রাতে চুয়াডাঙ্গা শহরে নেমে আসে হিমশীতল আতঙ্ক

আপলোড তারিখঃ 2018-09-10 ইং
রাতে চুয়াডাঙ্গা শহরে নেমে আসে হিমশীতল আতঙ্ক ছবির ক্যাপশন:
হুসাইন মালিক: চুয়াডাঙ্গা শহরের অলিগলিতে রাত নামলেই নেমে আসে হিমশীতল আতঙ্ক। পথচারিসহ পুলিশ-সাংবাদিক কেউই রেহাই পান না এদের কবল থেকে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোই এদের দলবদ্ধ অবস্থান সবাইকে ভীতসন্ত্রস্থ করে তুলেছে। পত্রিকার পাতায় বার বার সংবাদ ছাপিয়েও এর কোন প্রতিকার মেলেনি। ক’দিন আগেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থিত বিআরটিএ অফিসের সামনে এদের সংঘবদ্ধ আকস্মিক আক্রমণে ৭/৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করেছেন। খবর নিয়ে জানা গেছে তারা সুস্থ হয়ে ভুল করেও রাত হলে ওই পথ মাড়ান না। প্রয়োজনে ভূরকুষ্ট অন্ধকার মাথায় নিয়ে ঘুরপথেই বাড়িতে ফেরেন। অথচ অনেকের বাড়ী ফেরার শর্টকাট পথগুলো এদের ভয়ে এড়িয়ে যেতে হয়। প্রতিনিয়ত গভীর রাতে এদের বিশ্রী শব্দের ডাকাডাকিতে আরামপ্রিয় শহরবাসীর শান্তির ঘুমও যে হারাম হয়, সেটা নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। এছাড়া নিধন না থাকায় দিদ দিন এদের বংশ বৃদ্ধিতে মহাবিপাকে রয়েছে সাধারন মানুষ। রাতে যদি আপনি চুয়াডাঙ্গা শহরের কোর্ট মোড়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রবেশ মুখে, প্রেসক্লাবের সামনে, পান্না (রুপছায়া) সিনেমা হল রোড, সদর হাসপাতালের গেট, শান্তিপাড়া মোড়, একাডেমি মোড়, রেল বাজার, পৌরসভার মোড়, কবরী রোডের প্রবেশ মুখ, টিএ্যান্ডটি মোড়, রেলস্টেশন চত্বর, মসজিদপাড়ার মোড়, পৌর কলেজ মোড়, শেকরাতলা মোড়, ইসলামপাড়া মোড়, শহরের মধ্যে অবস্থিত দুটি পেট্রোল পাম্পের শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ঘোরেন তাহলে এদের দলবদ্ধ অবস্থান আপনার চোখে পড়বে। এমনকি এরা আপনার উপর হামলিয়ে পড়বে। হয়তো আপনাকে দৌঁড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে নয়তো সোজা হাসপাতালের জরুরী বিভাগ। পাঠকদের আরেকটি কথা না বললেই নয়, এদের আক্রমণের ভয়ে নিজেদের জুতা-স্যান্ডেল সাবধানে রাখাসহ আমি কিম্বা আমার অফিসের কেউই রাতে খুব প্রয়োজন ছাড়া বের হইনা। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার পৌর পিতা ওবাইদুর রহমান চৌধূরী জিপুকে বার বার অবহিত করা হলেও তিনি মহামান্য আদালতের আদেশ এর কাছে অসহায়। আদালতের আদেশ অমান্য করে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার উপায় যে তাঁর নেই! কারণ ৪ বছর আগে ঢাকার একটি পরিবেশবাদী সংগঠন এদের নিধন বন্ধে হাইকোর্টে রিট করলে সরকার সারাদেশের পৌর কর্তৃপক্ষকে এদের নিধন বন্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাঠক আপনারা যারা এদের কবলে পড়েছেন তারা হয়তো বুঝতে পারছেন, আমি কাদের অত্যাচারের কথা আপনাদের কাছে তুলে ধরছি? হ্যা, আমি চুয়াডাঙ্গা শহরের রাতে ঘুরে বেড়ানো বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর উৎপাতের বিষয়ে লিখছি এবং প্রতিকার কামনা করছি। অবশ্যই এই শহরের রাতজাগা মানুষগুলো এই কুকুর বাহিনী সম্পর্কে আগে থেকে ওয়াকিবহাল রয়েছেন। তবে শহরবাসীর প্রত্যাশা, কুকুরের আক্রমনের বিভীষিকা থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে হয় শহরকে কুকুরমুক্ত করতে হবে, নয়তো কুকুর পূনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। উল্লেখ্য, বেশ কয়েক মাস চুয়াডাঙ্গা শহরজুড়ে অসংখ্য কুকুর কখনো একলা কখনো দলবদ্ধভাবে রাতে চলাচলকারী টহল পুলিশ, কর্তব্যরত সাংবাদিকসহ পথচারীদের উপর অযথাই হামলিয়ে পড়ে। এতে কুকুরের কামড়ে অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, আবার অনেকে দৌঁড়ে কুকুরের কবল থেকে রক্ষা পেয়ে রাতের চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করছেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)