ছবির ক্যাপশন:
বর্তমানে অভিভাবকরা শিক্ষার মানের কথা না ভেবে পরিমাণের কথা ভাবছে
নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমানে অভিভাবকরা শিক্ষার মানের কথা না ভেবে পরিমানের কথা ভাবছে। ফলে ওই সকল অভিভাবকদের সন্তানেরা লেখাপড়া শেষ করে জীবনযুদ্ধে অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়ছে। আর যারা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠছে তারই কেবল চুড়ান্ত সাফল্য লাভ করছে।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এসএসসি, এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয় সমমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্লানিং, নেতৃত্ব বিকাশ ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ এসব কথা বলেন।
নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আমি এসএসসি পরীক্ষাতে আমার উপজেলা থেকে পুরষ্কার পেয়েছিলাম। সে সময় আমাকে সাড়ে ৩শ’ টাকা পুরষ্কার দেয়া হয়েছিলো। ঢাকাতে থাকার কারণে আমার প্রাপ্ত পুরষ্কারটা ঢাকাতে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। হয়তো ওটাই একটা কারণ আমার আজকের অবস্থানে আসার। এছাড়াও আমি ভেবেছিলাম, আমি হয়তো অনেক বড় কিছু হয়ে গেছি। আমার এই ভাবনা বা ভাবটা আমাকে এ অবস্থানে আনতে পেরেছে। তবে ওই ভাবটা থেকে বের হতে পারলে জীবনে হয়তো আরো বড়ো বা অন্য কিছু হতে পারতাম। আমার বয়সের অনেক আজ আরো উচ্চ পর্যায়ে আছে। তবে সে সময়ের শিক্ষা আর বর্তমানের শিক্ষার মানের ব্যাপক পার্থক্য আছে। সে সময় আমরা ভালো পোশাক পেতাম না, ভালো খাবার পেতাম না, কাধে ব্যাগ ছিলো না, আমাদের মোবাইলফোন ছিলো না, হাতে ডিএসএলআর ক্যামেরাও ছিলো না, অনেকটা পথ পায়ে হেটে স্কুলে যেতে হতো। তবে সে সময় আমাদের লেখাপড়ার মানটা অনেক ভালো ছিলো। আমি যা শিখেছি তা ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত। সেটা ছিলো সলিট।
এদিকে বর্তমানে মায়েরা বাবারা নির্দিষ্ট করে বলে দেন জিপিএ-৫ বা এর থেকেও বেশি পেতেই হবে। আর সে জন্য তারা ছোটে কোচিং এর দিকে। এসময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নিজের সন্তানদের জীবন রক্ষার জন্য সাঁতার শেখাবে না অথচ কোচিং শেখাতে ঠিকই পাঠাবে। সাঁতার না জানার কারনে তাদের সন্তান পানিতে ডুবে যেতে পারে সেদিকে তাদের লক্ষ্য নেই। অন্যদের থেকে তাদের সন্তানের নাম্বার বেশি থাকতেই হবে সেই প্রতিযোগীতাই সকলে ব্যস্ত। অথচ এসকল শিক্ষার্থীদের মাথাই কিছুই নেই। বর্তমানে এধরনের শিক্ষার্থীদের অনেকে জিপিএ মানে কি তাও জানে না। আমাদের বিনয়ী হতে হবে। লেখাপড়া যা শিখছি সেটা যেনো ভালোভাবে শিখি। মাস্টার্স পাশ করে গোল্ড মেডেলিস্ট হয়ে কোনো লাভ হবে না। গোল্ড মেডেল একটা প্রতীকী বিষয়। যারা গোল্ড মেডেল বা আর্থিক অনুদান পাবে তাদের মনে রাখতে হবে, বড় হতে হলে নিজেদেরকে গোল্ড হিসেবে তৈরি করতে হবে। এই বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে যারা এসেছো তারা প্রত্যেকেই ভালো শিক্ষার্থী। আর তা না হলে এখানে আসতে পারতে না। ফলে রেজাল্টের উপর ভিত্তি করেই এখানে এসেছো। তুমিই ভালো জানো তোমার ভিতরে কি আছে। সে অনুযায়ী নিজেকে তৈরি কর।
আমাদের দেশের ১৭টা গোল্ডে’র কথা উল্লেখসহ খবরের কাগজ পড়ার পরামর্শদিয়ে এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, জানতে হলে, শিক্ষতে হলে, কোচিং এর দোরকার নেই, ঘরে বসে ফ্রিতে শিক্ষতে পারবা। এসময় তিনি বাংলাদেশী বংশোদ্ভত সালমান খানের একটি মার্কিন অলাভজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খান একাডেমির কথা উল্লেখ করেন, যে প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বের এক নম্বর টিউটোরিয়াল প্রতিষ্ঠান বলা যায়। তিনি বলেন, খান একাডেমিতে তুমি সবকিছু শিখতে পারবা। এর জন্য তোমাকে মাসে মাসে কোচিং করার দরকার হবে না।
একান্মবর্তি পরিবারের সুফলের কথা উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের জানান, একটা সময় ছিলো আমরা আতœীয়স্বজন মিলে একসাথে বসবাস করতাম। ঘরের মেঝেতে এক সাথে ঘুমাতাম। সে সময় আমাদের গোপনীয় কিছু ছিলো না। কিন্তু বর্তমানে ছোট ছোট বাচ্চাদের আলাদা আলাদা রুম। ওই রুমের ভিতর মোবাইল কম্পিউটার নিয়ে সে কি করে তার কনো খবর রাখে না তাদের অভিভাবকরা।
