আতঙ্কিত চিকিৎসক পরিবার : এসপি ও সিভিল সার্জনের হাসপাতাল পরিদর্শন

আপলোড তারিখঃ 2018-04-11 ইং
আতঙ্কিত চিকিৎসক পরিবার : এসপি ও সিভিল সার্জনের হাসপাতাল পরিদর্শন ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় কর্তব্যরত চিকিৎসককে অকথ্য ভাষায় গালি : অভিযুক্ত আশিক আটক নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ইনডোর অফিসার ডা. শিরিণ জেবিন সুমির সাথে ডিউটিরত অবস্থায় মারমুখি আচরণের অভিযোগ উঠেছে আশিক নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৭টার দিকে সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। এসময় যুবক আশিক জরুরী বিভাগে থাকা শিক্ষানবীশ উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসাদের সাথেও মারমুখি আচরণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। অভিযুক্ত আশিক চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমুদিয়াপাড়ার ইটভাটার মালিক দরুদের ছেলে। তবে, এ ঘটনার পর রাতেই অভিযুক্ত আশিককে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানা হেফাজতে নেয়। হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত অভিযুক্ত আশিকসহ এক যুবক চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। এসময় আশিক কর্তব্যরত চিকিৎসকের চেয়ারের কোল ঘেষে দাড়ালে কর্তব্যরত এক শিক্ষানবীশ উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার আশিককে সরে দাড়াতে অনুরোধ করে। এতে আশিক ক্ষীপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারতে উদ্যাত হয়। এসময় জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিরিন জেবিন সুমি উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারের সাথে খারাপ আচরণের প্রতিবাদ করেন। এতে যুবক আশিক আরো বেশী ক্ষীপ্ত হয়ে চিকিৎসক শিরিন জেবিন সুমিকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এবং বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিলে মুহুূর্তের মধ্যে জরুরী বিভাগে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আশিক অবস্থা বেগতিক দেখে দেখে নেওয়ার হুমকী দিয়ে জরুরী বিভাগ ত্যাগ করে। এঘটনার পর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্টাফরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন (সিএস) ডা. খাইরুল আলম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শামিম কবির ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এবং অভিযুক্ত অশিককে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের সহযোগিতা কামনা করলে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মহোদয় তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী পুলিশ সুপার (হেডকোয়াটার্স) আহসান হাবিবকে ঘটনাস্থলে পাঠান। এসময় সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবিব অভিযুক্ত আইনের আওতায় এনে শাস্তির আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল অভিযুক্ত যুবক আশিককে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়। তবে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন মামলা বা লিখিত অভিযোগ হয়নি। এবিষয়ে হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. খাইরুল আলম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। ঘটনার পরই আমি হাসপাতালের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরী মিটিং করেছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওই যুবকের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হবে। এবিষয়ে ডা. সুমির কোন বক্তব্য না পেলেও তাঁর স্বামী ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন তার স্ত্রীর বরাত দিয়ে বলেন, অভিযুক্ত আশিক জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার স্ত্রী ডা. শিরিন জেবিন সুমির চেয়ার ঘেষে দাড়ালে এক শিক্ষানবীশ উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার তাকে সরে দাড়াতে অনুরোধ করলে এতে ওই যুবক রাগান্বিত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে আমার স্ত্রী ডা. সুমি প্রতিবাদ করলে তাকেও গালিগালাজ করে এবং তার সাথে মারমুখি আচরণ করে। এবিষয়ে কোন আইনি ব্যবস্থা নিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কারণ সরকারি হাসপাতালে ডিউটিরত অবস্থায় লাঞ্ছিত হলে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখবে। এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, আমি ঘটনা শুনেছি। আমরা এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি জিজ্ঞাদাবাদের জন্য অভিযুক্ত আশিককে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। এঘটনার পর থেকে বখাটে যুবকদের ভয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকেরাসহ তাদের পরিবার ও হাসপাতাল স্টাফরা আতঙ্কে রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)