গাংনীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে সড়কের গাছ কাটার অভিযোগ

আপলোড তারিখঃ 2018-04-26 ইং
গাংনীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে সড়কের গাছ কাটার অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
গাংনী অফিস: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হিন্দা গ্রামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সড়কের সরকারী বড় শিশু গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর নিকট ৮০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। গত (২২ এপ্রিল) রোববার সকালে গাংনী উপজেলার হিন্দা গ্রামের নিজের জমির সাথে লাগুয়া সড়কের বড় একটি শিশু গাছ কাটা শুরু করেন স্থানীয় হিজলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুজামান। কিছু সময় পরে বিষয়টি গ্রামবাসী টের পেলে গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে গাছ সরাতে পারেনি শিক্ষক মনিরুজামান। এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে গাছটি যেভাবে আছে সেভাবে ফেলে রাখার নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেলোয়ার হোসেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, কয়েকবার মাপার পরেও বিষয়টি সুরাহা হয়নি। জমির মালিকের পাশ থেকে মাপলে সরকারী অংশে গাছের বেশির ভাগ পড়ে। অন্যদিকে জমির মালিকের আপন বোনের দিক থেকে অথ্যাৎ রাস্তার উপার থেকে নিয়ম মাফিক মাপা হলে গাছ ছাড়াও সড়কের জমি দুই ফিট বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গাছ তো আমরা পাব পাশাপাশি উনার ভিতরে আরো জমি সরকার পাবে। কিন্তু জমির মালিকের দাবির প্রেক্ষিতে আবারো জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এদিক সচেতন মহলের লোকজন মনে করছে এভাবে সড়কের পাশের গাছগুলো কাটা শুরু হলে দীর্ঘদিনের পুরানো গাছগুলো হারিয়ে যেতে পারে। স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের আইসি পরিতোষ সরকার জানান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেলোয়ার হোসেন জমি জরিপ করেছে। তিনি কোন সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত দেয়নি। তবে গাছগুলো আমার হেফাজতে রাখার নিদের্শ দিয়েছেন। এদিকে জমির মালিক জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেছেন এখন পর্যন্ত কোন সুরাহা মেলেনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, ১৯৬৮ সালের দিকে আমাদের গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। সেই সময়ে এই সড়ক নির্মাণ করা হয়। সড়কের সাথে শিক্ষক মনিরুজামানের জমি। তাদের ওই জমিতে অনেকগুলো শিশুগাছ ছিলো। সেই গাছগুলো ১৫-২০ বছর আগে কাটা হয়। কিন্তু দুটি গাছ সরকারী জমিতে পরায় সেই গাছ দুটি সেই স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসন কাটতে দেয়নি। তিনি আবারো গত রোববার সকালে গাছটি কাটা শুরু করে এবং গাছটি ৮০ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রি করে। গ্রামবাসী গাছ কাটতে বাধা দিয়েছেন। প্রশাসন বিষয়টি দেখছে। তবে ওই শিক্ষক শুধুই সরকারী সম্পদ দখলে রাখার চেষ্টা করে। নিজের বাড়ির অধিকাংশ সরকারী রাস্তার মধ্যে পরেছেন বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানিয়েছেন, এভাবে সড়কের পাশের গাছ কাটা হলে তার কঠোর বিচার না হলে সড়কের পাশের সরকারী কোন গাছ আমরা আর ধরে রাখতে পারব না। অভিযোগের বিষয়ে গাছ মালিক দাবি করা শিক্ষক মনিরুজামান জানান, আমি আওয়ামী লীগ দল করি তাই একটু সমস্যা আছে। তাছাড়াও জমি মাপা আমার পছন্দ হয়নি; ফলে আবারো জমি মাপার জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন জানিয়েছি। তাই জমি মাপা ভালো হলে গাছ আমার হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেলোয়ার হোসেন জানান, আমি সরেজমিনে গিয়ে একদিক থেকে মাপ দিলে সরকারী গাছটি ছাড়াও আমরা বিবাদীর নিকট আরো জমি পাব এবং অপরদিক থেকে মাপদিলে গাছের অর্ধেক সরকারের মধ্যে পড়ে। তবে সে যেহেতু গাছের দাবি করছে সেহেতু জেলা প্রশাসক বিষয়টির সমাধান দেবেন। জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ জানান, এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসারের সাথে আলাপ করে বিষয়টির সমাধান দেওয়া হবে। যদি সরকারী সরকের উপর গাছ থাকে তবে কোন ভাবে কোন ব্যক্তি সরকারী সম্পদে হাত দিতে পারবে না। তবে আমার নিকট এখন পর্যন্ত কোন আবেদন আসেনি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)