চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর খাবারে পচা শামুক : চাপা উত্তেজনা

আপলোড তারিখঃ 2018-05-30 ইং
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর খাবারে পচা শামুক : চাপা উত্তেজনা ছবির ক্যাপশন:
দুর্নীতির যেন শেষ নেই : দুই দফায় রোগী প্রতি বরাদ্দ বেড়ে ১২৫ টাকা হলেও খাবারের মান বাড়েনি আফজালুল হক: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর খাবার নিয়েও চলছে তেলেসমাতি। দুর্নীতির যেন শেষ নেই। দুই দফায় রোগী প্রতি বরাদ্দ বেড়ে ১২৫ টাকা হলেও খাবারের মান বাড়েনি। চিকন চালের বদলে দেয়া হয় মোটা চালের ভাত। ডালে মেশানো হয় অতিরিক্ত পানি, মাছ-মাংসের পিস নামকাওয়াস্তে। এসবও ঠিকমতো রোগীর ভাগ্যে জোটে না। খেতে হয় বাইরে থেকে কিনে। হাসপাতালের রান্না ঘর থেকে পাচার হয়ে সরকারি খাবার চলে যায় বিভিন্ন জায়গায় এ সব নতুন কিছু নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর খাবারের মান আগের চেয়ে ভালো। তবে রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, তা শুধু কথায় সীমাবদ্ধ, বাস্তবে নয়। তারা অভিযোগ করে বলেন, রোগীদের জন্য এমন খাবার পরিবেশন করা হয়, যা রোগীরা খেতে পারেন না। অনেকে দু-একবার মুখে দিয়ে ফেলে দেন ডাস্টবিনে। এদিকে, গতকাল বিকালে রাতে খাবার পরিবেশন করার সময় খাবারের পচা শামুক দেখতে পাই এক রোগী। পরে খাবার পরিবেশনকারীকে বলতেই হাত দিয়ে শামুকটি ছুড়ে ফেলতে গেলে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ওই রোগীর স্ত্রী। পরে শামুকটি তুলে একটি পাত্রে রাখে। এমন অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের জানান চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মাঝেরপাড়ার মৃত ইয়াকুবের ছেলে ইউনুছ আলী। তিনি গত ৬দিন যাবত হাসপাতালের ৭নং কেবিনে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় গতকালও হাসপাতাল থেকে রাতের খাবার দেয়ার জন্য আসে। এসময় আমাকে মাছ দিলে তার মধ্যে একটি পচা শামুক দেখতে পেয়ে খাবার পরিবেশনকারীকে জানায়। পরে তিনি শামুকটি নিয়ে ছূড়ে ফেলে দিতে গেলে আমার স্ত্রী বাধা দেয় ও তা সংরক্ষন করে রাখে। এনিয়ে রোগীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা দেখা দেয়। এদিকে, ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সিনিয়র নার্স ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটা আসলেই একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত খাবারে যদি পচা শামুক থাকে আসলে বিষয়টি শোভনীয় নয়। তাছাড়া সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের রান্নাঘর এতটাই দূর্গন্ধময় যে বমি উঠার উপক্রম। রান্নাঘরের পরিবেশও মানহীন। এদিকে, হাসপাতালে ভর্তি অনেকেই নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানায়, হাসপাতাল থেকে যে খাবার দেয়া হয় তা খাওয়ার উপযোগী নয়। নামেমাত্র খাবার দিচ্ছে। যা মুখেও দেয়া যায় না। তারা আরো বলেন, সব জায়গায় দুর্নীতি। এমনকি রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত খাবারেও চলছে নানা কারসাজি। মাছ তো মুখেই দেয়া যায় না। আর ডালে শুধু পানি। এবিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শামীম কবির বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। খুবই দুংখজনক একটি বিষয়। তবে আগামীকাল (আজকে) বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহন করবো বলে জানান তিনি। সিভিল সার্জন ডা. খাইরুল আলমের নিকট খাবারে পচা শামুক থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোন ঘটনার বিষয় আমার জানা নেই। তবে আগামীকাল (আজ) বিষয়টি শুনে আমি কঠোর নির্দেশনা দিবো। তবে খাবারের নিম্নমানের কথা বলতেই তিনি বলেন, রোগীর খাবারের মান আগের থেকে অনেক ভালো। সরকার বর্তমানে প্রতি রোগীর খাবারের জন্য দৈনিক ১২৫ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তার মধ্যে ভ্যাট বাদে দাঁড়ায় প্রায় ১১১ টাকা। এর মধ্যে ঠিকাদারেরা কিছু টাকা লাভ করেন। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক রোগীকে প্রতিদিন সকালের নাস্তা হিসেবে পাউরুটি, একটি ডিম, একটি কলা ও চিনি দেয়া হয়। দুপুরে পরিবেশন করা হয় ভাত, মাছ, সবজি ও ডাল। রাতের খাবারের তালিকায় থাকে ভাত, মাছ সবজি ও ডাল। এই টাকার মধ্যে থেকে যে খাবার পরিবেশন করা হয় এটা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবে তিনি বলেন, আজকে এ বিষয়গুলো নিয়ে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করবো। যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)