ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভায় ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অর্ধকোটি টাকার বানিজ্য’র অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাময়িকভাবে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে দেয় কাউন্সিলররা। পরে সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আশরাফুল ইসলাম পৌরসভায় এসে কাউন্সিলরদের সাথে বৈঠক করার পর আবার শুরু হয় নিয়োগ পরীক্ষা। গতকাল শনিবার দুপুর ১ টার দিকে গাংনী পৌরসভা প্রাঙ্গনে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এই নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন মেয়র আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন। যার তদন্ত চলছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে কিভাবে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া যায় তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই কে কোন পদে নিয়োগ পাচ্ছে বিভিন্ন ভাবে তা প্রকাশ পাওয়ায় পরীক্ষাথীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে জেলা প্রশাসক বলেছেন, মন্ত্রনালয় থেকে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না মর্মে কোন আদেশ আসেনি। আদেশ আসলে বন্ধ করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং তারিখে একটি জাতীয় দৈনিকে ৬টি পদে জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে মর্মে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যার স্মারক নং-গা/পৌ/১৭/৫৩৪(২৫)। এখানে উল্লেখ করা হয় নি¤œমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, আদায়কারী, সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক, সহকারী এ্যাসেসর ও অফিস সহায়ক এই ৬টি পদে একজন করে ৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ওই ৬টি পদের বিপরীতে ১৯ জন আবেদন করেছিলেন। সে অনুযায়ী গতকাল শনিবার নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। যথারীতি ওই ১৯ জন সকাল ১১ টার দিকে লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন। পরে মৌখিক পরীক্ষা জন্য আবেদনকারী অপেক্ষা করছিলেন। এসময় ৭নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বদরুল আলম, ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান পৌরসভায় প্রবেশ করে নিয়োগে অর্ধকোটি টাকার বানিজ্যর অভিযোগ তুলে আবেদনকারীদের বের করে দেন। পরে পৌরসভার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র আশরাফুল ইসলাম পৌরসভায় গিয়ে কাউন্সিলরদের সাথে কথা বলে পরীক্ষা শুরু হয়। গাংনী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বদরুল আলম জানান, কাউন্সিলরদের না জানিয়ে বিভিন্ন পদে গোপনে ৬ জন কে নিয়োগ দিচ্ছে। এ নিয়োগের বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। এ নিয়োগে অন্তত অর্ধকোটি টাকা বানিজ্য করছে সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আশরাফুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র নবীর উদ্দীন।
প্যানেল মেয়র-২ সাহিদুল ইসলাম জানান, গোপনে নিয়োগ বানিজ্য হচ্ছে এ কারনে পরিক্ষার্থীদের পৌরসভা থেকে বের করে দেয়া হয়। ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বলেন, প্যানেল মেয়র-২ কে বাদ দিয়ে কিভাবে ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য নিয়োগ করা হয়। আমরা যেহেতু জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি তাই জনগনের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়। অথচ জনগনের প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে গোপনে ৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এদিকে ৬ জন কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগে অর্ধকোটি টাকা নিয়োগ বানিজ্যসহ কে কে কোন পদে নিয়োগ পাচ্ছে তা প্রকাশ পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে পরিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরিক্ষার্থী জানান, তারা বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছেন নাজমুল হুদা, মৌমিতা খাতুন, হেলাল উদ্দীন, রাশিদুল ইসলাম শীলন ও মাসুদ নিয়োগপ্রাপ্ত হচ্ছেন। টাকা নিয়ে যদি চাকুরী দেয় তাহলে পরীক্ষার নামে প্রতারনা করার প্রয়োজন কি ছিল?
গাংনী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, নিয়োগসহ বিভিণœ বিষয়ে মেয়রের দূর্নীতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছিলাম। মন্ত্রণালয় মেহেরপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি-এলজি) খায়রুল হাসান তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। সে অনুযায়ী গত ১৪ মে খায়রুল হাসান তদন্ত করেন। কিন্তু তার প্রতিবেদন এখনো দেওয়া হয়। তাহলে তদন্তকালীন সময়ে কিভাবে অভিযুক্ত বিষয়ে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয় বুঝিনা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কারো হাত আছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার। এ বিষয়ে প্যানেল মেয়র নবীর উদ্দীন বলেন, আমি স্বাক্ষর করার মালিক বাকী সব কিছু মেয়র আশরাফুলের ইশারায় হচ্ছে। সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আশরাফুল ইসলাম বলেন, নিয়োগের বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। বর্তমান পরিষদে যারা আছে তারা ভালো বলতে পারবেন। অফিস ছুটির দিনে পৌরসভায় আসার কারন জানতে চাইলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। এ বিষয়ে ডিডি-এলজি খায়রুল হাসান মোবাইল ফোন রিসিভ না করলে পরে কথা হয় জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ’র সাথে। তিনি বলেন, পৌরসভার নিয়োগ বোর্ডে আমাদের একজন প্রতিনিধি দেওয়া আছে। কোনরকম ব্যত্যায় হলে তিনি স্বাক্ষর করবেন না এ ব্যপারে বলা হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে বলেন, তদন্তকালীন কোন বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোন আদেশ আসেনি। যদি পরীক্ষা বন্ধের আদেশ আসে তাহলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করা হবে।
