চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবননগর বেনীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জানুয়ারি ১৪, ২০২২ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জীবননগর অফিস:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুল মেরামতের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষকের নাম নাসির উদ্দিন। তিনি উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের বেনীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবননগর উপজেলার বেনীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন নিজের ইচ্ছেমতো স্কুলে কাজ করেন। স্কুল মেরামতের জন্য সরকারিভাবে কত টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়, এ বিষয়ে তিনি কাউকে কিছু বলেন না। উন্নয়ন না করেও তিনি ভাউচার তৈরি করে উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ করেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বেনীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের জন্য ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেলেও সেখানে কাজ করা হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার টাকার। বাকি ৩০ হাজার টাকার কোনো হিসাব নেই প্রধান শিক্ষকের নিকট। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি হিসেব চাইলেও তিনি সঠিক হিসাব দিতে পারনেনি। অবশেষে ওই শিক্ষক নিজে দায় স্বীকার করে বিদ্যালয়ে উন্নয়নে আরও ২৫ হাজার টাকার কাজ করে দিবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আশাদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যালয়ের কোনো হিসাব দেন না এবং বিদ্যালয়ের যে সমস্ত উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে, সে কাজের সাথে ভাউচারের কোনো মিল নেই। এ কারণে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে জীবননগর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়ে আসেন এবং বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি স্কুলের কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। বিদ্যালয়ের মেরামতের জন্য যে টাকা বরাদ্দ পেয়েছি, তার সমস্তটায় বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য খরচ করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কামাল হোসেন বলেন, ‘বেনীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি  লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমিসহ আরও দুজন সহকারী শিক্ষা অফিসারকে (এটিও) সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করি। সেখানে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক যে কাজ করেছে, তার কিছু ভাউচার নিয়ে সমস্যা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির কাউকে না বলে কাজ করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টি সমাধান করে দেওয়া হয়েছে। যে টাকা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে, সেই পরিমাণ টাকার কাজ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রধান শিক্ষক নিজ উদ্যোগে ব্যয় করবেন।’ এদিকে, একজন শিক্ষকের এমন কাণ্ডে স্থানীয় অনেকে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।