জাহিদ বাবু/মিঠুন মাহমুদ: জীবননগর পৌর শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের সড়ক দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোর অটোভ্যান চালকরা। যে সময় বই খাতা হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সে সময় তারা যাত্রী টেনে অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত। শুধু তাই নয়, ব্যাটারী চালিত অটোভ্যানগুলো দ্রুতগতির হওয়ার কারণে এইসব অদক্ষ শিশু-কিশোর চালকরা প্রায়ই দুর্ঘটনার পতিত হচ্ছে। ঘটছে প্রাণহানীর ঘটনাও, প্রতিনিয়িত বাড়ছে শিশুশ্রম। শিশুশ্রম আইনত নিষিদ্ধ জেনেও যাত্রীরা এইসব যানবাহনে যাতায়াত করছেন। পারিবারিক শাসন, অভাব অনাটন আর প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় শিশুরা স্কুলমুখী না হয়ে তারা অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জীবননগর প্রধান শহর থেকে, দত্তনগর রোড, সীমান্ত রোড, হাসপাতাল রোডসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়কের উপর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবস্থান করছে এ সমস্ত শিশু-কিশোর অটোভ্যানচালকরা। বড়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা ভ্যানে যাত্রী তুলে অর্থ উপার্জন করছে। অনেকের মুখে মরণ নেশা সিগারেট। কথার ফুলঝুড়িতে যাত্রীদের আকৃষ্ট করায় এরা পারদর্শী। জীবননগর উপজেলার প্রতিটি সড়কে তাদের অবাধ বিচরণ। পারিবারিক বিধি নিষেধ এবং শাসন না থাকায় অটোভ্যান নিয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য বেরিয়ে পড়ছে এইসব শিশুরা। অল্প বয়সে টাকা উপার্জনের ফলে মাদক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তারা।
উপজেলার মনোহরপু ইউনিয়নের ধোপাখালী এলাকায় কথা হয় সাব্বির নামের ১২ বছর বয়সী এক শিশু অটোভ্যান চালকের সাথে। লেখাপড়া না করে ভ্যান চালানোর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সোদা সাপটা উত্তর দিয়ে বলে আমার বাবা অসুস্থ আমি ছাড়া আয় করার আর কেউ নেই। আমি যদি ভ্যান না চালায় তা হলে আমরা কিভাবে খাবো। লেখাপড়ার কথা জানতে চাইলে জানায়, পড়তে কার না মন চাই, সবাই যখন স্কুলে যায় আমারও স্কুলে যেতে মন চাই। জীবননগর ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. ফরহাদ হোসেন রাজু বলেন, দিন দিন যেভাবে শিশু শ্রম বেড়ে চলেছে সবার আগে অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য পারিবারিক শাসন প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যায়, পারিবারিক সমস্যার কারনে অনেক শিশু বিভিন্ন দোকানে কাজকর্ম করে থাকে। তাছাড়া সন্তান কোথায় গেল বা কি করছে এগুলোর দিকে অভিভাবকদের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। তবে শিশুশ্রম বন্ধ করতে হলে প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে, সচেতন মহল শিশুশ্রম বন্ধ, পারিবারিক সচেতনা বৃদ্ধি এবং এগুলো বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
