চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৬ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বৈরাচার পতন দিবস আজ

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
ডিসেম্বর ৬, ২০২১ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

স্বৈরাচার পতন দিবস আজ। ১৯৯০ সালের এ দিনে দীর্ঘ ৯ বছরের রক্তস্নাত আন্দোলনের পর পতন ঘটেছিলো স্বৈরশাসনের। এ জন্য ৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। গণতন্ত্র মুক্তি পাওয়ার দিন। দিনটি উপলক্ষে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক বাণী দিয়েছে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক শাসন জারি করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরপর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই শুরু হয়। দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতন ঘটে। দেশে শুরু হয় গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা।

বিএনপির বাণী : স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব তার বাণীতে বলেন, ‘৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস উপলক্ষে আমি দেশবাসী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। ৯ বছরব্যাপী স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-গণ-আন্দোলনে আত্মাহুতিদানকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করি। তিনি আরো বলেন, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতনের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছিল আবারো বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা। শুরু হয় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা। এ দিনে গণতন্ত্রের দুশমনরা পরাজিত হলেও আজো তারা চুপ করে বসে নেই। তাই সেই নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলনের অটল ও আপসহীন নেত্রী বেগম জিয়াকে পরাজিত শত্রুরা চক্রান্তমূলকভাবে অন্তরীণ করে রেখেছে। দেশনেত্রী এখন গুরুতর অসুস্থ। আমাদের চলমান সংগ্রামের এখন মূল লক্ষ্য গণতন্ত্র এবং দেশনেত্রীর মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার জন্য আন্দোলনকে বেগবান করা। ’৯০-এর গণ-অভ্যুথানের চেতনায় গণতন্ত্রের দুশমনদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয় অর্জন করা। বারবার গণদুশমনরা গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করে আমাদের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে; কিন্তু এ দেশের দেশপ্রেমিক জনগণ সে অপচেষ্টাকে শক্ত হাতে প্রতিহত করেছে সব সময়। আমাদের গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে তার অগ্রযাত্রায়। কিন্তু এ দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ সব বাধাকে অতিক্রম করে গণতন্ত্রের পথচলাকে নির্বিঘ্ন করেছে। শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র এখনো শৃঙ্খলমুক্ত নয়। নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী একদলীয় শাসনের শৃঙ্খলে বন্দী করে মানুষের নাগরিক স্বাধীনতাকে করা হয়েছে বিপন্ন। আমাদের নাগরিক স্বাধীনতা আজো নামে-বেনামে একদলীয় ফ্যাসিবাদের আক্রমণে আক্রান্ত। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী ও নিরঙ্কুশ করার জন্য আজ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। ’৯০-এর আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদের সে আয়োজন নস্যাৎ করে দিতে হবে।

জামায়াত : ‘৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর দেশের ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে স্বৈরশাসনের পতন হয়। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্য পোষণ করে। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়। ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন সারা বিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। জনগণের আন্দোলনের ফলে ১৯৯৬ সালে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে সন্নিবেশিত হয়। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। দেশে গণতন্ত্রের একটি পরিবেশ তৈরি হয়। ২০১১ সালে বর্তমান ক্ষমতাসীন কর্তৃত্ববাদী সরকার দলীয় স্বার্থে নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার উদ্দেশ্যে আদালতের দোহাই দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। অথচ দেশের সর্বাচ্চ আদালতে প্রায় সব এমিকাস কিউরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে তাদের অভিমত তুলে ধরেন। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির প্রায় সব সদস্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। সবার মতামত অগ্রাহ্য করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। ফলে দেশে একদলীয় স্বৈরশাসনের সূচনা হয়। জনগণের ভেটাধিকার হরণ ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। মানুষ এখন নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসঙ্কেত। দেশ কার্যত আবার ’৯০ পূর্ববর্তী পরিবেশে ফিরে গেছে। এমনকি পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়াবহ। দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ভোটাধিকার ও মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।