আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস : বর্ণিল সাজে মুজিবনগর

আপলোড তারিখঃ 2018-04-17 ইং
আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস : বর্ণিল সাজে মুজিবনগর ছবির ক্যাপশন:
মেহের আমজাদ/মাসুদ রানা: আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়। এর আাগে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পর একই বছরের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়। অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এ দিন ঘোষিত ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়। ঘোষণাপত্রে সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে প্রজাতন্ত্রের উপ-রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়াও তাজউদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এএইচএম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী নিযুক্ত হন। আর জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান কমান্ডার এবং মেজর জেনারেল আবদুর রব চীফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন। ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ দেশবাসীর উদ্দেশে বেতার ভাষণ দেন, যা আকাশবাণী থেকে একাধিকবার প্রচারিত হয়। তাজউদ্দিনের ভাষণের মধ্যদিয়েই দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পারে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি আইনানুগ সরকার গঠিত হয়েছে। এরই পথপরিক্রমায় ১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরের দিন দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকা এবং সংবাদ মাধ্যমে ১৭ এপ্রিল শপথগ্রহণের এই সংবাদ ফলাও করে ছাপা হয়। বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনা বা আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হিসেবে এই দিনটির তাৎপর্য ছিলো বিশাল। আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপনে মেহেরপুর মুজিবনগর আ¤্রকানন বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। স্মৃতিসৌধে পুস্পমাল্য অর্পন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসন। আর সেই সাথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান, মেহেরপুর জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ ও পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালিন বৈদ্যনাথতলা (মুজিবনগর) আ¤্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করেন। সেই দিনটি জাতির কাছে তুলে ধরতেই প্রতি বছরের মত এবারও ১৭ এপ্রিল সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসুচী শুরু হবে। জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ জানান, এদিন সকাল ৯টায় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর পরই শুরু হবে গার্ড অব অনার প্রদান ও কুজকাওয়াজ প্রদর্শন। অনুষ্ঠানে সকাল ১০টায় `জল, মাটি ও মানুষ` শিরোনামে গীতিনাট্য উপস্থাপন করা হবে। ১০টা ৪৫ মিনিটে শেখ হাসিনা মঞ্চে মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা শুরু হবে। প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী আমির হোসেন আমু। সভাপতিত্ব করবেন মুজিবনগর দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বক্তব্য রাখবেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, এমপি, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এদিন বিকেল ৫টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশ বরেণ্য শিল্পিবৃন্দ সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। এছাড়াও কমপ্লেক্স এলাকাজুড়ে আলোকাসজ্জা করা হয়েছে। থাকছে রঙিন আলোর ঝলকানি। এদিকে কমপ্লেক্স এলাকা মনোরম পরিবেশে সজ্জিত করা হয়েছে। ব্যানারে-ফেস্টুনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান, প্রথম সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্য (জাতীয় চার নেতা) ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি স্থান পেয়েছে। মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়করে দু’পাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এবারের অনুষ্ঠান ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেহেরপুর পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান। তিনি আরো বলেন, যে কোন প্রকার বিশৃংখলা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক রয়েছে পুলিশ। জেলা ছাড়াও অন্যান্য জেলা থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য আনা হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়ক এবং অনুষ্ঠান স্থলের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া কমপ্লেক্সে প্রবেশে কড়াকড়ি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)