মুক্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্বাচনে যাবে দল

আপলোড তারিখঃ 2018-05-25 ইং
মুক্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্বাচনে যাবে দল ছবির ক্যাপশন:
বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সর্বত্রই এক আওয়াজ আন্দোলনের মাধ্যমে সমীকরণ ডেস্ক: বিএনপির তৃর্ণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন আর ভয়ডর নেই। গ্রেফতার আতঙ্ক আর মামলার ভয়ে বছরের পর বছর অনেকেই কাবু থাকলেও এখন সবাই গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন। কারাবন্দী দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন এবং নির্বাচন দুই প্রস্তুতিই নিচ্ছেন। তৃর্ণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে এনিয়ে কথা বললে তারা জানান, ২০১৫ সাল আর ২০১৮ সাল এক নয়। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী এ বছর নির্বাচন দিতেই হবে। হামলা মামলা ও আইন শৃংখলা বাহিনী দিয়ে দৌঁড়ের ওপর রেখে নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। এই বাস্তবতা বুঝেই নির্বাচনের অংশ নেয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে নেতাকর্মীরা। বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে যাবেন তারা। নির্বাচন থেকে দুরে রাখার কোনো অপচেষ্টার ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চায় নেত্রীর মুক্তির দাবির আন্দোলনের কর্মসূচি ঈদের পরেই। সবার টার্গেট আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করা। নেতাকর্মীরাও জীবন-মরণ সর্বাত্মক আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে চেষ্টা চলছে ভয়কে জয় করার। ইতোমধ্যে দলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক আন্দোলনের জন্য দল প্রস্তুত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন পেলেও আরও ছয়টি মামলায় আটকাদেশের কারণে মুক্তি পাননি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দলীয় প্রধানকে মুক্ত করে আনতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছে নেতাকর্মীরা। তবে বিচার বিভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় শুধু আইনি লড়াইয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না বলে মনে করেন দলটির নেতারা। এজন্য তীব্র আন্দোলনের বিকল্প দেখছেন না তারা। পাশাপাশি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও কাছাকাছি চলে আসায় সেটি নিয়েও ভাবতে হচ্ছে নেতাদের। বিশেষ করে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নতুন মডেল (বিএনপির মতে- ভিন্ন ধরণের ভোট কারচুপি ও জাল ভোট) দেখার পর এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেয়া নিয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে শতভাগ যৌক্তিকতা দেখছে দলটি। অন্যদিকে কারচুপির পরও বিএনপির ভোট ও জনসমর্থন দেখে সরকার নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের পথে হাটবেনা বলেও মনে করেন তারা। এজন্য এই দাবিও আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করতে চায় তারা। ফলে দলটির সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। বিএনপির এই আন্দোলনে শুধু একা কিংবা ২০ দলীয় জোটকে নিয়ে নয়, সরকার বিরোধী সকল শক্তিকে নিয়েই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। ইতোমধ্যে আন্দোলনের রূপরেখাও তৈরি করেছে দলটির সিনিয়র নেতারা। সর্বাত্ম আন্দোলনের অংশ হিসেবে আন্দোলনের জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুরুতে আন্দোলনের জন্য হলেও পরে সেটা নির্বাচনী জোটে রূপ নিতে পারে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, বৃহত্তর আন্দোলনের জোট গঠনের ব্যাপারে ২০ দলের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলো প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছে। এই দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ড. কামালের গণফোরাম, বি. চৌধুরীর বিকল্প ধারা, আ স ম রবের জাসদ, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য। এছাড়াও আরও ছোটখাট বেশ কিছু দল এই জোটে অন্তর্ভূক্ত হবে। সূত্রমতে, এই বৃহত্তম জোট প্রাথমিকভাবে ‘গণতন্ত্র’ রক্ষার আন্দোলন শুরু করবে। এই রাজনৈতিক জোট নির্বাচনেও একইসঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের ব্যাপারে মিত্র দলগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করা ছাড়াও আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেও গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। সরকার পরিবর্তনের একমাত্র পথ হিসেবে এটিকেই দেখছে তারা। এজন্য নির্বাচনে অংশগগ্রহণের বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের সিনিয়র নেতারা একমত হয়েছে বলে একাধিক নেতা জানান। তবে সেই নির্বাচন অবশ্যই নির্দলীয় সরকারের অধীনে এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অংশগ্রহণের শর্ত দিয়েছে তারা। সর্বশেষ খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নতুন মডেলে কারচুপি ও জাল ভোটের পর এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উপর পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে রাজপথের বিরোধী দল। এজন্য নির্দলীয় সরকার ছাড়া বিকল্প কোন ব্যবস্থা দেখছেনা তারা। তবে সরকারও যে স্বাভাবিকভাবে তাদের দাবি মেনে নেবে না সেটিও দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এজন্য আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে একমত তারা। বিএনপির নেতৃবৃন্দের দাবি খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আইনি লড়াই চলছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনও অব্যাহত রয়েছে। তবে সব সময় আন্দোলনের ধারা একইরকম থাকে না। আন্দোলনের ধাবাহিকতা আছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যদি সরকার দাবি মেনে না নেয়, তাহলে আন্দোলন আরও বেগবান হবে। নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে নেতৃবৃন্দের মত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে, তার অধীনে আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকার আদায় করে তবেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে। আন্দোলনের জন্য দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি আদায় করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)