অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ : ডিজেলে গচ্চা ৮শ’ কোটি টাকা

আপলোড তারিখঃ 2018-06-05 ইং
অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ : ডিজেলে গচ্চা ৮শ’ কোটি টাকা ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ ডেস্ক: অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে শত শত কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে সরকারকে। বিদেশি পরামর্শকের প্রেসক্রিপশনে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এইচএফও (হেভি ফুয়েল ওয়েল) তেল ব্যবহার না করে এইচএসডি (হেভি সলিড ডিজেল) ব্যবহারের ফলেই এমনটা হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মূল জ্বালানি হিসেবে গ্যাস ব্যবহারের কথা থাকলেও তা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এতেই প্রতিবছর গচ্চা যাচ্ছে শত শত কোটি টাকা। তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ‘কনস্ট্রাকশন অব খুলনা ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট’ প্রকল্পের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটছে। অন্যদিকে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় ওভারহেড ও নির্মাণকালীল সুদ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণ সঠিক সময়ে বিদ্যুৎ প্রাপ্তির সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ‘কনস্ট্রাকশন অব খুলনা ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট’ প্রকল্পটির সম্প্রতি প্রভাব মূল্যায়ন করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিয়োগ দেয়া ইন্টিগ্রেটেড সলিউশন লিমিটেড। এছাড়া বিদেশে প্রশিক্ষণ বাবদ অত্যধিক ব্যয়সহ নানা ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে সংস্থাটি। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে গ্যাস পাওয়া না গেলে এবং ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত ২২ মে তৈরি করা খসড়া প্রতিবেদনটি বর্তমানে চূড়ান্তকরণের কাজ করছে আইএমইডি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) তৈরির সময় ২০০৬ সালে এইচএফও তেলের মূল্য ছিল ২০ টাকা লিটার। কিন্তু বৈদেশিক পরামর্শকের সুপারিশ অনুযায়ী টারবাইন সংরক্ষণ ব্যয় কমানোর জন্য এইচএফও তেলের পরিবর্তে এইচএসডি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০১১ সালে যখন দরপত্র চুক্তি স্বাক্ষর হয় তখন এইচএসডির মূল্য ছিল প্রতি লিটার ৪৪ টাকা। প্রতি ঘণ্টায় ৪৫-৫০ হাজার লিটার ডিজেল ব্যবহৃত হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ডিজেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বেইজ লোডে চালানোর জন্য মোটেই সাশ্রয়ী নয়। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় এইচএসডি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে প্রতিবছর প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। খুলনা একটি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল। এ ছাড়া দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর সমুদ্রবন্দর মোংলা এবং বেশকিছু রফতানিভিত্তিক শিল্প রয়েছে এ অঞ্চলে। এ কারণে বৃহত্তর খুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। তাই খুলনায় দ্বৈত জ্বালানির এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সরকার সিরাজগঞ্জের নলকা থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ২৪০ কিলোমিটার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ করে। ফলে তিন বছরের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগে ৮ বছর। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৮০৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৩০৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং এডিবির ঋণ ৪৯৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)