ছবির ক্যাপশন:
চার বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত!
জাহিদ বাবু/ মিঠুন মাহমুদ: জীবননগর সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় দৈনিক সমকাল পত্রিকার জীবননগর প্রতিনিধি সাংবাদিক আবু সায়েম হত্যা মামলার ৪ বছর হতে চলেছে। এখনো পর্যন্ত এ মামলার তদন্ত কাজ শেষ হয়নি। সায়েম হত্যার রহস্য উদঘাটন ও হত্যার সাথে জড়িত আসল হত্যাকারী গ্রেফতার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের বাবা আবুল খায়ের মোল্লা। মৃত্যুর আগে সায়েম হত্যার বিচার দেখে যেতে চান সায়েমের বাবা-মা। ২০১৫ সালের ৮ জুলাই রাত ১১টার সময় উপজেলার পেয়ারাতলা গ্রামে সাংবাদিক আবু সায়েমেরে নিজ ঘরে প্রবেশ করে তাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে পালিয়ে যায় দূবৃর্ত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়। ঢাকাতে চিকিৎসারত অবস্থায় সাংবাদিক আবু সায়েমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িত দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে খুন, ডাকাতি, অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামি ছদ্মবেশী ফকির রাজিব সরদারকে (২৬) জীবননগর থানা পুলিশ আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। কিন্তু কি কারনে সাংবাদিক আবু সায়েমকে হত্যা করা হলো এ রহস্যটি এখনো পর্দার আড়ালে রয়ে গেলো। গতকাল শনিবার সাংবাদিক আবু সায়েমের বাবা আবুল খায়ের মোল্লা এই প্রতিবেদককে বলেন, সায়েম হত্যার ৪ বছর হতে চলেছে। এখনো জানতে পারলাম না কেন? কে বা কারা আবু সায়েমকে হত্যা করেছে। মামলার গতিই পরিবর্তন হয়ে গেছে। সায়েম হত্যায় ছদ্মবেশী ফকির রাজিবকে পুলিশ আটক করে জেলে প্রেরণ করলেও সে এখন জামিনে মুক্ত। কিন্তু এই হত্যার সাথে জড়িত মুল আসামিকে পুলিশ এখনো পর্যন্ত চিহ্নিত করতে পারেনি। যার ফলে এখনো পর্যন্ত মুলহোতারা ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। জানিনা মামলা শেষ হতে আরও কত বছর লাগবে। ছেলের হত্যার ন্যায় বিচার পাবো কিনা তাও জানি না। নিহত আবু সায়েমের স্ত্রীর সাথে কথা বললে কান্না বিজোড়িত কণ্ঠে জানায়, তার অসহায়ত্বের কথা। দুই সন্তান আর বৃদ্ধ শ্বশুর শ্বাশুড়ী নিয়ে মানবেতার জীবন-যাপন করছে। মামলার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলাটি এখন চুয়াডাঙ্গা জজ কোটে বিচারাধীন আছে। এখন শুধু স্বাক্ষী নেয়ার অপেক্ষায়। এদিকে সাংবাদিক আবু সায়েম হত্যার ৪ বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় সাংবাদিকসহ সচেতন মহল হতাশ।
