ছবির ক্যাপশন:
উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে শেষ হলো উন্নয়ন মেলা
ডেস্ক রিপোর্ট: উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতির মধ্যদিয়ে এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নকে জনগণের মাঝে তুলে ধরতে সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা, জীবননগর, মেহেরপুর, গাংনী উপজেলায় তিনদিন ব্যাপী উন্নয়ন মেলা সমাপ্ত হয়েছে। এবারে মেলার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো ‘‘উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ`। আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরষ্কার বিতরণীর মধ্যেদিয়ে সমাপ্ত হয় তিনদিন ব্যাপি এ উন্নয়ন মেলার আসর।
নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, সারা দেশের সাথে একযোগে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে শেষ হলো। গত ৪ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ মেলা গতকাল শনিবার বিকাল ৪টার সময় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে মেলা প্রাঙ্গনে কুইজ প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের উপর প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী ও পুরষ্কার বিতরণীসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়। ‘‘উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ` এ প্রতিপাদ্যে ৪র্থ বারের মতো সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- নিয়ে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ মেলার গতকাল ছিলো সমাপণী দিন। এ উপলক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে উন্নয়ন মেলা বিষয় ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের উপর প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী ও পুরষ্কার বিতরণীসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জসীম উদ্দীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্যে দেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ।
এ সময় তিনি বলেন, দেশ আজ ডিজিটাল হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এখন প্রায় সবাই স্মার্ট ফোন ইন্টারনেট ব্যাবহার করেন। হাতে একটা মোবাইল ফোন থাকলে দুনিয়া তার হাতের মুঠায়। জেলা উপজেলাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে দেশ এখন ডিজিটাল। এখন মানুষ শহরে আসতে চাইনা। গ্রামে বসে সব সুযোগ পাচ্ছে। এখন বাংলাদেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কৃষিতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এক সময় বিদ্যুতের কথা ভাবাই যেতো না। আজ সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন আমাদের দেশের মানুষ বুঝতে পারছে বিদ্যুতে আমরা কতোটা এগিয়েছি এছাড়াও সারা বাংলাদেশে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে মানুষ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সচিব নাঈম আস্্ সাকীব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা আদর্শ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নওরোজ মোহাম্মদ সাঈদ, জেলা পরিষদ সচিব নুর জাহান খানম, সুবেদার মেজর (অব:) খোন্দকার সাইদরি রহমান বীর প্রতিক। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনার মাধ্যমে ছন্দময়ী করে তোলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফ। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে কুইজ ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেরকে পুরষ্কার প্রদান করা হয়। তাছাড়া মেলাতে ১২০টি স্টলকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পরে আলমডাঙ্গা কলা কেন্দ্রে’র আয়োজনে সংগীতানুষ্ঠানের মধ্যমে শেষ হয় উন্নয়ন মেলা ২০১৮।
দামুড়হুদা প্রতিনিধি জানিয়েছে, দামুড়হুদায় ৩ দিনব্যাপি ৪র্থ উন্নয়ন মেলার সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের মুক্তমঞ্চে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল হাসানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান মাও. আজিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা নাফিস সুলতানা, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছালমা জাহান পারুল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ, উপজেলা কৃষি অফিসার সামিউর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব উল হক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাকী সালাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোখলেছুর রহমান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে জাহান ববি, একাডেমিক সুপার ভাইজার রাফিজুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, অভিজিত কুমার বিশ্বাস, সমবায় অফিসার অশোক কুমার বিশ্বাস, দামুড়হুদা পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, পাইলট গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নূরজাহান খাতুন, ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার হোসেন বকুল, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষরণ কর্মকর্তা কাইজার আলী পল্টু, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হোসনে মোবারক শিলন, উজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপজেলা সুপারভাইজার আব্দুল হাকিম প্রমুখ। আলোচনা শেষে মেলা প্রাঙ্গনে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা- তুলে ধরার পাশাপাশি সেবা প্রদানকারী ৫৫টি স্টলের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১ম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগতে ২য় এবং মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে ৩য় ঘোষনা করে পুরষ্কৃত করা হয়। এ ছাড়া মেলায় অংশ গ্রহনকারী সকল প্রতিষ্ঠানকেও সান্তনা পুরষ্কার দেয়া হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিম রেজা।