গৃহবধূকে ধর্ষণ : জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক-৩

আপলোড তারিখঃ 2018-05-28 ইং
গৃহবধূকে ধর্ষণ : জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক-৩ ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা ঘোলদাড়ীর পাইকপাড়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে নিজস্ব প্রতিবেদক: আলমডাঙ্গা ঘোলদাড়ীর পাইকপাড়া গ্রামে শ্বশুর-শাশুড়ির ষড়যন্ত্রে গভীর রাতে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গিয়ে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার দিনগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত গৃহবধূকে গতকাল রোববার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। জানা যায়, শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে পারিবারিক খুটিনাটি বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল পাইকপাড়ার ধর্ষণের শিকার মামুনের স্ত্রী। এ বিরোধের জের ধরেই লোকজন দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ (২৫) বলেন, ‘শনিবার রাতে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত আনুমানিক ১২টার দিক অজ্ঞাত তিনজন দেশীয় অস্ত্র, ঘরে থাকা বটি ও লাঠিসোটা নিয়ে প্রথমে আমার স্বামী মামুনকে জিম্মি করে। এ সময় আমি ডাক-চিৎকার দিলেও পাশের ঘরে থাকা শশুর-শাশুড়িসহ কেউ এগিয়ে আসিনি। তারা আমার স্বামীকে দঁড়ি দিয়ে পিঠমোড়া করে বেঁধে বাড়ির পাশের মাঠে নিয়ে যায়। পরে আমাকেও সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। দূর্বৃত্তরা এ সময় বলেন- শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে খারাপ ব্যবহার করো, আজ তোমার মজা দেখাচ্ছি। এ কথা বলার পর তারা আমার স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আমাকে চুপ থাকতে বলে। এক পর্যায়ে তারা তিনজন পালাক্রমে আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অমানষিক নির্যাতন করে। পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে ভোরের দিকে আমাদেরকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। তবে অন্ধকারে কাউকে চিনতে পারিনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রায়ই সংসারের ছোট খাটো বিষয় নিয়ে শশুর-শাশুড়ির সাথে গোলযোগ সৃষ্টি হত আমাদের। সাংসারিক এ ঝামেলা নিয়ে শ্বশুর আনোয়ার মালিথা ও শাশুড়ি ফুরকানি খাতুনের সাথে এক ধরণের বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জেরেই তারা লোকজন দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এর সাথে আমার নোনদ নাছিমা ও তার স্বামী মিরাজুলও জড়িত আছে।’ ধর্ষনের শিকার ওই গৃহবধূর স্বামী মামুন বলেন, ‘রাতে এ ঘটনা ঘটার পর তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি। সকালে স্থানীয় ক্যাম্পে অভিযোগ করতে চাইলে আমার চাচা মজিবর, হবিবর, আতিয়ার ও মতিয়ার আমাদের বাঁধা দেয়। যে কারণে কোন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি এখনও।’ এদিকে, গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ভর্তি করা হয় ওই গৃহবধুকে। কর্তব্যরত চিকিৎসক আওলিয়ার রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে তার শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। রোববার গাইনী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করে পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে ধর্ষণ নাকি অন্য কিছু। রাতেই ভিকটিমকে দেখতে হাসপাতালে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও আলমডাঙ্গা সার্কেল) মোহা. কলিমুল্লাহ। তিনি ভিকটিমের সাথে কথা বলেন এবং তদন্ত পূর্বক দোষীদের আটক করে আইনের আওতায় নেয়ার আশ্বাস দেন। আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান জানান, ঘটনাটি সত্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিলার শ্বশুর আনোয়ার হোসেন, শ্বাশুরী ফুরকুনিসহ জামাই মিরাজুলকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনও কোন অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)