ছবির ক্যাপশন:
সন্দেহভাজন একজন আটক : এলাকায় থমথমে পরিবেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চোরাকারবারীসহ একাধিক অপকর্মের ভাগিদার গরুর ব্যবসার পার্টনার আপন বন্ধুর স্ত্রীর সাথে পরকিয়ার প্রেমের বলি বোমার আঘাতে নিহত কালুর লাশের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বিকাল সাড়ে ৫টায় পীরপুরকুল্লা গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। প্রেমিকা খাদিজাসহ এ ঘটনার মাস্টার মাইন্ডরা পলাতক থাকলেও এজাহারভুক্ত এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। থানায় মামলা হলেও এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজমান।
জানা যায়, দীর্ঘ আড়াই বছর ওঁৎ পেতে থেকে নিজ স্ত্রীর সাথে পরকিয়ার প্রতিশোধ নিতে বোমা হামলা চলিয়ে বন্ধু কালুকে হত্যার পর ভেগে যাওয়া স্ত্রী খাদিজাকে নিয়ে পালিয়েছে আজিজুল ইসলাম পেঙ্গা। গত বুধবার সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকা-ের পর নিহত কালুর পিতা কিতাব আলী বাদি হয়ে আজিজুল ইসলাম পেঙ্গাসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে দামড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার দিন গভির রাতে সন্দেহভাজন এজাহার নামীয় আসামী মুন্সিপুর গ্রামের ওয়াজ শেখের পুত্র রমজান আলীকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মাঠের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে উপর্জপূরি বোমা হামলায় নিহত কালুর লাশ গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়। পরে ময়না তদন্ত শেষে বিকাল ৫টার দিকে নিজ গ্রাম পীরপুরকুল্লা গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়। এদিকে এ হত্যাকা-ের ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, দামুড়হুদা উপজেলার পীরপুরকুল্লা গ্রামের লাদেন মিয়ার ছেলে আজিজুল ইসলাম পেঙ্গা (৪৫) ও কিতাব আলীর ছেলে কালুর সাথে চোরাকারবারীসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-সহ গরুর ব্যবসা সূত্রে বন্ধুত্ব হয়। সেই সূত্র ধরে কালু আজিজুলের বাড়িতে যাতায়াত করতে করতে আজিুলের স্ত্রীর খাদিজা খাতুন (৩০) সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এ প্রেমের সূত্রে গত প্রায় দু’বছর আগে খাদিজাকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায় কালু। এময় তারা বিয়ে করে একসাথে সংসার শুরু করে। এরপর পেঙ্গা তার সন্তানদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ শ্বশুর বাড়ি ইন্ডিয়াতে পাড়ি জমায়। এর মাঝে পালিয়ে যাওয়া স্ত্রীর মায়া ত্যাগ করতে না পেরে প্রায়ই পীরপুরকুল্লা গ্রামে কালুর বাড়ির আশে পাশে ঘোরাঘুরি করতো খদিজাকে একবার দেখার জন্য। এ ঘটনায় কালুর সাথে আজিজুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের মাঝে পেঙ্গাসহ তার সহযোগীরা কালুর বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে কালুকে।
ওই সময় উক্ত ঘটনার মামলায় আসামীরা সকলে আটক হয়। পরে সম্প্রতি তারা জামিনে মুক্ত হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে পরিকল্পনা করে কালুকে হত্যার এমনটাই শোনা যায় গ্রামের মানুষের মুখে। গত পরশু সন্ধ্যা ৭টার দিকে কালু মাঠের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিল। এসময় পীরপুরকুল্লা গ্রামের বটতলার নিকট কালু পৌঁছালে একদল ওঁৎ পেতে থাকা দৃর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ করে উপর্যুপুরি বোমা নিক্ষেপ করে। বোমার আঘাতে কালু ঘটনাস্থলেই নিহত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সাথে অভিযুক্ত আসামীদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা বাড়িয়ে দেন। ফলে ঘটনার দিন গভির রাতে সন্দেহভাজন এজাহার নামীয় আসামী মুন্সিপুর গ্রামের ওয়াজ শেখের পুত্র রমজান আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যহত আছে বলে জানায় পুলিশ।
