চুয়াডাঙ্গা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৯ আশ্বিন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিদাসপুর স্টুডিও’র মধ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গণধোলাই নাগদাহ ও খাসকররা ইউনিয়ন আ.লীগের কর্মী সভায় এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার কলেজিয়েট স্কুলের উপাধ্যক্ষ শামিম রেজার ৫২তম জন্মবার্ষিকী পালন বারাদী ইউনিয়নে গণসংযোগ, পথসভা ও লিফলেট বিতরণকালে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনের অভিযোগ আলমডাঙ্গায় পুত্রবধূর বটির কোপে শাশুড়ি জখম বাংলাদেশিদের ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া নিউজিল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ মার্কিন ভিসানীতি নিয়ে পুলিশ-আমলা-বিচারাঙ্গন সবার মধ্যে আতঙ্ক আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

অবিশ্বাস্য এক ফাইনাল

শ্রীলংকাকে উড়িয়ে অষ্টম শিরোপা ভারতের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১ বার পড়া হয়েছে
সময়ের সমীকরণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খেলাধুলা প্রতিবেদন:
এ কী ফাইনাল ম্যাচ! একতরফা লড়াইয়ের কোনো সংজ্ঞায় একে ফেলা যাবে? ৫০ ওভারের ম্যাচে সবমিলিয়ে খেলা হলো ২১.৩ ওভার! চরম লজ্জাজনক পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ফাইনাল হারল গতবারের চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক শ্রীলংকা। রোববার মাত্র ৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬.১ ওভারেই ১০ উইকেটের বড় এক জয় তুলে নিয়েছে রোহিত শর্মার দল ভারত।

দুই ওপেনার ইশান কিশান ২৩ আর শুবমান গিল ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ২৬৩ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। আসলে ফাইনালের উত্তেজনা মাটি হয়ে গেল প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যেই। মোহাম্মদ সিরাজ আর জাসপ্রিত বুমরাহর সামনে অসহায় শ্রীলংকা পড়ল বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।

আর পরে হার্দিক পান্ডিয়াও ঝাঁজ দেখালে স্বাগতিকদের ইনিংস থামল পঞ্চাশ ছুঁয়েই। ভারত মাত্র ৬.১ ওভারে আনুষ্ঠানিকতা সেরে জিতে নিল এশিয়া কাপে রেকর্ড ৮ম শিরোপা। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের ফাইনালে দুই দলের মিলিয়ে খেলা হলো স্রেফ ২১.৩ ওভার। ১৫.২ ওভারে মাত্র ৫০ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ওই রান তুলতে ৩৭ বলের বেশি খেলতে হয়নি ইশান কিশান আর শুভমান গিলের। ভারত ম্যাচ জিতেছে ১০ উইকেটে।

আর যে ম্যাচে কোনো দল ৫০ রানে গুটিয়ে যায় সেই ম্যাচে ব্যাটিং নিয়ে লেখার আসলে কিছু নেই। কাজটা করেছেন মোহাম্মদ সিরাজ, তাকে সঙ্গত করেছেন বুমরাহ আর হার্দিক। ৭ ওভার বল করে মাত্র ২১ রানে ৬ উইকেট নেন সিরাজ, প্রথম উইকেট কেবল নিয়েছিলেন বুমরাহ। শেষের তিন উইকেট আবার তুলেছেন হার্দিক, তাও মাত্র ৩ রান দিয়ে। তবে সবাইকে ছাপিয়ে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সিরাজ।

এশিয়া কাপের আসরে এটিই

\হকোন দলের সর্বনিম্ন পুঁজি, সব মিলিয়ে নবম সর্বনিম্ন আর লঙ্কানদের নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। দাসুন শানাকার দল এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ল ভরা গ্যালারির সামনে। ফাইনাল রাঙানোর আশা নিয়ে স্বাগতিক দর্শকরা এসেছিলেন বিপুল উৎসাহে। তাদের হতে হয়েছে চরম হতাশ।

অথচ টস জিতে ব্যাটিং বেছে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেতে চেয়েছিল শ্রীলংকা। দারুণ সু্যয়িং বোলিংয়ে তাদের সেই স্বপ্নে শুরুতেই ধাক্কা দেন বুমরাহ। তার বেরিয়ে যাওয়া বল খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন কুশল পেরেরা। এরপর মঞ্চে আসেন সিরাজ।

চতুর্থ ওভারে তিনি হয়ে উঠেন বিধ্বংসী। দুই দিকেই সু্যয়িং পাচ্ছিলেন, তবে লঙ্কানদের ব্যাটিংও হয়নি জুতসই। বাইরের বল তাড়া করে তারাও ডেকে এনেছেন বিপদ। পাথুম নিশানকা ড্রাইভ খেলে ক্যাচ দেন পয়েন্টে, চারিথা আসালাঙ্কাও তা-ই। সাদেরা সামারাবিক্রমা কাবু হন ভেতরে ঢোকা বলে। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা বাইরের বল তাড়া করে দেন ক্যাচ। দাসুন শানাকা ফ্লিকের মতো খেলে বোল্ড।

