ভুল চিকিৎসায় প্রাণ গেল কিশোর নয়নের

আপলোড তারিখঃ 2018-05-26 ইং
ভুল চিকিৎসায় প্রাণ গেল কিশোর নয়নের ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুর বারাদিতে সেকমো চিকিৎসক মোমিনুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ মেহেরপুর প্রতিনিধি/ বারাদি প্রতিনিধি: এক সপ্তাহের ব্যবধানে মেহেরপুরে অপচিকিৎসায় প্রাণ গেল আরো এক কিশোরের। এবারের ঘটনা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) মোমিনুর রহমানের অপচিকিৎসায় কারণে। আর এতে প্রাণহানি হলো মোহাম্মদ নয়ন (১৪) নামের প্রাণবন্ত ফুটফুটে এক কিশোরের। গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার বারাদিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নয়ন একই উপজেলার রাজনগর ঘোড়া পাড়ার মোমিনুল ইসলামের ছেলে। তবে এ ধরণের ঘটনা ঘটলেও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও কিছুই জানেন না। জানা গেছে, কিশোর নয়ন দীর্ঘদিন পেটের রোগে ভুগছিল। শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে পেটের ব্যথা বেড়ে যায়। গতকাল শনিবার সকালে তাকে তার পরিবারের লোকজন বারাদি বাজারের সেকমো চিকিৎসক মোমিনুর রহমানের কাছে নিয়ে যায়। সেকমো মোমিনুর রহমান গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা বলে শরীরে স্যালাইন পুশ করে। পাশাপাশি ভিসেট ও রেনিডিন নামের চারটি ইনজেকশন প্রদান করেন। তাৎক্ষনিকভাবে রোগী সুস্থ হয়ে গেলে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দুপুর ১২ টার দিকে রোগীর পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এক পর্যায়ে কিশোর নয়ন নিথর হয়ে যায়। দুপুর দেড়টার দিকে পুনরায় মোমিনুরের চেম্বারে নিয়ে গেলে সে রোগীকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিবিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। নিহতের পিতা মোমিনুল ইসলাম ময়না জানান, ছেলেকে গ্যাষ্ট্রিকের সমস্য বলে মোমিনুর ডাক্তার স্যালাইন দিয়েছে। স্যালাইনের সাথে দুটি আর হাতে দুটি মোট চারটি ইনজেকশন করেছে। ছেলে একটু পরেই সুস্থ হয়ে গেলে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। দুুপুরের পর থেকে বারবার পাতলা পায়খানা শুরু হলে ডাক্তারকে ফোন দিই। ডাক্তার স্যালাইন খাওয়াতে বলে। এক পর্যায়ে ছেলে চুপ মেরে গেলে তাকে আবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার দেখে বলে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিতে। কিন্তু তার আগেই মনে হচ্ছিল আমার ছেলে মারা গিয়েছে। ওই ডাক্তার আমার ছেলেকে মেরে ফেললো। আমি কার কাছে বিচার দেব? অভিযুক্ত চিকিৎসকের চেম্বার মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদি বাজারের সেবা মেডিকেল এন্ড ফার্মেসীতে গিয়ে দেখা যায় প্যারামেডিকেল পাশ করা মোমিনুর রহমান নিজেকে প্যাড এবং ভিজিটিং কার্ডে ডাক্তার লিখে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি আমঝুপি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অভিযুক্ত চিকিৎসক জানান, কিশোর নয়ন তার পুরাতন রোগী। এভাবেই সে অসুস্থ হলে তাকে সে সুস্থ করে তোলে। এবারও গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা নিয়ে আসলে তাকে প্রাথমিকভাবে গ্যাষ্ট্রিকের চিকিৎসা দেয়া হয়। স্যালাইনের সাথে দুটি ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। তাকে সুস্থ করে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে তার ডিহাইড্রেশন হলে তখন আমি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত থাকায় চিকিৎসা দিতে পারিনি। এক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশনের কোন চিকিৎসা না দেয়াটা হয়তো ভুল হয়েছে। পরে মনে হলো রোগীর অবস্থা ভাল না তখন তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আপনার চেম্বারে আসার আগেই মারা গিয়েছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তাকে জীবিত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠিয়েছিলাম। `` এ ব্যাপারে মেহেরপুর সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সামিউল হক বলেন, কোন সেকমো চিকিৎসক নামের আগে ডাক্তার শব্দটি লিখতে পারবেন না। তাঁর অপচিকিৎসায় কোন রোগীর মৃত্যু হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুই বছর আগে বারাদি গ্রামের আলাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির স্ত্রীর গর্ভে থাকা সাত মাসের সন্তানকে অপচিকিৎসায় হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে মোমিনুরের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কিছু দিন হলো প্যারামেডিকেল পাশ করে এসে বড় চিকিৎসক সেজে জটিল রোগের চিকিৎসা করেন। চিকিৎসার নামের বানিজ্য খুলে বসেছেন মোমিনুর। তবে বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত আর এমও শাহিদুল ইসলাম ও উপজেলা স্বাস্থ্য ওপরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলোক কুমার দাসের সাথে কথা বললে তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। আজ রবিবার খোঁজ নিয়ে জানাবেন। বারাদি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাবলু মিয়া জানান, নিহতের পরিবার বা কেউ অভিযোগ করলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাকে পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এদিকে, এলাকার ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার পরপরই সেকমো চিকিৎসক মোমিনুরের কাছে গেলে সে পালিয়ে রক্ষা পায়। তবে নিজ ছেলের লাশ কাটাছেড়া করতে অপরাগতা প্রকাশ করায় তরিঘড়ি করে বিকালে লাশ দাফন করা হয়। তার বাবা মোমিনুল ইসলাম ময়না নিরুপায় হয়ে বলেন, লাখ টাকা দিলেও আমার ছেলেকে কেউ দিতে পারবে না। চিকিৎসকের ফাঁসি হলেও আমার ছেলেকে আর পাব না। আপনারা যা পারেন করেন। তবে আমার ছেলের লাশ ময়নাতদন্ত করতে দেব না। এদিকে, গত ১৭ মে মেহেরপুর সদর উপজেলার আলমপুরে পল্লী চিকিৎসক ফকরুজ্জামান পলিপস অপারেশন করতে গিয়ে অপারেশন টেবিলে গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের সানোয়ার হোসেনেরে ছেলে সাইদুর রহমান নামের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মেহেরপুর সদর থানায় একটি মামলা হলেও ফকরুজ্জমান আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করে। এরপর নতুন করে আবারও চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছেন। এদিকে এত কিছুর পরও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। তারা দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছেন। এই সকল পল্লী চিকিৎসক, সেকমো চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের খুশি করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অপচিকিৎসার বলি হচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো। এভাবেই চলতে থাকলে চিকিৎসা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে এবং জনতার পুঞ্জিভুত ক্ষোভে পরিস্থিতি বেপরোয়া হয়ে উঠার আশংকা করছেন সচেতনমহল।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)