ছবির ক্যাপশন:
রাত পোহালেই প্রাণের বৈশাখ : বিপণী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়
এসএম শাফায়েত: রাত পোহালেই বাঙালীর প্রানের উৎসব পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ। পুরাতনকে পেছনে ফেলে সকল দুঃখ, বেদনা ভুলে নতুনকে বরণ করে বাঙ্গালীর সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিন পহেলা বৈশাখ। বাঙালীর এই উৎসব পালনের সকলেই যার যার স্থান থেকে প্রস্তুতি গ্রহন করছেন। ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, শ্রমিক, দিনমজুর, থেকে সর্বস্তরের মানুষ। কেউ কারো স্থান থেকে পিছিয়ে নেই। প্রতি বছরের মত এবারো পহেলা বৈশাখকে উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের বিভিন্ন পোশাক, গহনা, আসবাবপত্রের দোকানগুলোতে বেচা কেনা বাড়লেও চিন্তিত দধি মিষ্টি বিক্রেতারা। কালেল আবর্তে পহেলা বৈশাখে দধি মিষ্টি তৈলী ও বিক্রির জৌলুস হারানোয় দোকানগুলোতে বিক্রি কমেছে। শহর ঘুরে দেখা যায়, শহরের বড় বাজার, সমবায় নিউ মার্কেট, প্রিন্স প্লাজা, পুরাতন গলির বিভিন্ন শাড়ি কাপড়ের বিপনী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিশেষ করে সন্ধ্যার পর শহরের এসব দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে পা রাখার জায়গা থাকছে না। শিশু-কিশোর-কিশোরী, গৃহবধু, বয়স্ক সর্বস্তরের মানুষ ব্যাস্ত কেনা কাটার মাধ্যমে প্রিয় জনের মুখে হাসি ফোটাতে। সেমবায় নিউ মার্কেটের নন্দন’র স্বত্ত্বাধিকারী সুমন পারভেজ খান জানান, বৈশাখ উপলক্ষে দোকানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক তোলা হয়েছে। শিশু-কিশোর থেকে সব বয়সীদের জন্য বৈশাখ স্পেশাল আকর্ষণীয় সব পোশাক নিয়ে আসা হয়েছে। ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে সবকিছু পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। দেশি ও ঐতিহ্য নিয়ে বৈশাখ উপলক্ষে তৈরী করা হয়েছে শিশু, কিশোর, কিশোরীসহ সবধরনের ব্যাক্তির জন্য রুচীশীল পোশাক। তবে এর মধ্যে বেশি বিক্রি হচ্ছে পাঞ্জাবী ও শাড়ি। পাঁচশত থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত পোশাক রয়েছে বিপণী বিতানগুলোতে। এদিকে নববর্ষে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শুভ হালখাতার আয়োজন করা হয়। সেই লক্ষে বছরের প্রথম দিন শুভ কাজে খরিদদারদের মিষ্টি মুখ করানো একসময় রীতি ছিল। হালখাতার সেই আগের জৌলুস এখন আর নেই এমনটা বলেছেন ব্যবসায়ীরাই। আগের হালখাতার রীতিরও পরিবর্তন এসেছে বহুলাংশে। গত কয়েক বছরে খাবারের আয়োজনে গতানুগতিক মিষ্টি মুখের পাশাপাশি এখন যুক্ত হয়েছে অন্যান্য খাবার। হালিম, বিরিয়ানী, পোলাও, কোমল পানীয় থেকে শুরু করে কাবাব কাচ্চি দিয়ে হচ্ছে সেই হালখাতা, যা আগে এমনটা ছিল না। যার কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালখাতা সংক্রান্তে মিষ্টির চাহিদা কমেছে। তেমনি বাসা বাড়িতেও এখন আর অতিথি এলে মিষ্টি মুখ করানোর খুব একটা রীতি দেখা যায় না। এখন মেহমান বা অতিথি এলে মৌসুমী ফলমূল আর ফলের শরবত পরিবেশন করা হয়। গতবছর মিষ্টির প্রতি ভোক্তাদের চাহিদা কম থাকায় লোকশান গুনতে হয় অনেক ব্যবসায়ীকে। তাই এ বছরও সেই লোকশানের কথা মাথায় রেখে দৈনিক উৎপাদন তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে; তবে তা পহেলা বৈশাখের আগের দিন ও রাতে তৈরী করা হবে। চুয়াডাঙ্গার প্রসিদ্ধ মিষ্টি বিপণী মিষ্টি মুখ’র স্বত্তাধিকারী মুকুল মিয়া বলেন, ‘মিষ্টির প্রধান উপকরণ দুধের ছানা। প্রয়োজনীয় দুধের ছানার সরবরাহ না পাওয়ায় মিষ্টি তৈরীর তেমন প্রস্তুতি নেই। তা ছাড়া গত বছর মিষ্টির ক্রেতা না পাওয়ায় অনেক লোকশানও হয়। এবছর এখনও পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে; যা পুরো বৈশাখ মাসজুড়ে চলতে পারে। তাই দৈনন্দিন যে পরিমাণ মিষ্টি তৈরী করা হয়, পহেলা বৈশাখেও তেমনি থাকবে। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি মিষ্টির দোকানেই একই অবস্থা। দু’একজন ছাড়া অধিকাংশ দোকানেই পহেলা বৈশাখ নিয়ে তেমন তোড়জোড় নেই। রাত পোহালেই কোটি প্রাণ জুড়াবে উৎসবের আমেজে। বাহারী রঙিন পোশাকে সাজবে সবাই। মিষ্টির বাজারে বৈশাখের ছোঁয়া তেমনটা না লাগায় কারিগর ও তাদের মহাজনদের ঘরোয়া উৎসবটা হবে একটু আলাদা।
