ছবির ক্যাপশন:
বিসিএসে চুয়াডাঙ্গার শিক্ষার্থীদের সাফল্য হতাশাজনক
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাইন্স ক্লাব অব চুয়াডাঙ্গার আয়োজনে দু’দিনব্যাপী গণিত অলিম্পিয়াড সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বিএফ হলরুমে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং মেডেল পরিয়ে দেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। জেলা প্রশাসকের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা মেডিকেল কলেজ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত চুয়াডাঙ্গার শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত সাইন্স ক্লাব অব চুয়াডাঙ্গা আয়োজিত দুই দিনব্যাপী গণিত অলিম্পিয়াড ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি বিষয়ক শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণামূলক সেমিনারের গতকাল ছিল সমাপণী দিন। এদিন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থায় পিছিয়ে থাকা চুয়াডাঙ্গাকে এগিয়ে নিতে যে একদল তরুনেরা আজ বদ্ধপরিকর, তাদের উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানায়।’ তিনি বলেন, ‘মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় চুয়াডাঙ্গা থেকে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হাতে গোনা কয়েক জন। গত তিন বছরে দেশের সর্বোচ্চ চাকরি পরীক্ষা বিসিএসে সাফল্যের হার হতাশাজনক। চুয়াডাঙ্গার মোট জনসংখ্যার অনুপাতে এ সংখ্যা দশমিকের ঘরে।’
তিনি শিক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞান বাড়ানোর দিকে নজর দেন। সরকারি চাকরিতে যোগদানে কোন ধরণের আপোষ তদবির গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান। তিনি চুয়াডাঙ্গার শিক্ষার্থীদের আরো ভাল করার জন্য অভিভাবকদের আরো সচেতন হবার আহবান জানান। এখনকার ছেলেমেয়েদের সুবিধার কথা সমুহ তুলে ধরে তিনি সব শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী হবার উপদেশ দেন।
সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নওরোজ মোহাম্মদ সাঈদ।
এরআগে এসএসসি রেজাল্ট, এইচএসসি কালীন পড়াশোনা পদ্ধতি, ভর্তি পরীক্ষার সময় করণীয় বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেন পর্যায়ক্রমে রুয়েটের মেকানিকালের ৩য় বর্ষের পল্লব, ঢাকা মেডিকেলের নাবিদ, রুয়েটের উচ্ছাস, কুয়েটের সজীব, অহনা, বুয়েটের সজিব (৪র্থ বর্ষ), কুয়েটের রতন, বুয়েটের মামুন, চুয়েটের রাহুল, কুয়েটের জুবায়ের। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সাইন্স ক্লাবের সদস্য আসিফ, জাহিদ, সৌভিক, জুবায়ের, প্রিয়ম, রাহী, তৃষ্ণা, সিলভি, ¯িœগ্ধা, হিরা, তানজিম, নাইম, সাওম।
শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশুনা নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা ছিল। আজ ভাইয়ারা সেগুলো দূর করলেন। তারা আরো জানায় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আমরা যে ভীতির ভিতরে ছিলাম, সেগুল আজ কেটে গেছে।
সাইন্স ক্লাব অব চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে ক্লাবের সভাপতি সজিব এলাহী ও সাধারন সম্পাদক সাইনুর রহমান রাহুল বলেন, চুয়াডাঙ্গার শিক্ষার্থীদের যথাযোগ্য পাঠদানের মধ্য দিয়ে তাদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পৌছে দিতে সাইন্স ক্লাব অব চুয়াডাঙ্গা সব সময় তাদের পাশে থাকবে। ক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভির উচ্ছাস বলেন, চুয়াডাঙ্গাকে শিক্ষার দিক দিয়ে এগিয়ে নিতে আমাদের সাইন্স ক্লাবের সদস্যরা সদা প্রস্তুত।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাইন্স ক্লাব অব চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেহনুমা রিয়া। বিশেষ অতিথি কে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন যথাক্রমে কুয়েটের অহনা ইসলাম ও বাকৃবির নৌশিনী তাবাসসুম। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন ফারহানা আফরোজ মুমু ও তানভির উচ্ছ্বাস।
