ছবির ক্যাপশন:
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজি আবিদ হোসেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে। গতকাল সোমবার নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা ছিল তার। এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাকে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। তল্পিতল্পাও গোছানো শেষ। ঠাকুরগাঁওয়ে রওনা হওয়ার ঠিক আগমূহূর্তে অজানা কারণে ৭ অক্টোবর রোববার বিকেলে তার বদলি বাতিলের আদেশ জারি হয়। খবরটা শুনে তিনি হতবিহ্বল হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি হন রাজধানীর একটি হাসপাতালে। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক অতুল সরকারের জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়। আবার দু'জন জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হলেও তাদের আদেশও বাতিল করতে হয়েছে। কেনইবা তাদের নিয়োগ দেওয়া হলো, আবার তা বাতিল হলো- তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়।
শুধু এ ঘটনাই নয়, বর্তমানে কর্মকর্তাদের বদলি করে আবার তা বাতিল করা যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মাঠ প্রশাসনে কোনো কর্মকর্তাকে বদলি করা হলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের তা অপছন্দ হলে তারা ওই কর্মকর্তার বদলি আদেশ বাতিলের তদবিরে নামেন। পরে বাধ্য হয়ে সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় ওই আদেশ বাতিল করে। আবার কোনো কর্মকর্তাকে বদলি করা হলে, সেটা তার পছন্দসই কর্মস্থল না হলেও, তিনি এটি বাতিলে তদবির করেন নানাভাবে। শেষমেশ ওই তদবিরের চাপে বাতিল করতে হয় বদলির আদেশ। এমনও ঘটনা ঘটছে, একজন কর্মকর্তাকে মাসে তিনবার বদলি করে তা বাতিল করতে হয়েছে আবার। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার বদলির আদেশ জারি হলেও ওই কর্মকর্তা যে মন্ত্রণালয়ে কর্মরত, সে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী তাকে ছাড়ছেন না। উপায়ান্তর না পেয়ে বাতিল হচ্ছে বদলির আদেশ। এমনভাবে বদলি বাতিলে ঘুরপাক খাচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্বও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। কারণ রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি, পদায়নের সম্পূর্ণ এখতিয়ার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। এতে হস্তক্ষেপ হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এর ভাবমূর্তিও।
জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ বলেন, 'প্রশাসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে কোনো কোনো সময় বদলির আদেশ বাতিল করতে হয়। স্বাভাবিক কাজ হিসেবেই ধরা হয় এটি। তবে ঢালাওভাবে আদেশ বাতিল হচ্ছে এমন নয়। গুরুত্ব বিবেচনা করে বদলির আদেশ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি এ প্রসঙ্গে সুস্পষ্ট কিছু বলেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, কর্মকর্তাদের বদলি করে তা বাতিল করা মন্ত্রণালয়ের জন্য এক ধরনের বিব্রতকর বিষয়। কারণ, উপসচিবের ওপরের কর্মকর্তাকে বদলি করতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন নিতে হয়। এক কর্মকর্তা বদলির জন্য বারবার ফাইল পাঠালে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অনেক সময়। মন্ত্রণালয়ের ইমেজও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে এতে।
