অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি; দিশেহারা কৃষক : থানায় অভিযোগ

আপলোড তারিখঃ 2018-05-13 ইং
অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি; দিশেহারা কৃষক : থানায় অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার দৌলাতদিয়াড়ে আড়াই বিঘা পানের বরজে বিষ প্রয়োগের ঘটনা নিজস্ব প্রতিবেদ: পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চুয়াডাঙ্গা দৌলাতদিয়াড় সর্দারপাড়ার সহিদ সর্দারের ছেলে সাইদুর ইসলাম টোটনের আড়াই বিঘা পানের বরজে বিষাক্ত ঘাঁস নিধনকারী বিষ প্রয়োগ করে পান নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পানের বরজ মরে যাওয়াতে কৃষকের প্রায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগি পানচাষী গত বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ আমলে নিয়ে থানা পুলিশ গত বুধবার সকালে সরেজমিন উক্ত পানের বরজ পরিদর্শনসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ক্ষতিগ্রস্ত পান বরজ পরিদর্শন করেছেন। একই সাথে এ ধরনের নেক্কারজনক অপকর্মকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিÍসহ ক্ষতি পূরণের দাবি জানিয়েছে। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় সর্দারপাড়ার চান্দামারী মাঠ মাথাভাঙ্গা নদীর কোল ঘেষে আড়াই বিঘা জমিতে ৪’শ ৫০ পিলে পানের বরজ তৈরি করেন সাইদুর ইসলাম টোটন। বহুকষ্টে দাঁড় করানো বরজে পানের ফলনও ভালো আশা করছেছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন এই বরজ থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে আগামী বছর আরো কিছু বরজ বাড়াবেন। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ানোসহ নিজেও হবেন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। কিন্তুু তার সেই আশা এক নিমিষে ফিকে করে দিলেন একই এলাকার দুর্বৃত্তরা। কান্না জড়িত কন্ঠে বরজের পাশে বসে এভাবেই কথা গুলো বলছিলেন তিনি। বরজটি পূর্ব শত্রুতামূলক বিষাক্ত ঘাঁস নিধনকারী বিষ প্রয়োগ করে নষ্ট করে দিয়েছে একই এলাকার মৃত সাদ মন্ডলের ছেলে ইসলাম ও আপেল মন্ডলের ছেলে ইকলাছ। গত ২ মে বুধবার রাতে কোন এক সময় তারা এই বিষ প্রয়োগ করে। ফলে বিষক্রিয়ায় শুকিয়ে যাচ্ছে উক্ত বরজের পানের সকল পট। এতে দিশেহারা পান চাষী টোটন প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ বিষয়ে পান চাষী টোটন নিজে বাদী গয়ে গত বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে থানা পুলিশ অভিযোগ আমলে নিয়ে সরেজমিন উক্ত পান বরজ পরিদর্শন করেন। পান বরজের শ্রমিকদের বক্তব্য অনুযায়ী প্রচন্ড শীতে আশপাশের পানের বরজ যখন ব্যাপক ক্ষতির মুখে। সে সময় বরজ মালিক নিজে দিন রাত পরিশ্রমসহ পরিচর্যা করে পানের বরজটি টিকিয়ে রেখেছেন। বর্তমানে প্রতিবেশির সকল বরজের থেকে তার বরজের পান ভালো হয়। চলতি বছর খরচ বাদে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লাভ হওয়ার কথা এই বরজ থেকে। কিন্ত সেই লাভ তো হলোই না বরং সর্বমোট প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতির কবলে পড়লেন তিনি। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পান চাষী সাইদুর ইসলাম টোটন অভিযোগ করে বলেন, গত দুই বছর আগে পানের বরজের মহিলা শ্রমিক নিয়ে বাদানুবাদ হয় একই এালাকার ওপর দুই পান চাষী ইসলাম ও ইকলাছের সাথে। এরপর থেকে তারা সুযোগ খুঁজছে আমার ক্ষতি করার। উক্ত ঘটনার বিবরণে তিনি জানান, সে সময় আমার বরজে দু’জন মহিলা শ্রমিক খুব ভালো কাজ করতো। ওই মহিলা শ্রমিককে তার বরজে কাজ করার জন্য প্রস্তাব দেই ইসলাম। কাজের প্রস্তাবে রাজি না হলে উক্ত মহিলা শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকে তারা। এর কিছুদিন পর একজন মহিলা শ্রমিককে একা পেয়ে বরজের ভিতর টেনে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ ঘটনার বিষয়ে আমি প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে আমার ক্ষতি করার চেষ্ট করে তারা। কখনো বরজের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। আবার কখনো প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য আজেবাজে কথা বলে বেড়ায়। এরই জের ধরে গত বুধবার রাতে কোন এক সময় তারা এই বিষ প্রয়োগ করেছে। পলে আমার বরজে প্রতিদিন বরজের পট শুকিয়ে যাচ্ছে। এটা এমন এক বিষ একবারে নষ্ট হয় না। আস্তে আস্তে গাছের পাতা শুকিয়ে যাওয়াসহ পচতে শুরু করে। বিষ প্রয়োগের বিষয়টা অনুধাবন করার সাথে সাথে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। সদর থানা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বার গণমাধ্যমকর্মীরা আমার ক্ষতিগ্রস্ত পানের বরজ পরিদর্শন করাসহ এ ধরেন অপকর্মকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসজ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে। চুয়ডাঙ্গা সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাইদুর ইসলাম টোটন বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে থানা পুলিশ উক্ত পান বরজ পরিদর্শন পূর্বক এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। মামলা রেকর্ডের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। অভিযুক্তরা যেই হোক তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)