহায়ক হতে পারতো। কিন্তু সে বৈঠকটি কী কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি, তা আমাদের কাছে আজও অজানা। এভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া বিলটি চূড়ান্ত করা হয় এবং আমাদের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ ও সম্মতি ছাড়াই সংসদে পেশ করা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সাংবাদিকদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলো, বিশেষত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতাবিষয়ক ধারাগুলোতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছাড়াই আইনটি সংসদে পাস করা হয়। বরং শেষ মুহূর্তে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে সংবাদপত্রের কার্যালয় ও সংবাদপ্রতিষ্ঠানগুলোর দপ্তরে প্রবেশ করা, তল্লাশি চালানো, বন্ধ করে দেয়া, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক জব্দ করা, এমনকি পরোয়ানা ছাড়াই সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে পুলিশের ক্ষমতা আরো বেড়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)