এক ওভারে ৪ উইকেট, পরের ওভারে আরেকটি নিয়ে। ১০ বলের মধ্যে ৫ উইকেট হয়ে যায় তার। সিরাজ ৪ রানেই পূরণ করে নেন ফাইফার। বলের হিসেবে এটি চামিন্দা ভাসের সঙ্গে যৌথভাবে দ্রম্নততম পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড। ২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে তার সমান ১৬ বলে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন সাবেক লঙ্কান পেসার। শেষ পর্যন্ত ৭ ওভারে এক মেইডেনসহ মাত্র ২১ রানে ৬টি উইকেট নেন সিরাজ। হার্দিক পান্ডিয়া ৩ রানে নেন ৩ উইকেট।

১২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে তারা। আর স্রোতের বিপরীতে দুই অঙ্কে যান কুশল মেন্ডিস। যদিও টিকতে পারেননি বেশি। ৩৪ বলে ১৭ রান করে সিরাজের ভেতরে ঢোকা বলে হন বোল্ড। লঙ্কানদের স্কোর পঞ্চাশ পার হয় নয়ে নামা দুশন হেমন্তের কারণে। ১৫ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ উইকেটগুলো টপাটপ নিয়ে নেন হার্দিক।

মামুলি রান তাড়ায় নিজে না নেমে গিলের সঙ্গে ইশানকে পাঠান রোহিত শর্মা। ইশান কিশান- শুবমান গিল শুরু থেকেই খেলতে থাকেন আগ্রাসী। যে পিচে খানিক আগে লংকানরা ধসে গেলেন, সেখানে তারা খেলেছেন অতি সাবলীলভাবে। অবশ্য মাথার ওপর ছিল না কোনো চাপ। ১৮ বলে তিন চারে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন ইশান। ১৯ বলে ৬ চারে ২৭ করেন গিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলংকা ৫০ (১৫.২ ওভার, কুশল মেন্ডিস ১৭, দিমুথ ওয়ালেগেস্ন ৮, দুসান হেমন্ত ১৩, পাথুম নিশাঙ্কা ২, প্রমোদ মাদুশান ১; মোহাম্মদ সিরাজ৬/২১, হার্দিক পান্ডিয়া ৩/৩, জাসপ্রিত বুমরাহ ১/২৩)

ভারত ৫১/০ (৬.১ ওভার, ইশান কিশান ২৩*, শুভমান গিল ২৭; প্রমোদ মাদুশান ০/২১, মাতিশাহা ০/২১)

ফলাফল : ভারত ১০ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা : মোহাম্মদ সিরাজ (ভারত)

টুর্নামেন্ট সেরা কুলদীপ যাদব (ভারত)

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অবিশ্বাস্য এক ফাইনাল

শ্রীলংকাকে উড়িয়ে অষ্টম শিরোপা ভারতের

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

খেলাধুলা প্রতিবেদন:
এ কী ফাইনাল ম্যাচ! একতরফা লড়াইয়ের কোনো সংজ্ঞায় একে ফেলা যাবে? ৫০ ওভারের ম্যাচে সবমিলিয়ে খেলা হলো ২১.৩ ওভার! চরম লজ্জাজনক পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ফাইনাল হারল গতবারের চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক শ্রীলংকা। রোববার মাত্র ৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬.১ ওভারেই ১০ উইকেটের বড় এক জয় তুলে নিয়েছে রোহিত শর্মার দল ভারত।

দুই ওপেনার ইশান কিশান ২৩ আর শুবমান গিল ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ২৬৩ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। আসলে ফাইনালের উত্তেজনা মাটি হয়ে গেল প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যেই। মোহাম্মদ সিরাজ আর জাসপ্রিত বুমরাহর সামনে অসহায় শ্রীলংকা পড়ল বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।

আর পরে হার্দিক পান্ডিয়াও ঝাঁজ দেখালে স্বাগতিকদের ইনিংস থামল পঞ্চাশ ছুঁয়েই। ভারত মাত্র ৬.১ ওভারে আনুষ্ঠানিকতা সেরে জিতে নিল এশিয়া কাপে রেকর্ড ৮ম শিরোপা। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের ফাইনালে দুই দলের মিলিয়ে খেলা হলো স্রেফ ২১.৩ ওভার। ১৫.২ ওভারে মাত্র ৫০ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ওই রান তুলতে ৩৭ বলের বেশি খেলতে হয়নি ইশান কিশান আর শুভমান গিলের। ভারত ম্যাচ জিতেছে ১০ উইকেটে।

