ছবির ক্যাপশন:
মিঠুন মাহমুদ/ এ আর ডাবলু: রমজান মাসে গোটা দেশে মুড়ির কদর অনেকটাই বেশি থাকে। মেশিনে ভাজা মুড়ি বাজারজাত শুরু হওয়ার পর থেকে যদিও অনেকটা কমে গেছে হাতে ভাজা মুড়ির কদর। তারপরও সুস্বাদু হওয়ার এর কদর এখনও কম নয়। হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে সুপরিচিত জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রাম। মনোহরপুর গ্রামে সারাবছর ধরেই মুড়ি ভাজার কাজ হয়। তবে রমজান আসতে না আসতেই এই মুড়ির চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুন। তাই এসব গ্রামে এখন দিন-রাত চলছে মোটা চালের মোটা মুড়ি ভাজার কাজ।
গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, এসব গ্রামের কয়েকটি পরিবার কয়েক যুগ ধরে মুড়ি ভেজে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আর এখন প্রতিটি পরিবারে একজন নারীই মুড়ি ভাজার মূল ভূমিকায় রয়েছেন। যাকে পরিবারের অন্য সদস্যরা সহায়তা করে থাকেন। রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার ব্যাতিত এসব মুড়ি এখন প্রসিদ্ধ জীবননগরসহ বিভিন্ন স্থানে। উৎপাদনের ব্যাপকতার কারণে এই গ্রামগুলো এখন মুড়ি পল্লী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মনোহরপুর গ্রামের গীতা বেগম ও তাপসি বিশ্বাস জানান, দীর্ঘ ২০ বছর আগে শ্বশুরবাড়িতে এসে মুড়ি ভাজার কাজের সঙ্গে জড়িয়ে যান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুড়ি ভাজার কৌশল রপ্ত ফেলেন। মুড়ি ভাজতে হলে প্রথমে হাতের টেকনিক বোঝাটা প্রয়োজন। তার সঙ্গে মুড়ি ভাজার সব সরঞ্জাম সঠিকভাবে থাকা উচিত।
মুড়ি ভাজার কারিগর জানান, প্রথমে মোটা চাল লবণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে মাটির পাত্রে হালকা ভাজেন। এক্ষেত্রে ৫০ কেজি বস্তার চালের জন্য ১ কেজি লবণের প্রয়োজন হয়। চাল ভাজার পাশাপাশি অপর মাটির পাত্রে ভারী ও চিকন বালির মিশ্রন গরম করতে হয়। এরপর মাটির ওপর পাতিলের মধ্যে গরম বালি ঢেলে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে লবণ পানি মেশানো ভাজা চাল ঢেলে দেন। ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে নাড়াচাড়ায় তৈরি হয়ে যায় ভালো মানের মুড়ি। নাম প্রকাশে একজন জানান, রাত ৯ টার মধ্যেই বেশিরভাগ বাড়িতে মুড়ি ভাজার কাজ শেষ হয়ে যায়। দিনে কোনো ঘরে ২০ আবার কোনো ঘরে ৩০ কেজির মুড়িও ভাজা হয়। এক বস্তা চালে ৪২-৪৩ কেজি মুড়ি হয়। যা দিয়ে আড়াইশ টাকার মতো আয় হয়। মেশিনে ভাজা চিকন মুড়ির কারণে কিছুটা বিরুপ প্রভাব বিরাজ করলেও এ অঞ্চলের হাতে ভাজা মোটা মুড়ির জনপ্রিয়তা ও কদর সবসময়ই ছিল। মেশিনের কারণে হাতে ভাজা মুড়ির দর কমিয়ে বিক্রি করতে হয়। আর এতে করে শ্রমিকরাও কম টাকা পাচ্ছেন। এ অঞ্চল থেকে এখন প্রতিদিন এক থেকে দুই মণ মুড়ি দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।
