দু’সপ্তাহর ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে মাছ-মাংসসহ সকল ভোজ্য পণ্যের দাম : সবজির বাজারে আগুন

আপলোড তারিখঃ 2018-05-18 ইং
দু’সপ্তাহর ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে মাছ-মাংসসহ সকল ভোজ্য পণ্যের দাম : সবজির বাজারে আগুন ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় রমজান মাসকে কেন্দ্র করে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দ্রব্যমূল্যে সোহেল রানা ডালিম: রমজানে ভোগ্যপণ্যর মূল্যবৃদ্ধি নিয়মিত ঘটনা। পাইকারি থেকে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যন্ত সবাই একযোগে অর্থ উপার্জনের মাস হিসেবে রমজানকে বেছে নেই। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা এত বেশি লাভ করেন যা গোটা বছরের সমান। ফলে রমজানে অধিকাংশ ভোগ্যপণ্যর দাম বেড়ে যায় স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নি¤œ আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। সরকারের ঘোষনা অনুযায়ী চাহিদার থেকেও বেশি মজুদ আছে। তারপরও দাম বেড়েছে বেশ কয়েকটি পণ্যর। রমজান শুরুর আগেই চিনি ছোলা পেঁয়াজসহ সবজির বাজার উর্ধ্বগতির হাওয়া লেগেছে। আর এর সঙ্গে ক্রেতা সাধারণের দীর্ঘদিন অস্বস্তিতে ফেলা চালের বাজর দর আছে আগের অবস্থানে। এদিকে, রমজান মাস শুরুর একদিন আগ থেকে জেলা শহরের বাজারগুলো মনিটরিং শুরু করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের মনিটরিং টিম। তারা বাজারগুলোতে মূল্য তালিকা টাঙানো, পাইকারি ও খুচরা রসিদ সংরক্ষণ, ওজনে কারচুপির ওপর মনিটরিং করছেন। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে আসছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। বাজার তদারকির সংশ্লিষ্ট বিভাগ বাজার মনিটরিংয়ের কথা বললেও কোন অবস্থাতেও নিয়ন্ত্রণে থাকছে না এ সকল পণ্য। এদিকে খেটে খাওয়া মানুষের এক কেজি বেগুন আনতে পানতা ফুরাচ্ছে প্রতিদিন। এই যখন অবস্থা তখন চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, গত প্রায় দু’সপ্তার ব্যাবধানে কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে মাছ মাংস, ডাল ছোলা, খেজুর বেসনসহ চিনি ও পেঁয়াজের দাম। মধ্যমানের খেজুর কিনতে হচ্ছে ৯০ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম তেমন না বাড়লেও দুই তিন দিনের ব্যবধানে দেশী পেঁয়াজ কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। মোটা চিনির অপরিবর্তিত থাকলেও চিকন চিনির দামও প্রায় ১০ টাকা বেশি। ছোলা বিক্রি হচ্ছে পূর্বের চেয়েও ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দরে। মাংসের দামও বেড়েছে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মুরগির বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। শ্রেণিভেদে প্রতি কেজি মুরগির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ থেকে ৪০ টাকা। মাছের বাজারও বেশি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই চাহিদা বাড়তে থকে। ফলে সিন্ডিকেটধারী বড় বড় ব্যবসায়ীর কারসাজির মাধ্যমে অসাধু উপায়ে বাজার ব্যবস্থা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছে। রমজান মাস উপলক্ষে দাম বাড়া এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এসময় ব্যবসায়ীরাও বলেন, সাধারণ ক্রেতারা যদি অধিক পরিমাণ না কিনে অল্প অল্প কেনেন তাহলে সরবরাহ ঠিক থাকবে দাম বাড়ার প্রবণতাটাও কম হবে। এদিকে সবজির বাজারে গিয়ে চোখ কপালে উঠছে সাধারণ মানুষের। ৩০ টাকার কমে মিলছে না কোন সবজি। প্রতি কেজি বেগুন কিনতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, খিরা ৩০ টাকা, হঠাৎ করে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে আলুর দাম, ৬০ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে করলা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি, ঝালের দামও ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে হঠাৎ করেই। তাছাড়া লাল শাক, সাদা শাক, বরবটি ১০ থেকে ১৫ টাকা আটি। এছাড়াও বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। অনেকে আবার বলছেন, আশপাশের বাজারগুলোতে একটু কম থাকলেও চুয়াডাঙ্গা নিচের বাজারে সবজির দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি পর্যায়ে বাড়ছে এসব পণ্যের দাম। যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজারে। তাছাড়া অনেক পণ্য স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়াকেই দুষছেন এ সকল ব্যবসায়ীরা। এদিকে ক্রেতা সাধারণের দীর্ঘদিন অস্বস্তিতে ফেলা চালের বাজর দর আছে আগের অবস্থানে। মোটা চালের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও চিকন চালের দাম কেজি প্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা বেশি। ভোজ্য তেলের দাম তেমন একটা না বাড়লেও মশলার বাজারে বেশ পার্থক্য দেখা গেছে। জিরা ও দারুচিনির দাম অল্প কিছু বাড়লেও ১ হাজার ৫’শ থেকে ৬’শ টাকায় কেনা এলাচ ফল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকার উপরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি আমদানি পর্যায়েই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজারে। তাছাড়া কিছু কিছু পণ্য স্থানীয়ভাবে সরবরাহ কম থাকাই দাম বৃদ্ধি হচ্ছে। এছাড়াও রমজান মাসে প্রতিটা জিনিসের চাহিদা বেশি থাকে। এ মাসে প্রত্যেকে প্রায় পুরো মাসের বাজার একবারে সেরে ফেলেন। যার ফলে বাজারে সংকট দেখা দিলে কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। এদিকে, দাম বৃদ্ধির কারনে নাজেহাল সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ বড় বড় অনেক ব্যবসায়ী আছে যারা রমজান মাস শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী গুদামজাত শুরু করে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে এ সকল ব্যবসায়ীরা এ ধরনের কাজ করার সাহস পায়। এভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশিল তৈরি করে পর্যায়ক্রমে দাম বাড়ানো হয়। একবার দাম বৃদ্ধি হয়ে গেলে তা আর কমার লক্ষণ দেখা যায় না আমাদের বাজারে। সেইসাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারিও একটু কম এদিকে। ফলে ইচ্ছা অনুযায়ী মূল্য বৃদ্ধি করছে কিছু অসাধু ব্যাবসয়ী। সব মিলিয়ে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে আমাদের। আবার অনেক ক্ষেত্রে দোকানের সামনে মূল্য তালিকা না থাকাই বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদেরই। রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই যখন বাজারে প্রতিটি দ্রব্যের উর্ধ্বগতি তখন রমজান মাস শুরু হলে এসকল পণ্যের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়ে যাবে। জেলার সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি এখনি কার্যকর পদক্ষেপ না নেন তাহলে দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরা যাবে না। সুষ্ঠু বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এধরনের সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছে সাধারণ ক্রেতারা। বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা’র সহকারি পরিচালক সজল আহম্মেদ ও জেলা মার্কেটিং অফিসার শহিদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য সরকারি নির্দেশনা মতে সব রকম কাজ করা হচ্ছে। প্রতিদিন নিয়ম করে বাজারে অভিযান চালানো হচ্ছে। অন্যায়ভাবে গুদামজাতকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে জেলা প্রশাসন থেকেও এ ব্যাপারে একটি কমিটি করা হয়েছে। যারা সার্বক্ষণিক বাজার তাদারকি করছেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)