ছবির ক্যাপশন:
ফেসবুক পোস্টে অনুপ্রাণিত হয়ে পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের প্রশংসিত উদ্যোগ
দর্শনা থেকে সাজ্জাদ হোসেন: ফেসবুকে পলাশ নুরুজ্জামান নামের একজন যুবকের পোষ্টে অনুপ্রাণিত হয়ে ঐতিহ্যবাহী মাথাভাঙ্গা নদীর উপরের দর্শনাস্থ মেমমনগর-পারকৃষ্ণপুরের সংযোগ মির্জা সুলতান রাজা সেতুটি দৃষ্টিনন্দন করার উদ্যোগ গ্রহন করেছেন দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএএম জাকারিয়া আলম। বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দরা, তারা সকলে ভীষন উল্লোসিত এরকম একটি সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহনের জন্য। জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দর্শনার পলাশ নুরুজ্জামান নামের এক যুবক গত ২৯ এপ্রিল, দুপুর ২:৪ মিনিটে ‘দর্শনার কোন ব্রীজটি রঙ করলে এর চেয়ে দর্শনীয় স্থান হতে পারে’? ক্যাপশনসহ একটি দৃষ্টিনন্দন ব্রীজের ছবি পোষ্ট করেন। মুহূর্তেই ছবিটির লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারে ছরিয়ে পরে। একসময় তা পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি সেখানে লেখেন ‘রঙ করলেই সকলে বুঝতে পারবে। দ্রুততম সময়ে রঙ হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ’। এরপর থেকেই মূলত তোরজোড় শুরু হয়, ব্রিজটিকে ঘিরে চলতে থাকে নানাবিধ পরিকল্পনার প্রস্তুতি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা দর্শনাসহ এঅঞ্চল কতোটা সাংস্কৃতিক বান্ধব তা দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে সেতুটিকে এমন ভাবে রঙ করতে হবে যার মধ্যে শৈল্পিকতা ও নান্দীকতা দু’টির যেন প্রতিফলন ঘটে। পাশাপাশি সেতুটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে তার উপর সোলার ষ্ট্রীট লাইট স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। এ প্রসঙ্গে পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএএম জাকারিয়া আলম বলেন-‘প্রজন্মের স্বপ্নের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমার এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ। প্রজন্মের সাধ ও আমার সাধ্যের মধ্য থেকে সর্বচ্চা চেষ্টা থাকবে সেতুটির একটি নান্দনিক রুপদানে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও, সেতুটি যাতে অল্প সময়ের মধ্যে একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে সে চেষ্টা অব্যহত থাকবে সবসময়’। ফেসবুকে সেতুটিকে নিয়ে নান্দনিক রুপদানের প্রথম পোষ্টদাতা পলাশ নুরুজ্জামান এর অভিমত-‘মানুষের সৎ উদ্দেশ্য থাকলে অনেক কিছুই করতে পারে, তার বাস্তব উদাহারণ পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের সম্মানিত চেয়ারম্যান জাকারিয়া আলম। তিনি কিছুদিন পূর্বে উক্ত ইউনিয়নের ৫৩ টি সড়ক আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ৫৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে নামকরণ করেছেন। ১৯৭১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ-সমরে হৈয়বপুরের ৫ জন শহীদের স্মরণে নির্মাণ করেছেন ‘স্মৃতিসৌধ’। আবার তারই উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক সাংসদ প্রয়াত ‘মির্জা সুলতান রাজা সেতু’টি নান্দনিক রুপ নিচ্ছে এটা যেমন আনন্দের, তেমনি গর্বের। প্রত্যাশা শুরু দ্রুত তা বাস্তবায়নের’।