২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ গঠন হবার পর এই প্রথম কৃতি শিক্ষার্থীদের গোল্ড মেডেল প্রদান করলো চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী চুয়াডাঙ্গা হানুরবাড়াদী গ্রামের সানজিদা খাতুন ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ছাত্র চুয়াডাঙ্গা আমিরপুর গ্রামের গোলাম মোর্শেদকে গোল্ড মেডেল প্রদান করাসহ মোট ১শ’ ৭৬ জনকে অর্থ বৃত্তি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশাদুল হক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসীমুল বারী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক। উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজর সোহেল হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বদরগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা’র ছাত্র রুহুল আমিন, পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ কুমার শাহা।
এদিকে বর্তমানে মায়েরা বাবারা নির্দিষ্ট করে বলে দেন জিপিএ-৫ বা এর থেকেও বেশি পেতেই হবে। আর সে জন্য তারা ছোটে কোচিং এর দিকে। এসময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নিজের সন্তানদের জীবন রক্ষার জন্য সাঁতার শেখাবে না অথচ কোচিং শেখাতে ঠিকই পাঠাবে। সাঁতার না জানার কারনে তাদের সন্তান পানিতে ডুবে যেতে পারে সেদিকে তাদের লক্ষ্য নেই। অন্যদের থেকে তাদের সন্তানের নাম্বার বেশি থাকতেই হবে সেই প্রতিযোগীতাই সকলে ব্যস্ত। অথচ এসকল শিক্ষার্থীদের মাথাই কিছুই নেই। বর্তমানে এধরনের শিক্ষার্থীদের অনেকে জিপিএ মানে কি তাও জানে না। আমাদের বিনয়ী হতে হবে। লেখাপড়া যা শিখছি সেটা যেনো ভালোভাবে শিখি। মাস্টার্স পাশ করে গোল্ড মেডেলিস্ট হয়ে কোনো লাভ হবে না। গোল্ড মেডেল একটা প্রতীকী বিষয়। যারা গোল্ড মেডেল বা আর্থিক অনুদান পাবে তাদের মনে রাখতে হবে, বড় হতে হলে নিজেদেরকে গোল্ড হিসেবে তৈরি করতে হবে। এই বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে যারা এসেছো তারা প্রত্যেকেই ভালো শিক্ষার্থী। আর তা না হলে এখানে আসতে পারতে না। ফলে রেজাল্টের উপর ভিত্তি করেই এখানে এসেছো। তুমিই ভালো জানো তোমার ভিতরে কি আছে। সে অনুযায়ী নিজেকে তৈরি কর।
আমাদের দেশের ১৭টা গোল্ডে’র কথা উল্লেখসহ খবরের কাগজ পড়ার পরামর্শদিয়ে এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, জানতে হলে, শিক্ষতে হলে, কোচিং এর দোরকার নেই, ঘরে বসে ফ্রিতে শিক্ষতে পারবা। এসময় তিনি বাংলাদেশী বংশোদ্ভত সালমান খানের একটি মার্কিন অলাভজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খান একাডেমির কথা উল্লেখ করেন, যে প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বের এক নম্বর টিউটোরিয়াল প্রতিষ্ঠান বলা যায়। তিনি বলেন, খান একাডেমিতে তুমি সবকিছু শিখতে পারবা। এর জন্য তোমাকে মাসে মাসে কোচিং করার দরকার হবে না।
একান্মবর্তি পরিবারের সুফলের কথা উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের জানান, একটা সময় ছিলো আমরা আতœীয়স্বজন মিলে একসাথে বসবাস করতাম। ঘরের মেঝেতে এক সাথে ঘুমাতাম। সে সময় আমাদের গোপনীয় কিছু ছিলো না। কিন্তু বর্তমানে ছোট ছোট বাচ্চাদের আলাদা আলাদা রুম। ওই রুমের ভিতর মোবাইল কম্পিউটার নিয়ে সে কি করে তার কনো খবর রাখে না তাদের অভিভাবকরা।
২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ গঠন হবার পর এই প্রথম কৃতি শিক্ষার্থীদের গোল্ড মেডেল প্রদান করলো চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী চুয়াডাঙ্গা হানুরবাড়াদী গ্রামের সানজিদা খাতুন ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ছাত্র চুয়াডাঙ্গা আমিরপুর গ্রামের গোলাম মোর্শেদকে গোল্ড মেডেল প্রদান করাসহ মোট ১শ’ ৭৬ জনকে অর্থ বৃত্তি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশাদুল হক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসীমুল বারী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক। উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজর সোহেল হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বদরগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা’র ছাত্র রুহুল আমিন, পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ কুমার শাহা।
