মেহেরপুরে হাতুরে ডাক্তারের ভুল অপারেশন তরুণের মৃত্যু

আপলোড তারিখঃ 2018-05-18 ইং
মেহেরপুরে হাতুরে ডাক্তারের ভুল অপারেশন তরুণের মৃত্যু ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুর অফিস: মেহেরপুরে ফকরুজ্জামান নামের এক পল্লী চিকিৎসকের অপারেশন টেবিলে প্রাণ গেল সাইদুর রহমান (১৮) নামের এক তরুণের। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সাইদুর রহমান গাংনী উপজেলার গাঁড়াডোব গ্রামের কৃষক সানোয়ার হোসেনের ছেলে। এ ঘটনার পর থেকে পল্লী চিকিৎসক ফকরুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপণে রয়েছেন। নিহত সাইদুল ইসলামের পিতা সানোয়ার হোসেন জানান, তাঁর ছেলে সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে নাকের পলিপাস রোগে ভুগছিল। পাশের গ্রাম আলমপুরে পল্লী চিকিৎসক ফকরুজ্জামান তার ছেলে পলিপাসের অপারেশন করে ভাল করে দিবেন বলে তিন হাজার পাঁচশ টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী ঘটনার দিন সকালে চুক্তির তিন হাজার পাঁচশ টাকা পরিশোধ করেন। এসময় ছেলের অপারেশনের জন্য ফকরুজ্জামান আমাদের বাইরে বসতে বলে ছেলেকে অপারেশন করার জন্য একটি রুমে ঢোকান। অনেকক্ষন ধরে বাইরে বের না হলে আমরা ডাকাডাকি শুরু করি। একসময় ছেলে চিৎকার দিয়ে উঠে। তারপরপরই ফকরুজ্জামান আমাদের বলে ছেলের রক্ত কম আছে হাসপাতালে নিতে হবে। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার বলে ছেলে বেঁচে নেই। এসময় ফকরুজ্জামান নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য একই হাসপাতালের বিভিন্ন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফকরুজ্জামান বলেন, আমি অপারেশন করিনি। গাংনী থেকে রিপন নামের এক ডাক্তার এই অপারেশ করেছেন। সে কি এমবিবিএস চিকিৎসক এমন প্রশ্নে জবাব না দিয়ে সে হাসপাতাল থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসপাতাল ও ফকরুজ্জামানের চেম্বার কাম বাড়িতে গিয়ে তাকেসহ পরিবারের অন্যান্যরা আত্মগোপনে থাকায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সাইদুর রহমামানের মা নিলুফা খাতুন সন্তান হারিয়ে প্রলাপ বকছেন। মাঝে মাঝে মূর্ছা যাচ্ছেন। তিনি বারবার চিৎকার দিয়ে বলছেন, আমার ছেলেকে না পেলে আমি গলায় দড়ি (আত্মহত্যা ) দিয়ে মরবো। আমার সোনার টুকরা ছেলেকে ওই ডাক্তার মেরে ফেললো। আমি ডাক্তারের বিচার চাই। সাইদুরের পিতা সানোয়ার হোসেন শোকে পাথর হয়ে স্তব্ধ হয়ে গেছেন। কোন কথা বলতে পারছেন না। মাঝে একটি কথায় বলছেন। আমার ছেলেকে ও মেরে ফেললো। এদিকে সাইদুরের আকষ্মিক মৃত্যুতে গাড়াডোব গ্রামে শোকের ছায়ার নেমে এসেছে। একই সঙ্গে পল্লী চিকিৎসক ফকরুজ্জামানের অবৈধ চিকিৎসা কার্যত্রম বন্ধের দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে গ্রামবাসীকে। গ্রামের বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় বিশ থেকে বাইশ বছর ধরে তিনি এই ধরণের অবৈধ চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। চিকিৎসা করে তিনি দ্বিতীয় তলা ভবন তৈরি করেছেন। গত এক বছরে তাঁর অপচিকিৎসায় এনিয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সাত মাস আগে সদর উপজেলার খোকসা গ্রামের ইয়াসিন ফকির নামের এক ক্যান্সার রোগির পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হলে ফকরুজ্জামান করাত দিয়ে পা কেটে অপারেশ করেন। এর কিছুদিন পর ওই রোগীর মৃত্যু হয়। গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামে সান্তনা নামের এক গৃহবধু বিষপান করলে তার চিকিৎসালয়ে তিন দিন ধরে চিকিৎসা দেন। কিন্তু তিন দিন পর চিকিৎসালয়েই তার মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে গ্রামবাসীরা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি অভিযোগের তীর ছুড়েন। তারা সরকারি কোন কিছই দেখেও না দেখার ভান করে বসে থাকেন। গ্রামবাসীরা অভিযোগ করে জানান, পল্লী চিকিৎসক ফকরুজ্জামানের উপযুক্ত বিচার না হলে তার হাতে এভাবেই মানুষকে মরতে হবে। মেহেরপুর জেনারের হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহিদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ভর্তি করার পূর্বেই সাইদুরের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার নাক দিয়ে অতিরিক্ত ক্ষরণের কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বাকিটা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওার পর পরিস্কার হওয়া যাবে। মেহেরপুর সদর থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় পল্লী চিকিৎসক ফকরুজ্জামানকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। যার মামলা নং-১৬। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে মেহেরপুর মর্গে নেয়া হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারে কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)