ছবির ক্যাপশন:
গাংনী অফিস: মেহেরপুরের গাংনীতে স্বামীর অকথ্য নির্যাতন সইতে না পেরে ফরিদা খাতুন (৪০) নামের এক গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে তিনি বিষপান করে আত্মহত্যা করে। গতকাল বুধবার দুপুরে ওই গৃহবধুর লাশের ময়না তদন্ত শেষে তার পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। গৃহবধু ফরিদা গাংনীর দেবীপুর গ্রামের ময়নাল হকের স্ত্রী ও জোড়পুকুর গ্রামের কিতাব আলীর মেয়ে।
ফরিদার বড় বোন ফজিলা খাতুন জানান, বছর দেড়েক আগে বিদেশ যাবার কথা বলে স্বামী ময়নাল ফরিদার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। এতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে নির্যাতন করা হতো। বাধ্য হয়ে পিতা কিতাব আলী ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। অন্যান্য লোকের কাছ থেকে ময়নাল তিন লাখ টাকা ঋণ করে কাতারে গিয়ে মাস খানেক আগে ফেরত আসে। বিদেশ থেকে ফেরত আসলেই পাওনাদাররা টাকা ফেরত চায়। ওই টাকা পরিশোধের জন্য আবারো স্ত্রী ফরিদাকে চাপ দেয়া হয়। এ টাকা না দেয়ায় ফরিদাকে প্রায়ই নির্যাতন করতো ময়নাল। গত মঙ্গলবার সকালে ফরিদাকে মারধর করলে দুপুরে সে তার খালাতো ভায়ের কাছে নালিশ করে। এতে রাগান্বিত হয়ে স্বামী ময়নাল হক সাইকেলের চেইন দিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এতে তার বাম হাত ভেঙ্গে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালসীটে দাগ ছাড়াও মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত বের হয়। এতে রাগে ও ক্ষোভে ফরিদা বিষপান করে। ঘটনার পরপরই স্বামীসহ বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্রণাথ সরকার জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত সাপেক্ষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ি পরবর্তী ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
