‘বন্দুকযুদ্ধ’ আতঙ্কে আত্মগোপনে মাদকব্যবসায়ীরা

আপলোড তারিখঃ 2018-05-28 ইং
‘বন্দুকযুদ্ধ’ আতঙ্কে আত্মগোপনে মাদকব্যবসায়ীরা ছবির ক্যাপশন:
বিকল্প মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায় সে ব্যাপারে চলছে বিভিন্ন মহলে দেন-দরবার! জাহিদ বাবু/ মিঠুন মাহমুদ: বন্দুক-যুদ্ধে জীবননগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হতে থাকায় এ উপজেলার মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী এবং ব্যবসায়ীদের পেছনে অর্থ লগ্নীকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু রাঘব-বোয়াল নয় চুনোপুঁটিরাও চলে গেছে আত্মগোপনে। বদলে ফেলেছে তাদের মোবাইল নম্বরটিও। বিকল্প মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায় সে ব্যাপারে তারা বিভিন্ন মহলে দেন-দরবার চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী উপজেলা হিসেবে মাদক পাচারের শীর্ষ উপজেলাগুলোর মধ্যে জীবননগর একটি উপজেলা হিসাবে পরিচিত। বড় বড় মাদক পাচারকারীরা রুট হিসেবে এ উপজেলাকে ব্যবহার করে থাকে। উপজেলার উথলী, সেনেরহুদা, সিংনগর, মনোহরপুর, খয়েরহুদা, আন্দুলবাড়ীয়া, সন্তোষপুর, হাসাদাহ, ধোপাখালী, উপজেলা শহরের মুক্তিযোদ্ধাপাড়া, শাপলাকলিপাড়া, হাসপাতালপাড়া, আঁশতলাপাড়া, বাড়ভাঙ্গা, তেঁতুলিয়া, গয়েশপুর, গঙ্গাদাসপুর, নতুনপাড়া, গোয়ালপাড়া, হরিহরনগর, মেদিনীপুর ও বেনীপুর গ্রামে রয়েছে শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট। নেশাখোররা এসব সিন্ডিকেটের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করতো। তবে এবার দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হবার পর থেকে বেকায়দায় পড়েছে এসব মাদক ব্যবসায়ীরা। একযোগে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ জীবননগরে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে। গত ২১ মে রাতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে জোনাব আলী নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হবার পর থেকে উপজেলার সব মাদক ব্যবসায়ী আত্মগোপনে চলে গেছে। উপজেলার যে স্থানগুলোতে অবাধে মাদক বিক্রি হতো সেসব স্থানেও পাওয়া যাচ্ছে না কোনো মাদকদ্রব্য। জীবননগরের যে স্থানগুলোতে আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে মাদকসেবীরা এসে ভিড় করতো তাও বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রেফতার এড়াতে মাদকসেবীরাও আর সেদিকে ছুটছে না। এলাকার অনেক মানুষই পুলিশের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। গত দু’দিন সন্ধ্যার পর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে উপজেলার যে মাদক স্পটগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে কোথাও কোন মাদক বিক্রেতাকে দেখা যায়নি। যে সকল স্থানগুলোতে আশপাশের এলাকাগুলো থেকে মাদকসেবীরা ভিড় করতো তাও বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রেফতার এড়াতে মাদকসেবীরাও আর সেদিকে ছুটছে না। এলাকার অনেক মানুষই পুলিশের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরাও চাই এ অভিযান যেন প্রতিনিয়ত অব্যাহত থাকে। সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় জনগনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় মাদক ব্যবসায়ীরা সীমান্তবর্তী ভারতের কাটা তার কেটে বাংলাদেশে মাদক পাচার করার জন্য চেষ্টা করতো। কিন্তু পুলিশের এ মাদক বিরোধী অভিযানে এখন সে সকল মাদক ব্যবসায়ীরা ভারতের তারকাটা কেটে ভারতে চলে যাওয়ার জন্য চেষ্ঠা করছে। তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, জীবননগর থানার বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন স্থানের মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্য করছে। জীবননগর থানা অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুর রহমান জানান, পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে শতাধিক মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে। ধরাপাকড়ের কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া এসব মাদক ব্যবসায়ীরা যতই আত্মগোপনে যাক তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওয়াত এনে শাস্তি প্রদান করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)