জীবননগর অফিস: জীবননগর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আবারও উত্তপ্ত শহরবাসী। ছাত্রলীগের সহ-সভাপতিসহ মা বোনকে পিটিয়ে জখম ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পৌরসভার ৯নং ওর্য়াডের চোরপোতা তেতুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যাক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে একদল ব্যক্তি অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে চোরপোতা তেতুলিয়া গ্রামের বদরউদ্দিনের ছেলে জীবননগর পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাজিবকে খুঁজতে আসে এবং রাজিবকে দোকানের সামনে পেয়ে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করে। এ সময় রাজিবের মা রিজিয়া খাতুন (৬০), খালা সুফিয়া খাতুন (৪৫) ও বোন রুবিনা খাতুন (৩২) রাজিবকে নিয়ে যেতে বাধা দিলে তাদেরকে পিটিয়ে আহত করাসহ তার বাড়িতে হামলা করার অভিযোগ উঠেছে জীবননগর ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি অনিক, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লবসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
আহত ছাত্রলীগ নেতা রাজিব অভিযোগ করে বলেন, আমি মঙ্গলবার সন্ধ্যার সময় আমাদের দোকানে বসে ছিলাম। এ সময় জীবননগর ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি অনিক, সম্পাদক বিপ্লব, ছাত্রলীগ নেতা শুভ, মামুন, অমিতসহ ৮-১০ জন ব্যক্তি মোটরসাইকেলযোগে লাঠিশোটা নিয়ে আমার দোকানে আসে এবং আমাকে জোরপূর্বক দোকান থেকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি তাদের সাথে যেতে রাজি না হওয়ায় বিপ্লব আমার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আমার বাড়ি থেকে আমার মা, বোন ও খালা বের হয়ে চিৎকার করলে তারা আমার মা, বোন ও খালাকে মারধর করে এবং আমার বাড়িতে হামলা করে। আমাদের চিৎকারে শুনে স্থানীয় জনগন ছুটে এলে তারা পালিয়ে যায় এবং স্থানীয় জনগন আমাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে জীবননগর ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব জানান, আমার এবং অনিকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছে তা সঠিক নয়। আমরা কেউ তার পরিবারের কাউকে মারধরসহ তার বাড়িতে হামলা করিনি। আর অস্ত্রের যে কথা বলেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেছে বরং আমি ও অনিক বাসস্ট্যান্ডে গেলে ওরা আমাদের উপর হামলা করার চেষ্টা করে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জানিফের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ নেতা রাজিবের উপর হামলার বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা খুব শিঘ্রই বসবো আশা করি অচিরেই এটি সমাধান হবে। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, ছাত্রলীগ নেতাসহ তার পরিবারের সদস্যাদের উপর হামলার বিষয়টি শুনেছি। এটি এমপি মহোদ্বয়কে জানিয়েছি তিনি এটি সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছে। এদিকে দফায় দফায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় গোটা শহরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতিনিয়ত বিকাল হতে না হতেই শহরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মিরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র লাঠি, রড নিয়ে শহরে মহড়া দেওয়ায় বাজারের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ হতবাক।