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, `উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ` এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ৪র্থ উন্নয়ন মেলার পুরষ্কার বিতরণী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ আয়োজন শেষ হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজার সভাপতিত্বে ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জীবননগর থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ গনি মিয়া, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা খাতুন, মেডিকেল অফিসার হেলেনা আক্তার নিপা, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মেহেদী হাসান, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার ফরহাদুর রেজা, প্রকল্প অফিসার শামনুর রহমান, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ বাবুসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধাসহ সাংবাদিকবৃন্দ। এবারের উন্নয়ন মেলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রম ও সরকারের নানামুখী অনুষ্ঠানে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে ৪০টি প্রতিষ্ঠানের স্টল অংশ নেয়। ৪০টি স্টলের মধ্যে উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ১ম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কৃষি অফিস যৌথভাবে ২য় এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও প্রাণী সম্পদ অফিস যৌথভাবে ৩য় স্থান অধিকার করায় পুরষ্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া মেলায় অংশগ্রহনকারী ৪০টি স্টলের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে শুভেচ্ছা পুরষ্কার ও কুইজ প্রতিযোগিতা অংশগ্রহনকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার দেয়া হয়। শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানিয়েছে, মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মেহেরপুর শহীদ ড. সামসুজ্জোহা পার্কে তিন দিনব্যাপী ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা শেষ হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে জেলা প্রশাসক মোহম্মদ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন স্টল প্রতিনিধিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন। পরে স্টল প্রতিনিধিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে সাধারণ গ্রেডে ১ম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, ২য় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ৩য় মেহেরপুর পৌরসভা। সেবাদান হিসেবে ১ম কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২য় সিভিল সার্জন অফিস, ৩য় পুলিশ বিভাগ এবং উন্নয়ন খাতে ১ম মেহেরপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিস, ২য় সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ৩য় জেলা পরিষদ। এছাড়াও অন্যান্য সকল স্টলকে শুভেচ্ছা পুরষ্কার প্রদান করা হয়। এর আগে সন্ধ্যা থেকে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর পরিবেশনায় জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তানিম মাহমুদের এক সঙ্গীত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উন্নয়ন মেলার সমাপনীর এ দিনে বিভিন্ন শ্রেণীর নারী-পুরুষের উপচে পড়া বিশেষ করে বিকাল থেকে বাড়তে থাকে।
এদিকে, মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার সমাপনী দিনে ‘শিক্ষিত জাতি সমৃদ্ধ দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও কুইজ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে শহীদ ড. সামসুজ্জোহা পার্কে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক খায়রুল হাসানের সভাপতিত্বে মূল প্রতিপাদ্যের উপর বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান মালেক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর পৌর কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল আযীম, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অলোক কুমার দাস, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম প্রমূখ। পরে সেখানে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
মুজিবনগর অফিস জানিয়েছে, বিশ্ব আজকে বাংলাদেশকে সম্মান করছে। বাংলাদেশ আগের থেকে বর্তমানে অনেক উন্নত হয়েছে। এ দেশে দরিদ্রতার হার কমে বর্তমানে শতকরা ৪৪ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। কোন মানুষকে আজ না খেয়ে থাকতে হচ্ছে না। মুজিবনগরে ৩ দিনব্যাপী ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার সমাপনী দিনে অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সকল কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষার হার অনেক বেড়েছে। কোন শিক্ষার্থীকে এখন বই কিনতে হচ্ছে না। বছরের প্রথম দিনেই সকল শিক্ষার্থীরা নতুন বই পাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে জনগণকে ২৯ প্রকার বিনামূল্যে ঔষধ দিচ্ছে। এছাড়া মুজিবনগরে আগামীতে রেল সংযোগ, আইটি পাক তৈরি করা হবে। যেটা মুজিবনগর বাসীর জন্যে একটি গর্ভের বিষয়। মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুজিবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাশেম, মহাজনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু, মোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, দারিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুল বারী বকুল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার আনিসুজ্জামান খান, সাব রেজিষ্ট্রার সাদিকুর ইসলাম তালুকদার প্রমূখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার কু-ু। পরে উন্নয়ন মেলা যাচাই কমিটির নির্বাচনে ব্যানার, ফেস্টুন ও উন্নত সেবা প্রদানকারী হিসাবে মুজিবনগর থানা ১ম বিজয়ী নির্বাচিত হয়। এর আগে এমপি ফরহাদ হোসেন স্টল পরিদর্শন করেন।
দামুড়হুদা প্রতিনিধি জানিয়েছে, দামুড়হুদায় ৩ দিনব্যাপি ৪র্থ উন্নয়ন মেলার সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের মুক্তমঞ্চে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল হাসানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান মাও. আজিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা নাফিস সুলতানা, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছালমা জাহান পারুল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ, উপজেলা কৃষি অফিসার সামিউর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব উল হক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাকী সালাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোখলেছুর রহমান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে জাহান ববি, একাডেমিক সুপার ভাইজার রাফিজুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, অভিজিত কুমার বিশ্বাস, সমবায় অফিসার অশোক কুমার বিশ্বাস, দামুড়হুদা পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, পাইলট গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নূরজাহান খাতুন, ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার হোসেন বকুল, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষরণ কর্মকর্তা কাইজার আলী পল্টু, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হোসনে মোবারক শিলন, উজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপজেলা সুপারভাইজার আব্দুল হাকিম প্রমুখ। আলোচনা শেষে মেলা প্রাঙ্গনে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা- তুলে ধরার পাশাপাশি সেবা প্রদানকারী ৫৫টি স্টলের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১ম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগতে ২য় এবং মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে ৩য় ঘোষনা করে পুরষ্কৃত করা হয়। এ ছাড়া মেলায় অংশ গ্রহনকারী সকল প্রতিষ্ঠানকেও সান্তনা পুরষ্কার দেয়া হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিম রেজা।