ছবির ক্যাপশন:
মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে আবুল : রাজশাহীতে ভর্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক: দর্শনা সিংনগরের গ্রাম্য চিকিৎসক এমরুল হোসেনের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে আবুল হোসেন নামের এক রোগী। ঘটনাটি গত শনিবার রাতে দর্শনার সিংনগর গ্রামে ঘটে। গুরুত্বর অসুস্থ্য অবস্থায় আবুল হোসেনকে ভর্তি করা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
জানা গেছে দর্শনার পার্শ্ববর্তী জীবননগর উপজেলার সিংনগর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আ. মাবুদ হোসেনের ছেলে একাধিক ডিগ্রীর ভারে ভারাক্রান্ত ডিপ্লোমা চিকিৎসক ডা. মো. এমরুল হাসান এলাকায় নিজেকে বড় মাপের চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা। তার অপচিকিৎসার কারণে একই গ্রামের পুরাতন মসজিদপাড়ার মৃত খয়িম ম-লের ছেলে আয়ুব আলী এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত শনিবার রাত ১টার দিকে খয়িম ম-ল নিজ বাড়িতে মূত্রনালী আটকে গিয়ে যন্ত্রনায় ভুগছিল। এসময় গ্রামের সবজানতা চিকিৎসক এমরুল হাসানের স্মরনাপন্ন হন অসুস্থ আয়ুব আলীর পরিবারের লোকজন। বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসা হয় চিকিৎসক ডা. এমরুল হাসানকে। তিনি রোগীর পুরুষাঙ্গে ক্যাথেটিন পাইপ পরিয়ে দেন। এর কিছুক্ষন পর শুরু হয় আয়ুব আলীর যন্ত্রণা। পরবর্তীতে রাত ৩টার দিকে নেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার পর রোগী আয়ুব আলীর করা হয় অপারেশন। এ অপারেশনের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গের মধ্যে ঢুকে থাকা ক্যাথেটিন পাইপ বের করা হয়। তবে অপারেশন সাকসেস হলেও গ্রামের পল্লী চিকিৎসক সবজানতা এমরুল হাসানের চিকিৎসায় রোগীর সাথে ক্যাথেটিন পড়ানো স্থান হতে রক্ত ঝরা বন্ধ করতে পারেনি। পরে গত রোববার উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে রোগী আয়ুব আলী গ্রাম্য চিকিৎসক এমরুল হাসানের অপচিকিৎসার কারণে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে হাসাপাতালের বিছানায় শুয়ে।
এদিকে গ্রামের সামান্য একজন চিকিৎসক নিজেকে বড় মাপের চিকিৎসক পরিচয়ে গ্রামের একেরপর এক চালিয়ে যাচ্ছে অপচিকিৎসা। নিজের নাম জানান দিতে সাইনবোর্ডে লেখা হয়েছে ডা. মো. এমরুল হাসান (ডিএমএফ-ঢাকা, বিএমসি-অনার্স) তিনি সেখানে আল্ট্রা সনোগ্রামসহ শিশু রোগ, গ্যাস দেওয়া, ডায়রিয়া, স্ট্রোক, কানের রোগ, মাথার রোগ চিকিৎসায় অভিজ্ঞ। এছাড়া তিনি যে সমস্ত রোগের চিকিৎসা দেন, তার মধ্যে-ডায়াবেটিস পরিক্ষা, মুসলমানি দেয়া, বিষপান করা রোগীর বিষ ওঠানো। এমন চিকিৎসকের খপ্পরে পড়ে এলাকার সহজ সড়ল সাধারন মানুষের অনেক জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। অনেককে হারাতে হয়েছে জীবন। তাই সবজানতা চিকিৎসক এমরুল হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন খাইরুল আলমের সুদৃষ্টি কামনা করেছে এলাকার সচেতনমহল।
