ছবির ক্যাপশন:
অজানার উদ্যোশে পাড়ি : মেয়ের বয়স কম হওয়ায় পিতার মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রেমের টানে ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়ে অবশেষে পুলিশের হাতে আটক ইরান ফাতেমা জুটি। গতকাল শনিবার ভোরে ফরিদপুর জেলার মধুখালি থেকে চাচাতো ভাই মুকুল ও ইরানকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুর সিমাখালি মুকুলের শ্বশুর বাড়ি থেকে ফাতেমাকে উদ্ধার করে পুলিশ। নারী ও শিশু নির্যাতনসহ অপহরণ আইনে মামলা থাকায় গতকালই ইরান ও তার চাচাতো ভাই মুকুলকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে ফাতেমাকে। আজ তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানায় পুলিশ।
ইরানের বিরুদ্ধে করা কেস তুলে নিতে হবে। তাকে ছাড়া বাড়ি যাবে না ফাতেমা। প্রয়োজনে তারা দু’জন পড়ালেখা শেষে আবার এক সাথে হবে। অন্যথায় আরো কঠিন পথ বেছে নেবে। জীবনের বাকিটা সময় ইরানের সাথে কাটাতে চাই সে। গতকাল সদর থানায় বক্সি’র ঘরে বসে কান্না জড়িত কন্ঠে এমন করে নিজের অভিমত ব্যক্ত করছিলেন চুয়াডাঙ্গা মুক্তিপাড়ার বাসিন্দা বর্তমান পুরাতন হাসপাতাল পাড়ায় হাসানুজ্জামান মল্লিক রানার মেয়ে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রী ফাতেমা জহুরা মল্লিক।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ মহিলা কলেজপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের ডিগ্রি ১ম বর্ষের ছাত্র ইরান (২৩) ও চুয়াডাঙ্গা মুক্তিপাড়া বর্তমানে পুরাতন হাসপাতাল পাড়ায় বসবাসকারি হাসানুজ্জামান মল্লিক রানার মেয়ে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রী ফাতেমা জহুরা মল্লিক (১৭) এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ফাতেমার ইন্টার প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ মুহুর্তে দু’জনে বিয়ে করে ঘর বাধার স্বপ্নে গত ২৫/০৩/১৮ তারিখে একে অপরের হাত ধরে পালিয়ে যায়। প্রথমে দামুড়হুদাতে একদিন থাকার পর জীবননগরে তিনদিন থাকে। এরপর ইরান তার চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি ফরিদপুর মধুখালি মধ্য গাড়াপাড়ায় অবস্থান করে। একপর্যায়ে ইরান ফাতেমাকে ফরিদপুর সিমাখালি মুকুলের শ্বশুর বাড়ি রেখে আসে। অবশেষে গতকাল শনিবার আশ্রয় দেয়া চাচাতো ভাই মুকুলসহ ইরান ও ফাতেমাকে আটক করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা হেফাজতে নেয় সদর থানা পুলিশ। উল্লেখ্য, ফাতেমার বয়স ১৭ বছর ৮ মাস হওয়ায় তার পিতা হাসানুজ্জামান মল্লিক রানা গত ১০/০৪/১৮ ইং তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতনসহ অপহরণ আইনে মামলা করে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার (ওসি তদন্ত) অব্দুল খালেক সময়ের সমীকরণকে জানান, গত ১০/০৪/১৮ ইং তারিখে ফাতেমার পিতা হাসানুজ্জামান মল্লিক রানা বাদী হয়ে অপহরণ ও শিশু নির্যাতন আইনে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্যারের তত্বাবধানে আসামীকে ধরতে আমরা তৎপরতা শুরু করি। অবশেষে আসামীর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে ফরিদপুর মধুখালি পুলিশের সাহায্যে গতকাল ভোরে ফরিদপুর মধুখালি মধ্য গাড়াপাড়া থেকে অভিযুক্ত ইরানসহ তার চাচাতো ভাই মুকুলকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুকুলের শ্বশুর বাড়ি সিমাখালি থেকে ফাতেমাকে উদ্ধার করা হয়। গতকালই ইরান ও মুকুলকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আজ ফাতেমাকে আদালতে হস্তান্তর করা হবে।
