খাড়াগোদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে

আপলোড তারিখঃ 2018-09-23 ইং
খাড়াগোদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ছবির ক্যাপশন:
শ্লীলতাহানীর অভিযোগ : তদন্ত কমিটি গঠন তিতুদহ প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা সদরের খাড়াগোদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী শিক্ষক আফজাল ওরফে খোকনের বিরুদ্ধে উঠা শ্লীলতাহানির ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে এবং আগামী ৫ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভূক্তভোগী মেয়ের অভিভাবকদের ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে লাইব্রেরী শিক্ষক আফজাল মর্মে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্কুলের চেয়ার ও বেঞ্চ ভাঙচুর করেছে উত্তেজিত গ্রামবাসী।এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক আফজালের শাস্তির দাবিতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেছে ওই ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর পিতা। জানা যায়, শিক্ষক সে তো সমাজের বিবেক তবে এমনও কিছু অসাধু শিক্ষক নামের কলঙ্ক আছে যারা এই মহান পেশাকে সারাবিশ্বের বুকে কলঙ্কিত করে। তারই সঠিক প্রমাণ আফজাল। খাড়াগোদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী শিক্ষক আফজাল ওরফে খোকন। ২০১১ সালে এই বিদ্যালয়ে নিয়োগ পায় আফজাল। এরপর থেকে একের পর এক অভিযোগ উঠে আসে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ২০১২ সালে ঝিনাইদহের মোহম্মদপুর গ্রামের বিশারতের ৭ম শ্রেণী পড়ুয়া কন্যার সাথে শ্লীলতাহানীর জন্য ১ বছরের কারাযাপন করেন তিনি। এরপরেও সে তার চরিত্র একটুও পরিবর্তন করেনি। গত বুধবার স্কুলে প্রায়ভেট পড়ানোর সময় ৭ম শ্রেণীর (ক) শাখার এক ছাত্রীর শরীরের বিভিন্নস্থানে জোরপূর্বক স্পর্শ করে ওই শিক্ষক আফজাল। ঘটনাটি পাশে থাকা সহপাঠীদের চোখে পড়ার সাথে সাথে ওই স্কুলছাত্রী চিৎকার করে এবং সকলের সাথে বিষয়টি বলে। পরে বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানতে পারলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ওই ছাত্রীকে ডেকে সব শোনে। বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য আফজালসহ কয়েকজন শিক্ষক ওই স্কুলছাত্রীর হাতে ধরে যা ঘটেছে কাউকে না বলার জন্য বলে কিন্তুু বাড়িতে পৌঁছে ওই স্কুলছাত্রী তার বাবা জিনারুলকে ঘটনাটি ঘটনাটি বলে দেয়। ওই স্কুলছাত্রীর গ্রাম তেঘরীসহ আশেপাশের গ্রামের অভিভাবক আফজালের ওপর প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে। এরই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকশ অভিভাবক ও কয়েকটি গ্রামের জনগন ও ওই স্কুলছাত্রীর পিতা জিনারুল স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করে। পরে গ্রামবাসী অভিযুক্ত আফজালের বিচারের দাবিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে। এসময় কয়েকটি ছাত্র ভাংচুর ঠেকাতে গেলে তারা গণপিটুনি খায়। পরে শিক্ষার্থীরা আলমসাধুযোগে অভিযোগ করতে যায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কাছে যায়। পরে ঘটনাটির সংবাদ চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় গেলে সদর থানা ওসি (তদন্ত) আ. খালেক দ্রুত তিতুদহ ক্যাম্পে পৌঁছে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও ভাংচুর অভিযুক্ত কয়েকজনকে ডাকে এবং তিনি বলেন, যারা এই কাজের সাথে যুক্ত হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করেছে তারা যদি ক্ষতিপূরণ না দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ও ওই ছাত্রীর অভিযোগের মিমাংসা করতে বলা হয়। তিনি আরো বলেন, যদি উপযুক্ত সমাধান না পাওয়া যায় বা দু’পক্ষ যদি বিচার না মানতে চায় তাহলে আইনের আওতায় এসে সঠিক বিচার পাবে বলে জানান তিনি। `` গত শুক্রবার সকাল ১০টার সময় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যগণ ও উভয়পক্ষের অভিভাবক মিলে একটি সালিসে বসেন বিদ্যালয়ের অফিসরুমে। সালিসে অভিযুক্ত আফজালকে বিদ্যালয় হতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করে এবং এ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এদিকে এলাকাবাসী জানায়, এর আগেও আফজাল এমন কর্মকা- করে এবং পার পেয়ে যায়। গোপন সংবাদে জানা গেছে, মেয়েপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের মোটা অংকের অর্থ দিয়ে আফজাল সব ম্যানেজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ হবে বলে জানা গেছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)