ছবির ক্যাপশন:
অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ মোহা. রবিউল ইসলাম বলেছেন, ‘গরীব-দুখী মানুষের মামলার ভার বহনে বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাঁদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সমৃদ্ধ ও সুন্দর এক চুয়াডাঙ্গা চাই।’
আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ে জেলা লিগ্যাল এইড তালিকাভুক্ত প্যানেল আইনজীবীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় জেলা ও দায়রা জজ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা জজ আদালত ভবনের সম্মেলন কক্ষে জেলা ও দায়রা জজ মোহা: রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা ও দায়রা জজ মোহা: রবিউল ইসলাম বিচারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘লিগ্যাল এইড পাওয়া অসহায় মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত ও হয়রানি দূর করতে লম্বা ডেট দেওয়া যাবেনা। এক মাস পর পর ডেট দিতে হবে। ’
জেলা ও দায়রা জজ সভাকে জানান, এখন থেকে প্যানেল আইনজীবীদৈর নাম ও মোবাইল নম্বরসহ লিগ্যাল এইড অফিসে টাঙিয়ে দেয়া হবে। প্যানেল আইনজীবীদের দূর্বলতার কারণে মামলা হেরে যাচ্ছে এমন যেন না হয়। আইনজীবীরা দরিদ্র মানুষের সক্ষমতা বিষয়ে সনদ দিয়ে মামলা শুরু করতে পারবেন। তবে, ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে সনদ এনে পরে জমা দেবেন। তিনি বলেন, ‘এ মাসেই জীবননগরে লিগ্যাল এইডের একটি সভার আয়োজন করা হবে। সভায় প্যানেল আইনজীবীদের উপস্থিত থাকা জরুরী।’
গতকালের ওই মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে নারী নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) জিয়াউল হায়দার, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম এ হামিদ, লিগ্যাল এইডের সদস্য সচিব সহকারি জজ (সদর) সাজেদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা -১ এসএম নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা-২ জজ জাকির হোসেন খান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ -১ কামাল হোসেন সিকদার, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ তপন রায়, সহকারি জজ (আলমডাঙ্গা) শারমিন সুলতানা, সহকারি জজ (জীবননগর) মো. সালাউদ্দিন ও সহকারি জজ (শিক্ষানবিশ) নাজমিন আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আইনজীবীদের মধ্যে জেলা ও আইনজীবী সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আ.স.ম. অঅব্দুর রউফ, জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহা. শামসুজ্জোহা, নারী নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি আব্দুল মালেক, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সেলিম উদ্দিন খান, এমএম শাহজাহান মুকুল, সাবেক সেক্রেটারী সাঈদ মাহমুদ শামিম রেজা ডালিম, সিনিয়র আইনজীবী আকসিজুল ইসলাম রতন, মইনুদ্দিন মইনুল, হানিফ উদ্দিন, বদিউজ্জামান, আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এরশাদ, নাজমুল হাসান লাভলু ও মানি খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
লিগ্যাল এইডের সদস্য সচিব সহকারি জজ (সদর) সাজেদুর রহমান আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘ লিগ্যাল এইডের মামলা পরিচালনার জন্য সরকার যে ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে তা সন্তোষজনক। এখন থেকে যে আইনজীবী দরিদ্র অসহায় মানুষের পক্ষে আবেদন জমা দিবেন, তিনি ওই মামলা পরিচালনা করবেন। চলমান মামলাগুলো দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি করতে এখন থেকে সেসব মামলায় কোন সময়ের আবেদন গ্রহণ করা হবে না। বিচারকরা আপনাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন। ’
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক মামলায় দীর্ঘ কয়েকমাস পরে পরে দিন হয়। এত দীর্ঘ সময় মামলার দিন দেয়া ঠিক নয়। আইনগত সহায়তার মামলায় স্বাক্ষী করানো হবে। কোন সময়ের আবেদন করা হবে না। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ স ম আব্দুর রউফ বলেন, লিগ্যাল এইড কর্মসূচিকে গণমুখি করতে সবাই একমত। যাদের যে দায়িত্ব দেয়া হবে তারা সঠিকভাবে পালন করবেন। এই কর্মসূচির প্রচার যত বেশি হবে, তত সফল হবে। প্রচারকে গণমুখি করতে ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে হবে।
