জীবননগর উথলীতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত মাদকব্যবসায়ী জোনাবের দাফন সম্পন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক/জীবননগর অফিস: রাতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেন এতদাঞ্চলের শীর্ষ মাদকব্যবসায়ী জোনাব আলী। আর সকাল থেকে গাঢাকা দিতে শুরু করেন গড ফাদারসহ বিভিন্ন স্তরের মাদক ব্যবসায়ীরা। বিকাল নাগাদ আর তেমন কোন মাদক কারবারীর দেখা মেলেনি গোটা গ্রামে। জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের সন্যাসীপোতা মাঠে গত রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১ টার দিকে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মাদক ব্যবসায়ী জোনাব আলী। গতকাল সোমবার ইফতারির পর তার দাফন সম্পন্ন করেছে পরিবারের লোকজন। উথলী দক্ষিণপাড়া গোরস্থানের পাশ্ববর্তী চাতালে জানাযা শেষে দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়। নিহত জনাব আলী (৩২) উথলী গ্রামের আমতলা পাড়ার মো. জামাত আলীর ছেলে। নিহত জোনাব আলীর নামে জীবননগর থানাসহ পাশ্ববর্তী দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় অন্তত ১০টি মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তথ্যনুসন্ধানে জানা যায়, জোনাব আলীর আসল পিতা মহাসিন আলী ঢাকা কেরানীগঞ্জে বসবাস করেন। পরবর্তীতে জোনাব আলীর মা উথলী মালোপাড়ার জামাত আলীর সাথে বিবাহ করে। সেই থেকে জোনাব আলী জামাত আলীর ছেলে হিসেবে পরিচিত। দুই পক্ষ মিলে সাত ভাই বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। জোনাব আলী সর্ব প্রথম বাজারে খিরাই (শসা) বিক্রি করে সংসার চালাতো। পরবর্তীতে জীবননগর শহরসহ সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর সাথে তার সর্ম্পক গড়ে তোলে। সেই সূত্র ধরে জোনাব আলী মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে শীর্ষ অবস্থান তৈরী করে। সে সীমান্ত পথে অবৈধ ভাবে ভারতীয় ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বাংলাদেশে পাচার করত। এক পর্যায়ে জীবননগরসহ আশ পাশের বেশ কয়েকটি জেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত লাভ করে অল্প দিনে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যায়। যার ফলে সে পর পর তিনটি বিয়ে করে। তিনটি বউয়ের তিনটি ছেলে আছে, দুটি বউ তালাক নিলেও ছোট বউ তার কাজের সাথে সহযোগিতা করায় তাকে আর তালাক দেয়নি। ১৬’ই এপ্রিল ২০১৪ সালে সর্বপ্রথম জীবননগর থানায় তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা হয়। এরপর সে বেশ কয়েক বার আটক হয়েছে এবং জেল খেটেছে। গোটা এলাকায় এক সময় মাদকের স¤্রাজ্য তৈরী করে সে। বিভিন্ন সময় এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়। মাঝে বেশ কয়েক দিন মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালীন সময়ে জোনাব আলী তার রূপ পরিবর্তন করতে গ্রামেই একটি পুকুর নিয়ে মাছ চাষ করতে থাকে। কিন্তু তার ফাকে সে সর্বনাশা মাদকের ব্যবসা ছাড়তে পারেনি। এদিকে মাদক স¤্রাট জোনাব আলীর মৃত্যুতে গোটা এলাকাবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। গ্রামবাসীর উচ্ছ্বাস- কুখ্যাত মাদক স¤্রাট জোনাবের পতনের মধ্যদিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের শক্তি অনেকাংশে কমে গেছে। এখনই প্রশাসনসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাকী মাদকব্যবসায়ীদের নির্মূল করতে হবে।
এদিকে পুলিশের ধারাবাহিক মাদক বিরোধী অভিযান ও ক্রসফায়ার আতঙ্কে গ্রাম ছাড়তে শুরু করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। তবে শীর্ষ মাদকব্যবসায়ীর নির্মম পতনের পরই মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছে নিজেদের। গতকাল সকাল থেকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীসহ উল্লেখযোগ্য কাউকে এলাকায় দেখা যায়নি। সচেতন মহলের ধারণা মাদক ব্যবসায়ীরা যত দ্রুত সম্ভব আপাতত আত্মগোপণে চলে যাচ্চে। অনেকে দর্শনা গেঁদে সীমান্ত পথে ভারতেও চলে যাচ্ছে বলে জানা যায়।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহমুদ রহমান জানান, বন্দুকযুদ্ধে নিহত জনাব আলীর বিরুদ্ধে জীবননগর থানাসহ পাশ্ববর্তী থানায় অন্তত ১১টি মাদক মামলা রয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ওয়ান শুটারগান, দু’টি কার্তুজের খোসা, ৩টি রামদা এবং ১ বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো বলেন, সোমবার তার নিজ গ্রামে লাশ দাফন হয়েছে বলে আমি শুনেছি।
