দামুড়হুদা জুড়ানপুরের কুঠিবাড়ির মাঠে পূর্ব শক্রতার জের ধরে স্কুলছাত্র সাকিব হত্যাকান্ড

আপলোড তারিখঃ 2018-05-16 ইং
দামুড়হুদা জুড়ানপুরের কুঠিবাড়ির মাঠে পূর্ব শক্রতার জের ধরে স্কুলছাত্র সাকিব হত্যাকান্ড ছবির ক্যাপশন:
অকপটে হত্যার দায় স্বীকার : বন্ধু তপু ও পাভেলই সাকিবের খুনি ছেলে হত্যার ঘটনায় মায়ের মামলা : আদালতে সোপর্দ : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড এসএম শাফায়েত: দামুড়হুদা জুড়ানপুরের কুঠিবাড়ির মাঠে পূর্ব শক্রতার জের ধরে স্কুল ছাত্র সাকিব হত্যাকান্ডের ঘটনায় আটক দুই বন্ধু তৌফিকুল ইসলাম ওরফে তপু (১৬) ও পাভেল (১৬) অকপটে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তপুর সাথে সাকিবের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দ্বন্ধের পূর্ব বিরোধের কারণেই এ হত্যাকান্ড। ছেলে আহমেদ সাকিব (সাকু) হত্যার ঘটনায় বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (মাঃ নং-২৮) দায়ের করেছেন মা মোছা. সাবিনা ইয়াসমিন পুতুল। দুপুরে তাদের দু’জনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এদিন বেলা ১টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে সাকিবের লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে দু’দফায় নামাজে জানাযা শেষে আসমানখালী নান্দবারে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার পাশে দাফন করা হয়েছে সাকিবকে। এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে সাকিব হত্যাকান্ডের ঘটনার বর্ণনা দেন পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম। তিনি এক লিখিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, নিহত সাকিব চুয়াডাঙ্গা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। ঘটনার দিন সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে বের হয় সে। বিকাল ৫টায় দামুড়হুদার জুড়ানপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের কুঠিবাড়ির মাঠের এক ইপিল ইপিল বাগান থেকে তার অর্ধ গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোমবার দিনগত মধ্যরাতে জেলা সদরের হাতিকাটা গ্রামের রশিদুল ইসলামের ছেলে তৌফিকুল ইসলাম ওরফে তপু ও শহরতলীর দৌলৎদিয়াড়ের ইসতিয়ার হোসেনের ছেলে পাভেলকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তারা উভয়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, নিহত সাকিব আসামী তপুর এক বান্ধবীর সাথে প্রেম করত। তপু সাকিবকে তার বান্ধবীর সাথে প্রেম এবং মোবাইল ফোনে কথা বলতে নিষেধ করলে কয়েক মাস (৭ মাস) আগে সাকিব তার কিছু বন্ধুদের নিয়ে তপুকে মারধর করে। এ ঘটনার জের ধরে সোমবার তপু ও পাভেল সাকিবকে সাথে নিয়ে ঘুরতে বের হয়। ঘুরতে যাওয়ার সময় সাকিব পুলিশ লাইন্সের মেস ওয়েটার শান্তর কাছ থেকে একটি লাল পাঞ্জামী নিয়ে যায়। এরপর তারা দামুড়হুদা থেকে শুরু করে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। দুই বন্ধুকে নিয়ে নিজেই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল সাকিব। তখনও জানত না তাকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েই আজকের ঘোরাঘুরি। বিকাল ৩টা নাগাদ রামনগর মোড়ে দাড়ায় তারা। এ সময় সাকিবকে সিগারেট কেনার কথা বলে দোকান থেকে ব্লেড কিনে নেয় তপু। পরে সেখান থেকে ভাইলপুর আসার পথে কুঠিবাড়ির ওই মাঠের মধ্যে একটু থামতে বলা হয় সাকিবকে। সেখানে দাড়ানো মাত্রই সাকিবের ঘাড়ে সজোরে আঘাত করে তপু। ঘাড়ে আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দু’জনে তাকে ধরে ওই ইপিল ইপিল বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে পাভেল তার কাছে থাকা বেল্ট দিয়ে সাকিবের গলা চেপে ধরে। একপর্যায়ে তপুর হাতে থাকা ব্লেড দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয় সাকিবকে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাকিবের ডিএসএলআর ক্যামেরা, স্মার্ট ফোন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। প্রেস ব্রিফিং শেষে তপু ও পাভেলকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহা. কলিমুল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার (জীবননগর ও দামুড়হুদা সার্কেল) আহসান হাবীব, দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন খান, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেক, জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি, এসআই আশরাফ বিশ্বাস, এসআই জসীমসহ পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ। `` দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন থান জানান, স্কুলছাত্র সাকিব হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার মা মোছা. সাবিনা ইয়াসমিন পুতুল বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে তিনি থানায় হাজির হয়ে তপু ও পাভেলের নাম উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করলে সেটি দন্ডবিধি- ৩০২, ৩৮৯, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়। দুপুর দেড়টার দিকে আসামীদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তারা দু’জন আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পরে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই জনই কিশোর। আইন অনুযায়ী তাদের দু’জনের বিচার প্রক্রিয়া নারী ও শিশু আদালতে পরিচালিত হবে। সে অনুযায়ী প্রবেশন অফিসার নিয়োগ করে তাদের দু’জনের দেখাশোনা করা হবে। নিহত সাকিবের পরিবার জানায়, দুপুর ১টার দিকে সাকিবের লাশ হাসপাতাল থেকে গ্রহণ করা হয়। বিকাল ৩টায় চুয়াডাঙ্গা সিএন্ডবি ভবন চত্বরে প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৫টায় তাদের গ্রামের বাড়ি আলমডাঙ্গা উপজেলার বড় গাংনী ইউনিয়নের আসমানখালীর নান্দবার গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে ২য় নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকাল ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার জুড়ানপুর ইউনিয়নের কুঠিবাড়ির মাঠে ভাইমারা খালের ধারে স্কুলছাত্র আহমেদ সাকিবকে (সাকু) গলাকেটে হত্যার পর ফেলে রেখে যাওয়া হয়। নিহত সাকিব চুয়াডাঙ্গা শহরের সিএ্যান্ডবি পাড়ার রজনীগন্ধা সড়কের (মৎস ভবনের কাছে) মরহুম ঠিকাদার আব্দুল করিমের ছেলে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। রাতেই পুলিশি অভিযানে দুই ঘাতককে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাকিবের ডিএসএলআর ক্যামেরা, স্মার্ট ফোন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে আটকের পর তাদের নাম ও পরিচয় গোপণ রাখা হয়।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)