দেশীও পোষাকের কদর কম : বাজার ছেয়ে গেছে ভারতীয় পোষাকে

আপলোড তারিখঃ 2018-06-03 ইং
দেশীও পোষাকের কদর কম : বাজার ছেয়ে গেছে ভারতীয় পোষাকে ছবির ক্যাপশন:
মধ্য রমজানে জমে উঠেছে চুয়াডাঙ্গা’র ঈদ বাজার সোহেল রানা ডালিম: মধ্য রমজানে জমে উঠেছে চুয়াডাঙ্গা’র ঈদ বাজার। দেশীও পোষাকের কদর কম হলেও বাজার ছেয়ে গেছে ভারতীয় পোষাকে। ছুটির দিন হওয়ায় ফুটপথ থেকে শুরু করে পুরাতন গলি, নিউ মার্কেট, প্রিন্স প্লাজা, নতুন মার্কেট, আব্দুল্লাহ সিটিসহ প্রতিটা স্থানে সব বয়সী ক্রেতা সাধারণের পদচারণায় কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে মার্কেটের দোকালগুলো। দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও আগে-ভাগে পছন্দের পোষাক কিনতে পেরে খুশি সকলে। বেচা-বিক্রি ভালো হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের আগে বাকি দিনগুলোতে এভাবে বিক্রি হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা। এ বছরও বিভিন্ন হিন্দি সিরিয়াল, সিনেমার সাথে মিল রেখে বাহারি ডিজাইনে তৈরি পোষাকগুলোর চাহিদা বেশি ক্রেতাদের কাছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের দেশীও শাড়ি, ছিট, থান কাপড় বাদে দেশীও অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব ফেলা ভারতীয় পোষাকে বাজার ছেয়ে গেছে। তবে এ মুহুর্তে মহিলা ও শিশুদের পোষাক পরিচ্ছদ বেশি বেচাকেনা হচ্ছে। শিশুদের পোষাকের দোকানের সামনে ভিড় লেগেই থাকছে সারাক্ষণ। এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরাও একদামে জামা-কাপড় বিক্রি শুরু করেছে এমনটাই অভিযোগ করলেন ক্রেতা সাধারণ। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই বেশি দামে শিশুদের জুতা সেন্ডেলসহ জামা-কাপড় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা। মেয়েদের পোষাকে এবছর বাজার দখল করেছে ডাবল পার্টের থ্রি-পিস, ভিনয়, লাসা, প্লাজু, হাসনাআরা, বাজিরাও মাস্তানি, বাগি ড্রেস, সামপুরা, লং-কোটি, মাসাককালী, ওয়াইফাই, ক্যাকটাস, থ্রিডি, বিভা, বিশাল, আশিকী, কান্দিভাঙ্গা, জয়পুরি, মাস্তানীয়া, পাকিস্থানি লোনসহ ছোটদের বিভিন্ন ধরণের স্কার্ট, পদ্মাবতী, বেগমজান, বিজলী, ফ্লোরটাচ, কিরণমালা, মধুমালাসহ বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। মেয়েরাও সিরিয়াল ও হিন্দি সিনেমার নামের সাথে মিল করে পোষাকগুলো চাচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও মজা করে সেই নামে হাক-ডাক করে পোষাককগুলো তাদের সামনে উপস্থাপন করছে। ভাল বেঁচাকেনার আশায় দোকানীরাও বেশি পরিমাণ কালেকশন করেছেন ভারতীয় এসকল পোষাক। দামের ক্ষেত্রে থ্রি-পিসগুলো দেড় হাজার থেকে মান ভেদে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকাইও বিক্রি হচ্ছে। কয়েকজন থ্রি-পিচের দোকানীরা জানান, প্রতি বছর থ্রি-পিচের চাহিদা বেশি থাকে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রথম দিকে বেঁচাকেনা একটু কম হলেও মধ্য রমজানে এসে তাদের বেঁচাকেনা বাড়তে শুরু করেছে। একই সাথে ছেলেদের পোষাকেও এসেছে পরিবর্তন। কালারফুল হাফ হাতা টি-শার্ট, চেক শার্ট, ফরমাল এক কালারের শার্ট, জিন্স ও গ্যাবাডিং প্যান্টের পাশাপাশি ভারতীয় হিন্দি সিরিয়ালের