কুড়ুলগাছির চন্ডিপুরে ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

আপলোড তারিখঃ 2018-04-17 ইং
কুড়ুলগাছির চন্ডিপুরে ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
মানবিকতা দেখানো নিয়ে দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব : মারামারি বিশেষ প্রতিবেদক: কুড়ুলগাছির ইউনয়নের চন্ডিপুর গ্রামের খামরী পাড়ায় ৩ দিন ধরে দুইটি পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে গত রোববার দুপুরের দিকে হাতাহাতি ও চুলোচুলির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, বিগত ৬/৭ মাস আগে চন্ডিপুর খামারীপাড়ার শাহবুদ্দিনের ছেলে শাহাবাজের সাথে মাগুরা শ্রীপুরের আসাদ মিয়ার মেয়ে নাদিয়া (১৬) এর বিয়ে হয়। নাদিয়া শাহাবাজের বোনের ননদ। এ বিয়ে নাদিয়ার বাবা-মা মেনে নিতে না পেরে শাহাবাজের বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপর নাদিয়াকে তার বাবা চন্ডিপুরে নিতে আসে। এসময় নাদিয়া বাবার সাথে যেতে না চাইলে স্থানীয় লোকজন শালিস করে নাদিয়াকে চন্ডিপুরে রেখে দেয়। এবং শালিসে নাদিয়ার বাবা বলে আমার কোন মেয়ে জামাই নেই এই বলে রাগ করে চলে যায়। এদিকে শাহাবাজের বিরুদ্ধে করা উক্ত মামলা তুলে না নেওয়ায় শাহাবাজ তার বিজিবির চাকুরী হারাই। এ ঘটনার গত ১লা বৈশাখ চন্ডিপুর থেকে কেউ একজন মোবাইল করে নাদিয়ার বাবা-মাকে যানায় তাদের মেয়েকে নির্যাতন করছে শাহাবাজ তার মা ও বাবা এমনকি ঠিকমত খেতে দেয় না। এখবর পেয়ে নাদিয়ার বাবা-মা মেয়েকে দেখতে ছুটে আসে চন্ডিপুরে। এসময় শাহাবাজ তার শ্ব্শুর-শাশুড়ীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তারা শাহাবাজের চাচা রফিকুল ইসলামে বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এ খবর পেয়ে শাহাবুদ্দিন ও তার দুই ছেলে অন্তর (২০) শাহবাজ (৩০) রফিকুলের বাড়িতে এসে গালিগালাজ করতে থাকে। এবং বলে আমরাও তার বাড়ি মাগুরায় গিয়ে ছিলাম, সেখানে কেউ আমাদের থাকতে জায়গা দেয়নি। তাহলে তুমি এদেরকে থাকতে জায়গা দিলে কেন? এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা বাধে। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ বিষয় কার্পাডাঙ্গা ফাঁড়ির এসআই আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, শাহাবুদ্দিন ও তার দুই ছেলে অন্তর ও শাহবাজ মিলে রফিকুলের বাড়ির লোকজনকে মারমুখী হলে আমি শাহাবুদ্দিনের হাত চেপে ধরি এবং আমার কন্সটেবল আমিরুল অন্তরের জামা চেপে ধরে। এসময় শাহবুদ্দিন তার বড় চাচাতো ভাবিকে লাথি মেরে দেয়। তখন আমি শাহাবুদ্দিনকে একটি চড় মেরে শান্ত করার চেষ্টা করি। এসময় চেয়ারম্যান এনামুল কবির ইনু এসে বলে বিষয়টি আমি দেখছি। তখন আমরা সেখান থেকে চলে আসি। তবে স্থানীয় লোকজন জানান পুলিশ অন্তরকে এবং তার পিতা শাহাবুদ্দিনকে বেধরক মারধর করে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহতি হলেও অন্তর ও তার পিতাকে রফিকুলের পক্ষ থেকে কেউ মারেনি। বরং তাদের পুলিশেল সদস্যরা মেরেছে বলে জানান শাহাবদ্দিনের স্ত্রী শাহিনুর ও তার বৌমা নাদিয়া। নাদিয়া আরো বলেন, আমার বাবা-মা কে আশ্রয় দেওয়া কথা জিজ্ঞাসা করতে গেলে রফিকুলের স্ত্রী তার স্বামী বটি ও লাঠি নিয়ে আমাদের বাড়িতে মারতে আসে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহতি ও ঝগড়া শুরু হয়। এদিকে রফিকুলের স্ত্রী, ভাবি রেহেনা বেগম, মেয়ে সেলিনা খাতুন বেলা ও ছেলের বউ তামান্না বলেন, শাহাবাজের শ্বশুর-শাশুড়ী আমাদের বাড়িতে এলে তাদের মানবিক দৃষ্টিতে তাদের বসতে বলেছি। এতে করে ওরা যে ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি-সোটা নিয়ে বাড়িতে এসে গালিগালাজ করে এবং আমাদের বাড়ির ৪ জনকে মারধর শুরু করে। এসময় পুলিশ এসে আমাদের রক্ষা করে। এতে রেহেনা বেগম (৪৭) মেয়ে সেলিনা খাতুন বেলা (২৩) ও ছেলের বউ তামান্না (২০) আহত হয়। তিনি আরো বলেন শাহাবাজ নারী কন্ঠে কথা বলে বিভিন্ন মেয়ের সাথে প্রতারণা করে। তার কাছে প্রায় ২১টা সীম কার্ড আছে। এ কারণে তার চাকুরী চলে গেছে। এসময় পুলিশ এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। এঘটনা দেখে ছুটে আসে। এবং আমাদের রক্ষা করে। এঘটনায় কুড়–লগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল কবির ইনু বলেন, ঐ পাড়ায় গন্ডগোল হচ্ছে শুনে আমি যায়। এবং গিয়ে দেখি সবাই পুলিশের উপর ক্ষীপ্ত হয়ে তাদের উপর আক্রমনের চেষ্টা করছে। এমন ভাব দেখে পুলিশকে চলে যেতে বলি এবং আহত অন্তরকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। তবে ঘটনা রফিকুল ইসলাম শাহবাজের শ্বশুর শাশুড়ীকে বাড়িতে বসতে দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে শাহাবাজরা একুটু উগ্র ছিলো আমি না গেলে পুলিশের গায়ে হাত তুললে বড় ধরণের ঘটনা ঘটে যেত।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)