আর যে ম্যাচে কোনো দল ৫০ রানে গুটিয়ে যায় সেই ম্যাচে ব্যাটিং নিয়ে লেখার আসলে কিছু নেই। কাজটা করেছেন মোহাম্মদ সিরাজ, তাকে সঙ্গত করেছেন বুমরাহ আর হার্দিক। ৭ ওভার বল করে মাত্র ২১ রানে ৬ উইকেট নেন সিরাজ, প্রথম উইকেট কেবল নিয়েছিলেন বুমরাহ। শেষের তিন উইকেট আবার তুলেছেন হার্দিক, তাও মাত্র ৩ রান দিয়ে। তবে সবাইকে ছাপিয়ে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সিরাজ।

এশিয়া কাপের আসরে এটিই

\হকোন দলের সর্বনিম্ন পুঁজি, সব মিলিয়ে নবম সর্বনিম্ন আর লঙ্কানদের নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। দাসুন শানাকার দল এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ল ভরা গ্যালারির সামনে। ফাইনাল রাঙানোর আশা নিয়ে স্বাগতিক দর্শকরা এসেছিলেন বিপুল উৎসাহে। তাদের হতে হয়েছে চরম হতাশ।

অথচ টস জিতে ব্যাটিং বেছে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেতে চেয়েছিল শ্রীলংকা। দারুণ সু্যয়িং বোলিংয়ে তাদের সেই স্বপ্নে শুরুতেই ধাক্কা দেন বুমরাহ। তার বেরিয়ে যাওয়া বল খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন কুশল পেরেরা। এরপর মঞ্চে আসেন সিরাজ।

চতুর্থ ওভারে তিনি হয়ে উঠেন বিধ্বংসী। দুই দিকেই সু্যয়িং পাচ্ছিলেন, তবে লঙ্কানদের ব্যাটিংও হয়নি জুতসই। বাইরের বল তাড়া করে তারাও ডেকে এনেছেন বিপদ। পাথুম নিশানকা ড্রাইভ খেলে ক্যাচ দেন পয়েন্টে, চারিথা আসালাঙ্কাও তা-ই। সাদেরা সামারাবিক্রমা কাবু হন ভেতরে ঢোকা বলে। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা বাইরের বল তাড়া করে দেন ক্যাচ। দাসুন শানাকা ফ্লিকের মতো খেলে বোল্ড।

এক ওভারে ৪ উইকেট, পরের ওভারে আরেকটি নিয়ে। ১০ বলের মধ্যে ৫ উইকেট হয়ে যায় তার। সিরাজ ৪ রানেই পূরণ করে নেন ফাইফার। বলের হিসেবে এটি চামিন্দা ভাসের সঙ্গে যৌথভাবে দ্রম্নততম পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড। ২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে তার সমান ১৬ বলে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন সাবেক লঙ্কান পেসার। শেষ পর্যন্ত ৭ ওভারে এক মেইডেনসহ মাত্র ২১ রানে ৬টি উইকেট নেন সিরাজ। হার্দিক পান্ডিয়া ৩ রানে নেন ৩ উইকেট।

১২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে তারা। আর স্রোতের বিপরীতে দুই অঙ্কে যান কুশল মেন্ডিস। যদিও টিকতে পারেননি বেশি। ৩৪ বলে ১৭ রান করে সিরাজের ভেতরে ঢোকা বলে হন বোল্ড। লঙ্কানদের স্কোর পঞ্চাশ পার হয় নয়ে নামা দুশন হেমন্তের কারণে। ১৫ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ উইকেটগুলো টপাটপ নিয়ে নেন হার্দিক।

মামুলি রান তাড়ায় নিজে না নেমে গিলের সঙ্গে ইশানকে পাঠান রোহিত শর্মা। ইশান কিশান- শুবমান গিল শুরু থেকেই খেলতে থাকেন আগ্রাসী। যে পিচে খানিক আগে লংকানরা ধসে গেলেন, সেখানে তারা খেলেছেন অতি সাবলীলভাবে। অবশ্য মাথার ওপর ছিল না কোনো চাপ। ১৮ বলে তিন চারে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন ইশান। ১৯ বলে ৬ চারে ২৭ করেন গিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলংকা ৫০ (১৫.২ ওভার, কুশল মেন্ডিস ১৭, দিমুথ ওয়ালেগেস্ন ৮, দুসান হেমন্ত ১৩, পাথুম নিশাঙ্কা ২, প্রমোদ মাদুশান ১; মোহাম্মদ সিরাজ৬/২১, হার্দিক পান্ডিয়া ৩/৩, জাসপ্রিত বুমরাহ ১/২৩)

ভারত ৫১/০ (৬.১ ওভার, ইশান কিশান ২৩*, শুভমান গিল ২৭; প্রমোদ মাদুশান ০/২১, মাতিশাহা ০/২১)

ফলাফল : ভারত ১০ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা : মোহাম্মদ সিরাজ (ভারত)

টুর্নামেন্ট সেরা কুলদীপ যাদব (ভারত)