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, `উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ` এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ৪র্থ উন্নয়ন মেলার পুরষ্কার বিতরণী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ আয়োজন শেষ হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজার সভাপতিত্বে ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জীবননগর থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ গনি মিয়া, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা খাতুন, মেডিকেল অফিসার হেলেনা আক্তার নিপা, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মেহেদী হাসান, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার ফরহাদুর রেজা, প্রকল্প অফিসার শামনুর রহমান, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ বাবুসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধাসহ সাংবাদিকবৃন্দ। এবারের উন্নয়ন মেলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রম ও সরকারের নানামুখী অনুষ্ঠানে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে ৪০টি প্রতিষ্ঠানের স্টল অংশ নেয়। ৪০টি স্টলের মধ্যে উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ১ম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কৃষি অফিস যৌথভাবে ২য় এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও প্রাণী সম্পদ অফিস যৌথভাবে ৩য় স্থান অধিকার করায় পুরষ্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া মেলায় অংশগ্রহনকারী ৪০টি স্টলের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে শুভেচ্ছা পুরষ্কার ও কুইজ প্রতিযোগিতা অংশগ্রহনকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার দেয়া হয়। শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানিয়েছে, মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মেহেরপুর শহীদ ড. সামসুজ্জোহা পার্কে তিন দিনব্যাপী ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা শেষ হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে জেলা প্রশাসক মোহম্মদ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন স্টল প্রতিনিধিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন। পরে স্টল প্রতিনিধিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে সাধারণ গ্রেডে ১ম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, ২য় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ৩য় মেহেরপুর পৌরসভা। সেবাদান হিসেবে ১ম কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২য় সিভিল সার্জন অফিস, ৩য় পুলিশ বিভাগ এবং উন্নয়ন খাতে ১ম মেহেরপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিস, ২য় সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ৩য় জেলা পরিষদ। এছাড়াও অন্যান্য সকল স্টলকে শুভেচ্ছা পুরষ্কার প্রদান করা হয়। এর আগে সন্ধ্যা থেকে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর পরিবেশনায় জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তানিম মাহমুদের এক সঙ্গীত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উন্নয়ন মেলার সমাপনীর এ দিনে বিভিন্ন শ্রেণীর নারী-পুরুষের উপচে পড়া বিশেষ করে বিকাল থেকে বাড়তে থাকে।
এদিকে, মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার সমাপনী দিনে ‘শিক্ষিত জাতি সমৃদ্ধ দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও কুইজ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে শহীদ ড. সামসুজ্জোহা পার্কে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক খায়রুল হাসানের সভাপতিত্বে মূল প্রতিপাদ্যের উপর বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান মালেক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর পৌর কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল আযীম, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অলোক কুমার দাস, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম প্রমূখ। পরে সেখানে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
মুজিবনগর অফিস জানিয়েছে, বিশ্ব আজকে বাংলাদেশকে সম্মান করছে। বাংলাদেশ আগের থেকে বর্তমানে অনেক উন্নত হয়েছে। এ দেশে দরিদ্রতার হার কমে বর্তমানে শতকরা ৪৪ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। কোন মানুষকে আজ না খেয়ে থাকতে হচ্ছে না। মুজিবনগরে ৩ দিনব্যাপী ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার সমাপনী দিনে অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সকল কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষার হার অনেক বেড়েছে। কোন শিক্ষার্থীকে এখন বই কিনতে হচ্ছে না। বছরের প্রথম দিনেই সকল শিক্ষার্থীরা নতুন বই পাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে জনগণকে ২৯ প্রকার বিনামূল্যে ঔষধ দিচ্ছে। এছাড়া মুজিবনগরে আগামীতে রেল সংযোগ, আইটি পাক তৈরি করা হবে। যেটা মুজিবনগর বাসীর জন্যে একটি গর্ভের বিষয়। মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুজিবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাশেম, মহাজনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু, মোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, দারিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুল বারী বকুল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার আনিসুজ্জামান খান, সাব রেজিষ্ট্রার সাদিকুর ইসলাম তালুকদার প্রমূখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার কু-ু। পরে উন্নয়ন মেলা যাচাই কমিটির নির্বাচনে ব্যানার, ফেস্টুন ও উন্নত সেবা প্রদানকারী হিসাবে মুজিবনগর থানা ১ম বিজয়ী নির্বাচিত হয়। এর আগে এমপি ফরহাদ হোসেন স্টল পরিদর্শন করেন।
