নির্বাচনকালীন সরকার

আপলোড তারিখঃ 2018-09-13 ইং
নির্বাচনকালীন সরকার ছবির ক্যাপশন:
ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ: আলাদা রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি সমীকরণ ডেস্ক: জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ অক্টোবর। এর আগেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। সে প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত সরকারের। কিন্তু কেমন হবে এ সরকার- এ নিয়ে নানা প্রশ্ন নানা মহলে। সরগরম দেশের রাজনীতি। বিশেষ করে এই সরকার প্রশ্নে কী ভাবছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি? নির্বাচনকালীন সরকারে টেকনোক্র্যাট কোটায় কোনো মন্ত্রী না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ সংসদে নেইÑ এমন কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবে না। ফলে এই সরকারে বিএনপি বা সংসদের বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো প্রতিনিধি থাকছে না। এমনকি নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে কোনো ধরনের সংলাপ বা আলোচনায় যেতেও নারাজ ক্ষমতাসীনরা। সরকার ও দলের নীতি নির্ধারকরা জানিয়েছেন, নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান থেকে কোনোরকম ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ। এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহায়ক সরকারের আলাদা রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যের নেতারা। রূপরেখার কাজ শেষ হলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে সেটি তুলে দেওয়া হতে পারে। রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধও জানাতে পারে বিএনপি। আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রমতে, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিএনপি যে প্রস্তাব দিয়েছে তা মানা সম্ভব না। অর্থাৎ সংসদের বাইরে থাকায় বিএনপি কিংবা অন্য কোনো দলের কাউকে টেকনোক্র্যাট কোটায় নির্বাচনকালীন সরকারে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর ২৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হয়েছিল। সেখানে টেকনোক্র্যাট কেউই ছিলেন না। যারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন, তাদের সবাই ছিলেন নবম সংসদের এমপি। এর মধ্যে মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টি থেকে ছয়জন এবং ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ থেকে একজন করে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাকি ২১ জনই ছিলেন আওয়ামী লীগের। তবে গত নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা ১১ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের একজনও এমপি ছিলেন না। গত নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নিতে সংসদে থাকা বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলটি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এমনকি শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও তার মিত্ররা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনও করে। ফলে এবার আর নির্বাচনী সরকার নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগ কোন ধরনের সংলাপ করবে না বলে জানান দলের নেতারা। সরকার ও দলের নীতি নির্ধারকরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছানুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। এই সরকারের আকার ছোট, না বড় হবে- সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত নেবেন। এ ব্যাপারে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সরকার ও দলের মনোভাব তুলে ধরেন। গতকাল তিনি বলেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। এ সরকারে বাইরের কেউ আসবে না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি, টেকনোক্র্যাট কেউ আসবে না, মন্ত্রিসভার আকার ছোট ও গেলবারের কাছাকাছি হবে। ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, জাতীয় পার্টি তাদের আরো দুই-একজন অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছে। সেটাও প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার, তিনি কতটা বিবেচনা করবেন, সেটা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এগুলো আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে আছে। দলীয় সূত্রমতে, নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় চূড়ান্ত। এই সরকারে পাঁচটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অর্থাৎ বিদায়ী সংসদ নেতার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে, নির্বাচনকালীন সরকারে মন্ত্রিসভার আকার খুবই ছোট হবে, এই সরকার শুধু রুটিন কাজ করবে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের কাছে চলে যাবে এবং নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান কাজ হবে নির্বাচন কমিশনকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করা। এই সরকারের মন্ত্রিসভার সংখ্যা ও ব্যক্তিদের বাছাই করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকারে বেশ কিছু চমক আনতে পারেন এবং নির্বাচনকালীন সরকারের এই রূপরেখা সকলে পছন্দ করবে বলে মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতারা। অপরদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহায়ক সরকারের আলাদা রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যের নেতারা। রূপরেখার কাজ শেষ হলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে সেটি তুলে দেওয়া হতে পারে। রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধও জানাতে পারে বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নানা বাধাবিপত্তি দেখতে পেলেও নির্বাচনের পথেই হাঁটছে বিএনপি। দলটির নেতারা মনে করছেন, জনমত তাদের পক্ষে থাকায় সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চাইছে। কিন্তু ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচন করার সুযোগ সরকারকে দিতে রাজি নন তারা। সরকারি দল থেকে ইতোমধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও দাবিকৃত সহায়ক সরকারের রূপরেখা বিএনপি এখনো প্রকাশ করেনি। দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন রূপরেখা প্রায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বৃহৎ জাতীয় ঐক্য গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায়, সেই রূপরেখা দিতে আরো সময় নিচ্ছে বিএনপি।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে আগামী মাসে। আর চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে নির্বাচন। দেশের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি দীর্ঘদিন যাবৎ নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি রাজনীতির তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্যও নির্বাচন সামনে রেখে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তাব করেছে। বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি নির্দলীয় ‘সহায়ক সরকারের’ প্রস্তাবসংবলিত রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শেষ করেছে। সেটি এখন জোট নেতাদের মতামত ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের হাতে তুলে দিতে পারে। বিএনপির প্রস্তাবে, সংবিধান সংশোধন করে কিংবা সংশোধন ছাড়াই ওই সরকার গঠনের কথা থাকবে। দুই প্রস্তাবেই হয় প্রধানমন্ত্রী পদে নিরপেক্ষ কেউ অথবা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করার বিষয়টি থাকছে। অথবা নির্বাচনকালীন প্রধানমন্ত্রীকে ছুটিতে পাঠানোর প্রস্তাবও থাকছে। এই সহায়ক সরকার হবে তিন মাস মেয়াদের। রাষ্ট্রপতির অধীনে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় স্বরাষ্ট্র ও সংস্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব থাকবে। রাষ্ট্রপতি নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের এসব মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেবেন। রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকারের’ কাঠামো চূড়ান্ত করতে পারেন। তবে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চাইছে জাতীয় ঐক্যের দলগুলো। এ ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে একটি রূপরেখাও তৈরি করা হচ্ছে। সংবিধান মেনে কীভাবে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যায় সে বিষয়ে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে রূপরেখা তৈরি করছেন কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী। এই রূপরেখা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত ও পরিচালিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার। রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে ড. কামাল ও তার সমমনাদের কোনো আপত্তি থাকবে না বলেই মনে করা হয়। জাতীয় ঐক্যের রূপরেখা অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সরকারে বর্তমান দলীয় প্রধানমন্ত্রী অকার্যকর হয়ে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর হাতে কোনো দফতর বা প্রায়োগিক কোনো ক্ষমতা থাকবে না।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)