শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা!
গাংনী অফিস: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার আরপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দালাল চক্রের নজর পড়েছে। যার ফলে শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক, শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষার্থীরা। গত কয়েকদিন যাবত বিভিন্ন অপকৌশলে বিদ্যালয়ের সুষ্টু পরিবেশ নষ্ট করাসহ বিভিন্ন শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের আরপাড়া গ্রামে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে আরপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সেই সময়ে ওই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলেরা নিজেদের জমি দিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘদিন পরে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বভার পান আব্দুল মান্নানের ছেলে আক্তারুজামান বাবু। বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে চলে আসলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরী নিয়োগকে কেন্দ্র করে গ্রামের কয়েকজন দালাল চক্রের নজরে বিদ্যালয়টি। তারপর থেকেই বিভিন্ন স্থানে দৌড়াদৌড়ি। অবশেষে গ্রামে নানাভাবে শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে একটি কুচক্রি মহল। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ থেকে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের পদ শুণ্য হওয়ায় চলতি বছরের ৪ এপ্রিল জাতীয় দৈনিক ও একটি স্থানীয় পত্রিকায় প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং শুণ্য পদে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার দেয়া হয়। কিন্তু তিনি প্রধান শিক্ষকের প্রার্থী হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তার পরের জন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হবেন। কিন্তু তিনিসহ তারপরের আরো দু’জন পারিবারিক ও শারীরিক কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব পালনে অপরাগতা প্রকাশ করেন। ফলে নিয়ম অনুযায়ী এবং সকল শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সর্বসম্মতিক্রমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তারপরের জন সাবিহা আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার। যা রেজুলেশনের মাধ্যমে পাশ করা হয়। কিন্তু নিয়ম বর্হিভূতভাবে উক্ত চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে নিয়োগ প্রকাশের শেষ তারিখের একদিন পরে আবেদন করেন পার্শ্ববর্তী ধানখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। যা নিয়ম বর্হিভূত আবেদন হওয়ায় সেটা গ্রহণ করতে পারেনি নিয়োগ কমিটি। কিন্তু বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট ও বর্তমান সরকারের শিক্ষাক্ষেত্রে যে সফলতা তা নষ্টের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে একটি কুচক্রিমহল। তারাই মূলত পরিকল্পিতভাবে নানা বাহানা করে চলেছেন।
জালসুকা গ্রামের অভিভাবক ওমেদ আলী জানান, বিদ্যালয়টি সুষ্ঠ পরিবেশে চলছিল। প্রধান শিক্ষক না থাকায় আমাদের সন্তানদের পড়াশুনায় একটু বাধা হচ্ছে। ফলে ম্যানেজিং কমিটির সকলে ও শিক্ষক অভিভাবকদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালাচ্ছিল। কিন্তু ওই গ্রামের শমসের আলী নাকি বাধা দিচ্ছে। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বদর উদ্দীন জানান, বিদ্যালয়ের বৈধ কমিটির সদস্য ও সকল শিক্ষকদের সাথে আলাপ আলোচনা এবং তার আগের শিক্ষকরা দায়িত্ব গ্রহণে অপরাগতা প্রকাশ করায় সাবিহা আক্তারকে সর্বসম্মতিক্রমে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সব জায়গায় স্বার্থস্বেষী মানুষ থাকে এখানে একটু বেশি। যার ফলে নানা ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। তবে আশা করি সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখবে। কারণ আজ সব জায়গায় এমনই ঘটছে। সঠিকভাবে কাজ করলেও অভিযোগ দেবে।
আরপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য সিদ্দিক আলী জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চলছিল কিন্তু গুটি কয়েক লোক চাচ্ছে এ নিয়োগটি বন্ধ হোক যার জন্য নানা ফন্দিফিকির করছে। বিদ্যালয় পরিচালনায় পর্ষদের সভাপতি আক্তারুজামান বাবু জানান, এলাকার একজন চিহ্নিত জামায়াত নেতা আজকাল আওয়ামী লীগ পরিচয় দিয়ে বর্তমান সরকারের সকল অর্জনকে নানা ভাবে বির্তকিত করার জন্য বিভিন্ন অফিসে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য সরবারহ করছে। তিনি আরো বলেন, আরপাড়া গ্রামের শমসের আলী চক্রান্ত করে সিরাজুল ইসলাম নামের একজন দিয়ে আবেদন করিয়েছে। তবে সেটা নিয়মের বাইরে গিয়ে নিয়োগ আবেদনের শেষ তারিখ পার হওয়ার একদিন পরে গিয়ে আবেদন করিয়েছে। এতে বোঝা যায় ইচ্ছা করে আমাদের সাথে ঝামেলা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে তিনি একাজ করিয়েছে। যিনি নেতৃত্বে আছেন এই শমসের আলী নাশকতাসহ বেশকয়েকটি মামলার আসামী। পুলিশের উচিত এসকল নাশকতা মামলার আসামীদের আটক করে আইনের আওয়তায় আনা।