সাথে মিল রেখে বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবি কিনছে ছেলেরা। ছেলেদের শার্ট গেঞ্জি ও জিন্স গ্যাবাডিং প্যান্টের মান ভেদে হরেক রকম দাম হলেও সুতি পাঞ্জাবি ৫’শ থেকে ২ হাজার টাকাই বিক্রি হচ্ছে। জর্জেট পাঞ্জাবি দেড় হজার টাকা থেকে সাড়ে তিন চাঁর হাজার টাকা, ভারতীয় সিল্ক পাঞ্জাবি দুই হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা, টিস্যু পাঞ্জাবি ৩ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবি মান ভেদে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। সমবায় নিউ মার্কেটের সফল ব্যবসায়ী নন্দন’র পরিচালক সুমন পারভেজ খাঁন সময়ের সমীকরণকে জানান, এ বছর পাঞ্জাবি’র চাহিদা একটু বেশি। একই সাথে ইন্ডিয়ান জিন্সসহ থাইল্যান্ডের জিন্স প্যান্টের চাহিদাও অনেক। তাছাড়া সব বয়সী ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট, গেঞ্জি, জিন্স ও গ্যাবাডিং প্যান্টের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ফলে এসকল ক্রেতাদের কথা মাথাই রেখে এবছর তাদের ঈদের বাজারের প্রস্তুতিও ভালো হয়েছে। ক্রেতারা আসছেন বেঁচা বিক্রিও ভালো হচ্ছে। তাছাড়া কালেকশন ভালো থাকায় ক্রেতারা পছন্দের পোষাক কিনতে পেরে খুশিই হচ্ছে। এছাড়াও শাড়ির দোকানগুলোতে সফট সিল্ক শাড়ির চাহিদা কিছুটা বেশি। কাতান শাড়ির চাহিদা কিছুটা কম হলেও। জামদানি শাড়ি ১ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকাই বিক্রি হচ্ছে। টাঙ্গাইল শাড়ি ৭’শ থেকে ২ হাজার টাকা, জর্জেট শাড়ি দেড় হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা, সফট সিল্ক শাড়ি গুলো বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকা থেকে মান ভেদে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউ মার্কেটের ফাল্গুনী বস্ত্র বিপনীর ম্যানেজার মুক্তার আলী জানান, এ বছর শাড়ির চাহিদা একটু বেশি। এর মধ্যে সফট সিল্ক শাড়িই বেশি পছন্দ করছেন বিভিন্ন বয়সি ক্রেতারা। পাশাপাশি অন্যান্য শাড়ি বিক্রি হলেও অত্যাধিক কালারফুল হওয়ায় দামের কথা না ভেবে সফট সিল্ক শাড়ি বেশি কিনছেন বিভিন্ন বয়সী নারীরা। ফলে ঈদের বাকি দিনগুলোতে শাড়ি বেঁচা বিক্রি আরো বাড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন। চার বছরের ছোট মেয়ে মেঘকে সাথে নিয়ে শপিং করতে আশা বেসরকারি চাকুরিজীবি বাগানপাড়ার হাসানুজ্জামান মামুন জানান, তার মেয়ের জন্য একটি ফ্রগ ও স্কার্ট কিনেছেন। দাম আগের থেকে একটু বেশি হলেও কিনতে হচ্ছে। এ মুহুর্তে শিশুদের পোষাকের চাহিদা বেশি হওয়ায় দোকানগুলোতে দর দামও করা যাচ্ছে না। দোকানি যে দাম বলছেন সেই দামেই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এবার জুতার দোকানে যেয়ে দেখা যাক কি হয়। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের জুতা সেন্ডেলের দোকানসহ কসমেটিকসের দোকানেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। একই সাথে দর্জি বাড়ির কারিগরদের চোখে এখন আর ঘুম নেই। রাত দিন কাজ করে কাস্টমারদের জামা কাপড় ডেলিভারি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বেশ কিছু নাম করা টেইলার্স এরই মধ্যে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)