মেহেরপুরে বিবাদীকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেরাই ফেঁসে গেলেন
মেহেরপুর অফিস: মিথ্যা, জালিয়াতি ও প্রতরণার মাধ্যমে আসামীকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেরাই ফেঁসে গেলেন বাদী পক্ষ। আদালতের স্ব-প্রণোদিত মামলায় প্রতারক বাদী পক্ষ এখন জেল হাজতে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রোববার দুপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আমলী আদালত মেহেরপুরে। আটক আসামীরা হলেন- জেলার গাংনী উপজেলার তেঁতুল বাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে ইদ্রিস আলী (৫০), একই গ্রামের মৃত ছহিরউদ্দিনের ছেলে খাইরুজ্জামান আকামত (৪২), মো. ইন্তাজ আলীর ছেলে মো. আন্টু(২৮) ও সদর উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের রবিউল ্ইসলামের ছেলে মো. শামীম (২৮)। জামিন শুনানি শেষে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজেস্্েরট শাহীন রেজা আসামীদের জেল হাজতে পাঠাবার নির্দেশ দেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়- মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল করিমের কনিষ্ঠ পুত্র বিটিভি শিল্পী আশরাফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আসামীরা তার স্বাক্ষর জাল করে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। পরে বিবাদী আশরাফ মাহমুদ তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে আদালতে অবেদন করেন। এতে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল আদালত তার তর্কিত স্বাক্ষর নিশ্চিতের জন্য ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে প্রেরণ করেন। সেখানে স্বাক্ষরটি আশরাফ মাহমুদের নয় বলে বিবেচিত হয়। স্বাক্ষ্য প্রমান শেষে মামলা থেকে আশরাফ মাহমুদকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয় এবং স্বাক্ষর জালিয়াতি, প্রতরণা ও মিথ্যা স্বাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগে আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে উপরোক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইমান আলী বাদী হয়ে মামলা করার নির্দেশ দেন। যার মামলা নং সিআর-১৩০/২০১৮। ওই মামলার আসামিরা গতকাল রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তা নামঞ্জুর করে আসামীদের জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন।
